১০ দলের সাতকাহন

চার বছর পর আবার এলো বিশ্বকাপ। তিন কাঠির খেলায় বুঁদ হওয়ার সময় এখন। ক্রিকেটের আঁতুড়ঘর ইংল্যান্ডে দ্বাদশ আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসর বসবে ৩০ মে। মহাযজ্ঞ শুরুর আগে ইংরেজি বর্ণমালার ক্রম অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী ১০ দলের শক্তি, দুর্বলতা ও বিশ্বকাপ রেকর্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেছেন -

  ইশতিয়াক সজীব ২৮ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অস্ট্রেলিয়া

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সফলতম দল অস্ট্রেলিয়া। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শেষ পাঁচ আসরের চারটিতেই হেসেছে শিরোপার হাসি। এবার হট ফেভারিট না হলেও শিরোপার অন্যতম দাবিদার অস্ট্রেলিয়া। ২০১৮ সালটা দুঃস্বপ্নের মতো কাটলেও বিশ্বকাপের আগে ঠিকই নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা আট ওয়ানডে জিতে বুঝিয়ে দিয়েছে বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখতে তারা প্রস্তুত। বল টেম্পারিং-কাণ্ডে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার দলে ফেরায় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং গভীরতা আরও বেড়েছে। ১ জুন ব্রিস্টলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের অভিযান।

বিশ্বকাপ রেকর্ড

১৯৭৫ : রানার্সআপ, ১৯৭৯ : গ্রুপপর্ব, ১৯৮৩ : গ্রুপপর্ব, ১৯৮৭ : চ্যাম্পিয়ন, ১৯৯২ : গ্রুপপর্ব, ১৯৯৬ : রানার্সআপ, ১৯৯৯ : চ্যাম্পিয়ন, ২০০৩ : চ্যাম্পিয়ন, ২০০৭ : চ্যাম্পিয়ন, ২০১১ : কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৫ : চ্যাম্পিয়ন।

শক্তি

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ দীর্ঘ ও গভীর। টপঅর্ডারে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের সঙ্গে আছেন ওয়ার্নার ও উসমান খাজা। মিডলঅর্ডারে স্মিথ, ম্যাক্সওয়েল, শন মার্শ ও স্টয়নিস। প্রতিপক্ষের বোলারদের বুকে কাঁপন ধরাতে এই নামগুলোই যথেষ্ট।

দুর্বলতা

বোলিং আক্রমণের নেতা মিচেল স্টার্ক মাত্রই চোট কাটিয়ে ফিরেছেন। ফলে গত বিশ্বকাপের মতো কার্যকর না-ও হতে পারেন তিনি। এছাড়া উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারি ঠিক বিশ্বমানের নন।

এক্স-ফ্যাক্টর

ডেভিড ওয়ার্নার। প্রায় ১৪ মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকলেও আইপিএলে মারকাটারি ব্যাটিংয়ে ওয়ার্নার দেখিয়ে দিয়েছেন নিষেধাজ্ঞায় মরচে পড়েনি তার ব্যাটে। গত বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তার ১৭৮ রানের ইনিংসটা বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। এবারও অস্ট্রেলিয়ার তুরুপের তাস হতে পারেন ওয়ার্নার।

আফগানিস্তান

ওয়ানডে বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের অভিষেক গত আসরে। ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে হেরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেয়ার পর গত চার বছরে নিজেদের সমীহ জাগানো দলে পরিণত করেছে আফগানরা। গত বছর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে হারিয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে টাই করেছে। সবমিলিয়ে গত দেড় বছরে ২৭ ওয়ানডের ১৫টিতে জেতা আফগানিস্তানের লক্ষ্য এবার সেমিফাইনাল। তবে দলে প্রতিভার কমতি না থাকলেও ইংলিশ কন্ডিশনে সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিশ্বকাপের ঠিক আগে দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্তটা আফগানদের জন্য বুমেরাং হতে পারে।

