মাটিরাঙ্গায় ড্রাম চিমনির ভাটায় পুড়ছে কাঠ

  খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় পরিবেশ বিপর্যয় ঘটিয়ে প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ ইটভাটা। বনের কাঠ, কৃষির জমির মাটি ব্যবহার করা ছাড়াও গুরুতর আইন লংঘন করছে ইটভাটা মালিকরা। স্থানীয় প্রভাবশালীরা ২০১৩ সাল সরকার কতৃক প্রণীত ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন ভাঙলেও মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। ইটভাটায় টিনের চিমনি ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ থাকলেও তা কেউ মানছে না। এসব ইটভাটায় টিনের ড্রাম দিয়ে চিমনি বানানো হয়েছে। টিনের ড্রামের চুল্লি ব্যবহার বন্ধসহ ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নীতিমালা কার্যকর করার কথা থাকলেও প্রশাসন সেই পথে হাঁটছে না। প্রশাসন যেন মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। নাকের ডগায় ইটভাটা নীতি লংঘন করলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মাটিরাঙ্গার দশ নাম্বার, বটতলী এবং ধলিয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় কৃষি জমি ও টিলা দখল করে চলছে ইটভাটার কাজ। চারপাশে সৃজন করা বন থাকায় ইট ভাটার কারণে তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ বনের কাঠ ও কৃষি জমি উপরিভাগ (টপ সয়েল) থেকে মাটি যাচ্ছে এসব ইটভাটায়। ইটভাটার তত্ত্বাবধায়ক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পাশের জমি থেকে মাটি আনছি। কাঠ আনার জন্য আলাদা লোক আছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা কাঠ এনে দেয়। তবে কোথায় থেকে কাঠ আনে সেই বিষয়ে কিছু জানাননি।

তিনি আরও বলেন, অনেকে ইটের ভাটায় টিনের চুল্লি ব্যবহার করে তাই আমরাও ব্যবহার করছি।

ইটভাটার কয়েকজন শ্রমিক জানান, ‘দিন রাত এখানে কাজ চলে। বিভিন্ন রকমের মূল্যবান কাঠও পোড়ানো হয়। তবে ইটভাটা কয়লা ব্যবহারের কথা থাকলেও তা ভুলতে বসেছে ইটভাটার মালিকরা।

খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনে সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী বলেন ‘ইটভাটা মালিকরা অতি মুনাফার লোভে ইটভাটার আধুনিক চুল্লির পরিবর্তে নিন্মমানের ড্রামের চিমনি ব্যবহার করে। এতে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। আবাসিক ও সৃজন করা বনায়নের পাশের ইটভাটা স্থাপন করার কারণে প্রাণ ও প্রকৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রচলিত আইনকে তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন প্রশাসনের চোখের সামনে ইটভাটা চললেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় পরোক্ষভাবে প্রশাসন ইটভাটা মালিকদের সহযোগিতা করছে।মাটিরাঙার উপজেলার প্রশাসনে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী খাগড়াছড়ি সদর ইউএনও আইন অমান্যকারী অবৈধ ইটভাটা মালিকদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter