টাস্কফোর্স সভায় ডিসি-এডিসিরা

নদী দখল নিয়ে চলছে ‘টম অ্যান্ড জেরি’ খেলা

গাজীপুর ও নরসিংদীতে শিল্পকারখানা স্থাপনে অনুমতি দেয়া হবে না * আরও সাড়ে ১০ হাজার সীমানা পিলার স্থাপন করা হবে

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার চার পাশের নদী তীর দখল মুক্ত করার পরপরই তা আবার দখল হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন বারবার অভিযান চালিয়ে নদী দখল মুক্ত করলেও দখলদার ও শিল্পমালিকরা তা আবার দখল করে নিচ্ছেন। দূষণ বন্ধে নদী তীরের শিল্প কারখানাগুলো ইটিপি ব্যবহার করে না। অভিযানের খবরে কিছু সময় ইটিপি চালালেও পরে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রশাসনের অভিযান ও দখলদারদের এমন আচরণকে ‘টম অ্যান্ড জেরি’ খেলা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকার আশপাশের ডিসি ও এডিসিরা। বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তারা এ মন্তব্য করেন। সভার পর নৌমন্ত্রী শাজাহান খান নদী দখলদার ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে ‘চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীসহ ঢাকার চারপাশে নদীগুলোর দূষণরোধ এবং নাব্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত টাস্কফোর্স’-এর ৩৮তম সভায় সভাপতিত্ব করেন টাস্কফোর্সের সভাপতি নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে টাস্কফোর্সের শেষ সভায় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহাদৎ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদফতর ও বিভাগের কর্মকর্তারা এবং জেলা প্রশাসকরা অংশ নেন।

নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, গাজীপুর মহানগর ও নরসিংদীতে নতুন করে আর শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমতি দেয়া হবে না। অর্থনৈতিক জোনে এগুলো গড়তে হবে। তিনি বলেন, দেশের আটটি মহানগর এলাকায় নতুন শিল্পকারখানা অনুমোদন বন্ধের সিদ্ধান্ত আগেই আছে। এর সঙ্গে যুক্ত হল গাজীপুর মহানগর ও নরসিংদী। এসব এলাকায় আগে গড়ে উঠা শিল্পকারখানা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন অর্থনৈতিক জোনে সরিয়ে নেয়া হবে। তিনি বলেন, স্লোব করে নদী তীর বা খালপাড় বাঁধানো যাবে না। খাড়া (সোজাসুজি) করে তীর বাঁধানো হবে যাতে সেগুলো দখল হতে না পারে। প্রয়োজনে ওয়াকওয়ের সঙ্গে ড্রাইভওয়ে নির্মাণ করতে হবে। নদীর সীমানা জটিলতা নিরসনে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে কমিটি করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৩ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, দুই সময়ে মালিকরা ইটিপি চালান। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় ও বিদেশি ক্রেতা এলে ইটিপি চালানো হয়। তিনি বলেন, এ কারণে তুরাগ নদের পানি দূষণ হচ্ছে ও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

সভায় নদী দখলদার উচ্ছেদ ও দূষণ বন্ধে প্রভাবশালীদের চাপ ও নানা সীমাবদ্ধতার কথা উঠে আসে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, নদী দখলদারদের উচ্ছেদ করতে গেলে প্রভাবশালীদের বাধা আসে। তাদের নামে মামলা করে হেনস্তা করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিকারও দাবি করেন তারা। সাভারে স্থানান্তর হওয়া ট্যানারির সেন্ট্রাল ইটিপি সঠিকভাবে কাজ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক জানান, সিমেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো ধলেশ্বরী নদী দখল ও দূষণ করছে। বেশ কয়েকটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরির নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ফ্যাক্টরি নদীর ভেতরে স্থাপনা নির্মাণ করছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা নদী দখল ও দূষণ করছে। এর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে নদী দখল মুক্ত করা হলেও আবার দখল হয়ে যাচ্ছে। এ যেন ‘টম অ্যান্ড জেরি’ খেলা চলছে। সিমেন্ট ফ্যাক্টরির মালিকদের সঙ্গে তিনি পৃথক সভা করার মত দেন।

ঢাকার জেলা প্রশাসক বলেন, নদীর তীর নির্ধারণের সংজ্ঞায় ঝামেলা আছে। সিএসের সঙ্গে নদীর মিল আছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিবর্তনের কারণে কিছু খাল নেই এটাই স্বাভাবিক। তবে কোন খাল থাকবে আর কোনটা থাকবে না তা নির্ধারণ করা দরকার।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, দখলদারদের পেছনে অনেক শক্তি থাকে। উচ্ছেদ করতে গেলে চাপের মুখে পড়তে হয়। কর্মকর্তাদের নামে মামলা হয়, হেনস্তার শিকার হতে হয়। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, শিল্পকারখানাগুলো ইটিপি চালায় না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় ইটিপি চালানোর পর তা আবার বন্ধ করে দেয়া হয়। সভায় জানানো হয়, ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং উচ্ছেদ করা জায়গা যাতে পুনরায় দখল না হয় সেজন্য নদীর উভয় পাশে ২২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ৫ অক্টোবর আশুলিয়াতে ৫০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। বাকি ১৫০ কিলোমিটার ‘ওয়াকওয়ে’ নির্মাণ কাজের প্রকল্প গ্রহণের সমীক্ষা করা হচ্ছে। নদী তীরের সীমানা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ৯ হাজার ৫৭৭টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৫৬টি পিলার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিতর্কিত ১ হাজার ৭৫১টি পিলারের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আগামী ২ মাসের মধ্যে বিতর্কিত ২ হাজার ১০৫টি পিলারের নিষ্পত্তি করা হবে। নতুন করে ১০ হাজার ৪০০ সীমানা পিলার স্থাপন করা হবে।

নতুন সীমানা পিলারগুলো বড় ও দৃশ্যমান করে নির্মাণ করা হবে। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ নতুন করে ১৯টি আরসিসি জেটি নির্মাণ করবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×