বিশ্বকাপ রেকর্ড

২০১৫ : গ্রুপপর্ব

শক্তি

তর্কসাপেক্ষে বিশ্বের সেরা স্পিন আক্রমণ এখন আফগানিস্তানের। ঘূর্ণি বলের নতুন জাদুকর রশিদ খানের সঙ্গে আছেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবী ও তরুণ তুর্কি মুজিব-উর-রেহমান। দুই ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদ ও হজরতউল্লাহ জাজাইয়ের খুনে ব্যাটিংও দলের বড় শক্তি।

দুর্বলতা

বড় দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা না থাকায় ভুগতে হতে পারে তাদের। ইংল্যান্ডের মাটিতে এখনও কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি আফগানিস্তান। ইংলিশ কন্ডিশনে তাদের স্পিনের কার্যকারিতা নিয়েও আছে সংশয়।

এক্স-ফ্যাক্টর

রশিদ খান। বিশ্বজুড়ে ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক টি ২০ লিগে খেলার সুবাদে যে কোনো কন্ডিশন ও উইকেটেই ঘূর্ণির ভেলকি দেখাতে পারেন বিশ্বসেরা এই স্পিনার। লোয়ারঅর্ডারে ব্যাট হাতেও ঝড় তোলার সামর্থ্য আছে রশিদের।

বাংলাদেশ

অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল নিয়ে এবার বিশ্বকাপে নামছে বাংলাদেশ। গত আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। এবার সেটি ছাপিয়ে সেমিফাইনালে চোখ টাইগারদের। রাউন্ড রবিন ফরম্যাটের কারণে কাজটা কঠিন হলেও বাংলাদেশের জন্য সেমিফাইনাল এখন অবাস্তব কোনো লক্ষ্য নয়। গত দেড় বছরে ওয়ানডের তৃতীয় সফল দল বাংলাদেশ। পঞ্চপাণ্ডব- মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিকুর ও মাহমুদউল্লাহর একসঙ্গে এটাই শেষ বিশ্বকাপ। পাঁচ সিনিয়রের পাশাপাশি সৌম্য, মোসাদ্দেক, লিটন, মিরাজের মতো তরুণরাও দায়িত্ব নিতে শিখেছেন। দলের এমন গভীরতা বিশ্বকাপে বড় কিছুর স্বপ্নই দেখাচ্ছে অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজাকে।

বিশ্বকাপ রেকর্ড

১৯৯৯ : গ্রুপপর্ব, ২০০৩ : গ্রুপপর্ব, ২০০৭ : সুপার এইট, ২০১১ : গ্রুপপর্ব, ২০১৫ : কোয়ার্টার ফাইনাল।

শক্তি

দীর্ঘ ব্যাটিং লাইনআপ ও মাশরাফির অনুপ্রেরণাদায়ী নেতৃত্ব। গত চার বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেট যে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে তাতে বড় ভূমিকা মাশরাফির নেতৃত্বের। এই বিশ্বকাপ দিয়েই সম্ভবত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন মাশরাফি। তার শেষটা রাঙাতে উদগ্রীব গোটা দল। ব্যাটিংও দেখাচ্ছে আশার আলো। সম্প্রতি ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের পথে টানা চার ম্যাচে রান তাড়া করে জিতেছে বাংলাদেশ। টপ ও মিডলঅর্ডারের প্রায় সবাই রানের মধ্যে আছেন।

দুর্বলতা

ইংলিশ কন্ডিশনে সত্যিকারের গতির ঝড় তোলার মতো কোনো এক্সপ্রেস বোলার নেই দলে। নেই কোনো লেগ-স্পিনার। এছাড়া বড় টুর্নামেন্টে চাপের মুখে ভেঙে পড়ার প্রবণতা আছে বাংলাদেশের।

এক্স-ফ্যাক্টর

সাকিব আল হাসান। মোস্তাফিজুর রহমানের উত্থানের পরও ভরসার জায়গা এখনও সেই সাকিব। কেন তা একটি তথ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৩ উইকেটের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫৪০ রানও সাকিবের। এমন কীর্তি বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয়টি নেই।

ইংল্যান্ড

ক্রিকেটের জনকদের জন্য বিশ্বকাপ এক চির আক্ষেপের নাম। তিনবার ফাইনালে উঠে তিনবারই রানার্সআপ। ১৯৯২ বিশ্বকাপের পর আর সেমিফাইনালেই উঠতে পারেনি ইংল্যান্ড। গত আসরে বিদায় নিতে হয়েছিল গ্রুপপর্ব থেকে। তবে সেই ধাক্কাটাই বদলে দিয়েছে ইংল্যান্ডকে। গত চার বছরে ওয়ানডের সবচেয়ে ভয়ংকর দল হয়ে উঠেছে তারা। অবস্থা এমন যে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫০০ রানও নিরাপদ নয়। ঘরের মাঠে এবার শিরোপার বড় দাবিদার হিসেবেই বিশ্বকাপ শুরু করবে ইয়ন মরগ্যানের দল। প্রায় সবাই এবার হট ফেভারিট বলছে ইংল্যান্ডকে। চেনা কন্ডিশনে তারকায় ঠাসা দল নিয়ে প্রত্যাশার চাপ সামাল দিতে পারলে আরাধ্য শিরোপা হয়তো এবারই ধরা দেবে তাদের হাতে।

বিশ্বকাপ রেকর্ড

১৯৭৫ : সেমিফাইনাল, ১৯৭৯ : রানার্সআপ, ১৯৮৩ : সেমিফাইনাল, ১৯৮৭ : রানার্সআপ, ১৯৯২ : রানার্সআপ, ১৯৯৬ : কেয়ার্টার ফাইনাল, ১৯৯৯ : গ্রুপপর্ব, ২০০৩ : গ্রুপপর্ব, ২০০৭ : সুপার এইট, ২০১১ : কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৫ : গ্রুপপর্ব।

শক্তি

বিস্ফোরক ব্যাটিং লাইনআপ। জস বাটলার, জনি বেয়ারস্টো, জেসন রয়, ইয়ন মরগ্যান, জো রুট- নিজেদের দিনে এরা সবাই টর্নেডো ব্যাটিংয়ে যে কোনো প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিতে পারেন। ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণও যথেষ্ট ধারালো। বেন স্টোকস, মইন আলী, জফরা আর্চার, টম কারেন ও লিয়াম ডসনের মতো একঝাঁক অলরাউন্ডার আরও অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে ইংল্যান্ডকে।

দুর্বলতা

কাগজে-কলমে ইংল্যান্ডের এই দলটির বড় কোনো দুর্বলতা নেই। তবে ইতিহাস বলছে চাপের মুখে ভেঙে পড়ার প্রবণতা আছে ইংল্যান্ডের। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও সেটা দেখা গেছে। ফেভারিট হওয়ার চাপ সামাল দেয়াটাই হবে ইংল্যান্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এক্স-ফ্যাক্টর

জস বাটলার। সতীর্থ জফরা আর্চারের চোখে যিনি ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটসম্যান। আর প্রতিপক্ষের বোলারদের চোখে মূর্তিমান আতঙ্ক! যে কোনো পরিস্থিতিতে একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন বাটলার। ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের দ্রুততম ১০ সেঞ্চুরির পাঁচটিই তার।

ভারত

ইংল্যান্ডের মাটিতে ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জিতে সবাইকে চমকে দিয়েছিল কপিল দেবের ভারত। সেই ইংল্যান্ডেই এবার নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নামছে বিরাট কোহলির ভারত। পার্থক্য হল, ভারত এবার চ্যাম্পিয়ন হলে কেউ অবাক হবে না। গায়ে ফেভারিটের তকমা থাকার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল ভারত। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে ২০১১ বিশ্বকাপ জেতা কোহলি এবার অধিনায়ক হিসেবে ধোনিকে বিদায়ী উপহার দিতে চাইবেন। ৫ জুন সাউদাম্পটনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান।

বিশ্বকাপ রেকর্ড

১৯৭৫ : গ্রুপপর্ব, ১৯৭৯ : গ্রুপপর্ব, ১৯৮৩ : চ্যাম্পিয়ন, ১৯৮৭ : সেমিফাইনাল, ১৯৯২ : গ্রুপপর্ব, ১৯৯৬ সেমিফাইনাল, ১৯৯৯ : সুপার সিক্স ২০০৩ : রানার্সআপ, ২০০৭ : গ্রুপপর্ব, ২০১১ : চ্যাম্পিয়ন, ২০১৫ : সেমিফাইনাল।

শক্তি

বরাবরের মতো এবারও ভারতের বড় শক্তি তাদের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনআপ। সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির মতোই প্রতিপক্ষের দুঃস্বপ্নের কারণ হতে পারেন রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। জাসপ্রিত বুমরাহর নেতৃত্বে ভারতের পেস আক্রমণও দুর্দান্ত।

দুর্বলতা

ব্যাটিংয়ে চার নম্বর পজিশনে কেউই থিতু হতে পারছেন না। এছাড়া কোহলির ওপর অতিনির্ভরতা ভারতের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।

এক্স-ফ্যাক্টর

কোহলি দলের বড় ভরসা হলেও ইংলিশ কন্ডিশনে ভারতের জন্য এক্স-ফ্রাক্টর হতে পারেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া। ব্যাটে-বলে সমান কার্যকর তিনি। হার্দিকের মাঝে অনেকেই কপিলের ছায়া খুঁজে পান।

নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডকে একসময় বলা হতো সেমিফাইনালের দল। কারণ প্রথম ১০টি বিশ্বকাপের ছয়টিতে সেমিফাইনালে খেলে একবারও ফাইনালে যেতে পারেনি তারা। ২০১৫ বিশ্বকাপে ঘুচেছে সেই আক্ষেপ। সেমির গেরো খুলে প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলেছে কিউইরা। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে হারলেও নিউজিল্যান্ডের ভয়ডরহীন ক্রিকেট সবার মন জিতে নিয়েছিল। এবার নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে তেমন মাতামাতি না থাকলেও নিজেদের বেশ ভালোভাবে গুছিয়েই ইংল্যান্ডে এসেছে কেন উইলিয়ামসনের দল। বাজির দরে তারা পিছিয়ে থাকলেও বড় কিছুর স্বপ্নই দেখছেন কোচ গ্যারি স্টিড, ‘নিজেদের সামর্থ্যরে কাছাকাছিও যদি খেলতে পারি, আশা করি নিউজিল্যান্ডকে আমরা গর্বিত করতে পারব।’

বিশ্বকাপ রেকর্ড

১৯৭৫ : সেমিফাইনাল, ১৯৭৯ : সেমিফাইনাল, ১৯৮৩ : গ্রুপপর্ব, ১৯৮৭ : গ্রুপপর্ব, ১৯৯২ : সেমিফাইনাল, ১৯৯৬ কোয়ার্টার ফাইনাল, ১৯৯৯ : সেমিফাইনাল, ২০০৩ : সুপার সিক্স, ২০০৭ : সেমিফাইনাল, ২০১১ : সেমিফাইনাল, ২০১৫ : রানার্সআপ।

শক্তি

দুর্দান্ত পেস আক্রমণ। ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি, লকি ফার্গুসন ও ম্যাট হেনরির সঙ্গে আছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও জিমি নিশাম। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপও যথেষ্ট শক্তিশালী। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের পাশাপাশি রস টেলর ও মার্টিন গাপটিলের মতো কয়েকজন বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান আছে তাদের।

দুর্বলতা

গত বিশ্বকাপের মতো এবার ঠিক ফর্মের তুঙ্গে নেই নিউজিল্যান্ড। চোটের কারণে বিশ্বকাপের শুরুতে উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান টম লাথামের খেলা নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা।

এক্স-ফ্যাক্টর

রস টেলর। নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। বয়সের সঙ্গে যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তার ব্যাটের ধার। গত দুই বছর তার ব্যাটিং গড় প্রায় ৭৫। এই ফর্ম ধরে রাখতে পারলে টেলরই হবেন দলের বড় ভরসা।

পাকিস্তান

পরিসংখ্যান বলছে, এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের প্রস্তুতিটাই সবচেয়ে বাজে হয়েছে। টানা ১১টি ওয়ানডে হেরে বিশ্বকাপে নামছে তারা। তারপরও ফেভারিটের তালিকায় পাকিস্তানের নাম থাকাটাকে বিস্ময়কর বলা যাবে না। কারণ চিরকালের অননুমেয় দল তারা। বিরুদ্ধ পরিবেশে ঝলসে ওঠার জন্য আদর্শ প্রস্তুতি লাগে না তাদের। ২৭ বছর আগে রূপকথা লিখেই বিশ্বকাপ জিতেছিল ইমরান খানের পাকিস্তান। এবারের বিশ্বকাপও হচ্ছে সেই ফরম্যাটে। এছাড়া দু’বছর আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের সুখস্মৃতি আছে পাকিস্তানের। ৩১ মে ট্রেন্টব্রিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।

বিশ্বকাপ রেকর্ড

১৯৭৫ : গ্রুপপর্ব, ১৯৭৯ : সেমিফাইনাল, ১৯৮৩ : সেমিফাইনাল, ১৯৮৭ : সেমিফাইনাল, ১৯৯২ : চ্যাম্পিয়ন, ১৯৯৬ : কোয়ার্টার ফাইনাল, ১৯৯৯ : রানার্সআপ, ২০০৩ : গ্রুপপর্ব, ২০০৭ : গ্রুপপর্ব, ২০১১ : সেমিফাইনাল, ২০১৫ : কোয়ার্টার ফাইনাল।

শক্তি

বিস্ময়করভাবে পাকিস্তানের শক্তির জায়গা এবার তাদের ব্যাটিং বিভাগ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজেই সেটা দেখা গেছে। দারুণ ফর্মে আছেন টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান ফখর জামান, ইমাম-উল-হক ও বাবর আজম। মিডলঅর্ডারে দুই অভিজ্ঞ মোহাম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিকের সঙ্গে আছেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ, আসিফ আলী ও হারিস সোহেল। ভালো করার সামর্থ্য আছে সবারই।

দুর্বলতা

বাজে ফিল্ডিং ও নড়বড়ে বোলিং। পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণে প্রতিভা ও বৈচিত্র্যের কমতি না থাকলেও ধারবাহিকতার অভাব প্রকট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ চার ম্যাচেই দলকে ডুবিয়েছে বাজে বোলিং। বাধ্য হয়েই তাই বিশ্বকাপ দলে তিনটি পরিবর্তন আনতে হয়েছে পাকিস্তানকে।

এক্স-ফ্যাক্টর

বাজে ফর্মের কারণে প্রাথমিক দলে না থাকা মোহাম্মদ আমির বেশ নাটকীয়ভাবেই চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। শেষ ১০ ওয়ানডেতে যার প্রাপ্তি সাকুল্যে দুই উইকেট। কিন্তু প্রতিভা ও অভিজ্ঞতা মিলিয়ে ইংলিশ কন্ডিশনে এই বাঁ-হাতি পেসারই হতে পারেন অধিনায়কের তুরুপের তাস। দু’বছর আগে ইংল্যান্ডের মাটিতেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে আমিরের রুদ্ররূপ দেখেছিল ভারত।

শ্রীলংকা

এবারের আসরের ১০টি দলের মধ্যে বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে বাজে অবস্থা শ্রীলংকার। গত দেড় বছরে (১৯ মে পর্যন্ত) ২৬টি ওয়ানডে খেলে মাত্র ছয়টিতে জিতেছে লংকানরা। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনে, দিলশানরা অবসর নেয়ায় নতুন করে সব গুছিয়ে আনার কাজে নেমেছিল শ্রীলংকা। কিন্তু কিছুতেই ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে না পেরে বিস্ময়করভাবে উল্টোপথে হাঁটা শুরু করেছে তারা। বহু আগেই বাতিলের খাতায় ফেলে দেয়াদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে বিশ্বকাপ দলে। অধিনায়ক করা হয়েছে দিমুথ করুনারত্নেকে, যিনি গত বিশ্বকাপের পর প্রায় চার বছর ওয়ানডে দলের বাইরে ছিলেন। ভাঙাচোরা এই দল নিয়ে সেমিফাইনালে যেতে অলৌকিক কিছু করে দেখাতে হবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

বিশ্বকাপ রেকর্ড

১৯৭৫ : গ্রুপপর্ব, ১৯৭৯ : গ্রুপপর্ব, ১৯৮৩ : গ্রুপপর্ব, ১৯৮৭ : গ্রুপপর্ব, ১৯৯২ : গ্রুপপর্ব, ১৯৯৬ চ্যাম্পিয়ন, ১৯৯৯ : গ্রুপপর্ব ২০০৩ : সেমিফাইনাল, ২০০৭ : রানার্সআপ, ২০১১ : রানার্সআপ ২০১৫ : কোয়ার্টার ফাইনাল।

শক্তি

প্রত্যাশার কোনো চাপ না থাকাই কার্যত ভগ্নপ্রায় দলটির বড় শক্তি। লাসিথ মালিঙ্গা, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস, থিসারা পেরেরা, সুরঙ্গা লাকমালদের অভিজ্ঞতা ভরাডুবি এড়াতে বড় প্রভাবক হতে পারে।

দুর্বলতা

সত্যিকার অর্থে শ্রীলংকার এই দলে বিশ্বমানের কোনো ব্যাটসম্যান নেই। অধিনায়ক করুনারত্নে নিজেই ওয়ানডেতে বেমানান। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলংকার ফিল্ডিংয়ের মানও পড়ে গেছে।

এক্স-ফ্যাক্টর

নেতৃত্ব হারালেও বুড়ো মালিঙ্গাই দলের বড় ভরসা। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপটা রাঙাতে উন্মুখ এই অভিজ্ঞ পেসার। চোটের কারণে গতি হারালেও মালিঙ্গার গোটা কয়েক ইয়র্কারেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকা

কোচ ওটিস গিবসন জানিয়েছেন, অতীত সঙ্গে নিয়ে এবার বিশ্বকাপে যাবে না দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু চাইলেই কী অতীত মুছে ফেলা যায়? প্রায় সব বিশ্বকাপেই ফেভারিট দলগুলোর অন্যতম মনে করা হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। শুরুটাও হয় দুর্দান্ত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পথ হারানোই যেন তাদের নিয়তি। চারবার সেমিফাইনালে উঠেও কখনও ফাইনালে খেলতে পারেনি প্রোটিয়ারা। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিশব্দই হয়ে গেছে তাই ‘চোকার’। এবার সেভাবে আলোচনায় না থাকায় প্রত্যাশার চাপ কিছুটা কম তাদের ওপর। আগেই শিরোপার অঙ্ক না কষে অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি চান ব্যর্থতার ভয় জয় করে মানসিক বাধার দেয়াল গুঁড়িয়ে দিতে। ৩০ মে ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপ শুরু করবে দক্ষিণ আফ্রিকা।

বিশ্বকাপ রেকর্ড

১৯৯২ : সেমিফাইনাল, ১৯৯৬ : কোয়ার্টার ফাইনাল, ১৯৯৯ : সেমিফাইনাল, ২০০৩ : গ্রুপপর্ব, ২০০৭ : সেমিফাইনাল, ২০১১ : কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৫ : সেমিফাইনাল।

