সিন্ডিকেটে অচল ঢাকা ডেন্টাল কলেজ

দু’সপ্তাহ ক্লাস বন্ধ, শিক্ষকদের হুমকি * কলেজে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না নবনিযুক্ত অধ্যক্ষকে

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা ডেন্টাল কলেজ

দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সরকারি ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা ডেন্টাল কলেজ। রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিগত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ক্লাস বন্ধ রয়েছে।

এক সপ্তাহ আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে কলেজটিতে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হলেও তাকে কলেজে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এ অচলাবস্থার সঙ্গে সরকারি দলের একজন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও তার সিন্ডিকেট জড়িত বলে জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ডে উদযাপন করেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্যকে সে অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ না জানানোয় তিনি অসন্তুষ্ট হন। এ নিয়ে কলেজ প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

ঠিক তার একদিন পরে অর্থাৎ ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা ডেন্টাল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ (চ. দ.) ডা. আবুল কালাম বেপারীকে ওএসডি করে স্বাস্থ্য অধিদফতরে ন্যস্ত করা হয়। সেদিন থেকেই কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেন সরকারি দলের স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতা। যিনি একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদস্থ নেতাও বটে।

এর ৯ দিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর ডেন্টাল কলেজে নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবিরকে পদায়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে তাকে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদান করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট ও কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যাপক হুমায়ুন কবির ২৬ তারিখ সকালে ডেন্টাল কলেজে যোগদান করতে গেলে তাকে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। এমনকি অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দিয়ে রাখা হয়। আর অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে গুটিকয়েক চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীকে জোর করে বসিয়ে রাখা হয়, যাতে সেদিকে কেউ যেতে না পারে।

এ অবস্থায় অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবির নিজ কার্যালয়ে না বসেই কলেজের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশের নির্দেশনা অনুসারে কলেজে ক্লাস শুরু করেন কয়েকজন শিক্ষক। তবে ক্লাস থেকে ওই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়া হয়।

ঢাকা ডেন্টাল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন নেতা স্থানীয়ভাবে ঢাকা ডেন্টাল কলেজে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তিনি যা চান এখানে তাই হয়। তার মতের বিরুদ্ধে কিছু হলেই তিনি তাণ্ডব শুরু করেন।

যে অধ্যক্ষকে এখান থেকে বদলি করা হয়েছে তিনিও ওই সিন্ডিকেটের একজন সদস্য। এছাড়া কলেজের আরও কিছু শিক্ষক, চিকিৎসক, ইন্টার্ন এবং শিক্ষার্থী ওই সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করেন। ওই সিন্ডিকেট কলেজের কেনাকাটা, ঠিকাদারিসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

এরাই নতুন অধ্যক্ষকে কলেজে ঢুকতে দিচ্ছে না। অধ্যক্ষের নির্দেশে কিছু শিক্ষক ক্লাস শুরু করলেও এ সিন্ডেকেটের সদস্যরা ওই সব শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে ক্লাস থেকে বের করে দেয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্লাসে না যেতে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

তারা নবনিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি নবনিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।

সামগ্রিক বিষয়ে কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বরের সরকারি আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ সেপ্টেম্বর আমি এখানে যোগদান করতে আসি। কিন্তু তখনই বিড়ম্বনায় পড়ি।

আমাকে অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকতে বাধা দেয়া হচ্ছে। এমনকি কলেজে ঢুকতেও বাধা দেয়া হচ্ছে। আমি কয়েক দিন ধরে হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষে বসে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমি ডেন্টাল সোসাইটির বর্তমান সেক্রেটারি এবং স্বাচিপ নেতা।

তারপরও তারা সরকারি আদেশ উপেক্ষা করে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে। তারা কেন এটা করছে তা আমি জানি না। তিনি বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যে তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছেন। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×