শক্তি

এবারের বিশ্বকাপে সব দল মিলিয়েই অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণ দক্ষিণ আফ্রিকার। পেস আক্রমণে কাগিসো রাবাদা ও ডেল স্টেইনের সঙ্গে আছেন আন্দিলে ফেলুকওয়ায়ো, লুঙ্গি এনগিডি, ক্রিস মরিস ও ডুয়ানে প্রিটোরিয়াসের মতো দারুণ সব বিকল্প। অভিজ্ঞ স্পিনার ইমরান তাহিরও ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন।

দুর্বলতা

দলের আটজনের এটাই প্রথম বিশ্বকাপ। এবি ডি ভিলিয়ার্সের অবসরে তাদের ব্যাটিং আর আগের মতো জমাট নয়। আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা ফর্মে নেই। এছাড়া মন্থর উইকেটে স্পিনের বিপক্ষে প্রোটিয়াদের ব্যাটিং রেকর্ড সুবিধাজনক নয়।

এক্স-ফ্যাক্টর

রাবাদার মতো বিশ্বসেরা পেসার দলে থাকার পরও দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এক্স-ফ্যাক্টর হতে পারেন বুড়ো ইমরান তাহির। ৪০ ছাড়ানো এই লেগ-স্পিনার যে কোনো কন্ডিশন ও উইকেটেই সমান কার্যকর। এবারের আইপিএলে তাহিরই নিয়েছেন সর্বোচ্চ উইকেট। এবার রাঙাতে চান নিজের শেষ বিশ্বকাপ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

পাকিস্তানের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়েও কোনো অনুমান খাটে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলায় কোনো ধারাবাহিকতা না থাকলেও নিজেদের দিনে যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য তাদের আছে। প্রথম দুই আসরের চ্যাম্পিয়নদের এবার বিশ্বকাপে জায়গা পেতে বাছাইপর্বে খেলতে হয়েছে। বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনালসহ টানা তিন ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হেরেছে উইন্ডিজ। তারপরও আসরের কালো ঘোড়া তারা। যে দলে ক্রিস গেইল ও আন্দ্রে রাসেলের মতো খুনে ব্যাটিংয়ের দু’জন পুরোধা আছেন, তাদের বাতিলের খাতায় ফেলা কঠিন।

বিশ্বকাপ রেকর্ড

১৯৭৫ : চ্যাম্পিয়ন, ১৯৭৯ : চ্যাম্পিয়ন, ১৯৮৩ : রানার্সআপ, ১৯৮৭ : গ্রুপপর্ব, ১৯৯২ : গ্রুপপর্ব, ১৯৯৬ : সেমিফাইনাল, ১৯৯৯ : গ্রুপপর্ব, ২০০৩ : গ্রুপপর্ব, ২০০৭ : সুপার এইট, ২০১১ : কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৫ : কোয়ার্টার ফাইনাল।

শক্তি

অননুমেয় সব খেলোয়াড়ে ভরা দলটির একজন জ্বলে উঠলেই প্রতিপক্ষের বারোটা বেজে যেতে পারে। প্রায় সবারই ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সামর্থ্য আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণও এবার দারুণ সম্ভাবনাময়।

দুর্বলতা

উইন্ডিজের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা অধারাবাহিকতা। পরিস্থিতি বিবেচনা করে খেলার মতো ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটসম্যান খুব বেশি নেই দলটিতে। এছাড়া তাদের ফিল্ডিং খুব বাজে।

এক্স-ফ্যাক্টর

ক্রিস গেইল। এই বিশ্বকাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাওয়া গেইল নিজের শেষটা রাঙাতে উন্মুখ বিদায় মঞ্চে গেইল যদি কয়েকটি ম্যাচে জ্বলে ওঠেন, উইন্ডিজের পক্ষে বিশ্বকাপ জেতাও সম্ভব।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×