পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান

জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে কাজ করতে হবে

  হামিদ-উজ-জামান ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জিডিপি
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান

সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এবার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হয়েছেন। দায়িত্ব পেয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের। শপথ নেয়ার পর গত ৮ জানুয়ারি শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রথম অফিস করেছেন তিনি। ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করতেই বয়ে গেছে অনেকটা সময়। এরই মধ্যে গেছে ৪-৫ দিন।

এখনও সুনির্দিষ্টভাবে বসার স্থানসহ অনেক কিছুই ঠিক হয়নি। এরই মধ্যে কাজের ধরন নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। এর ফাঁকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় নিয়ে তার চ্যালেঞ্জ এবং প্রথম কাজ সম্পর্কে কথা বলেছেন যুগান্তরের সঙ্গে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন-

যুগান্তর : জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে কিছু বলেন। এমএ মান্নান : উন্নয়ন বাড়াতে হলে, প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে। এ জন্য লেকচার দিয়ে হবে না। প্রকৃতপক্ষে কাজ করতে হবে। পরিকল্পনা তৈরি করেই কাজে নামতে হবে। তাহলেই কাজকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। মানুষকে কাজের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। তারা কাজ করলেই সম্পদ সৃষ্টি হবে। সম্পদ সৃষ্টি হলেই জিডিপি বাড়বে।
দেশের উন্নয়ন হবে। মেশিন কোনো সম্পদ সৃষ্টি করতে পারে না। মেশিনে অন্তত একজন ক্লিকম্যান লাগে। মেশিন পরিচালনার জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন করতে হবে। এ জন্য শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিতে হবে। এটা করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে রাতারাতি হবে না, একটু সময় লাগবে। আশা করি, এর সুফল দেশের মানুষ পাবে।

যুগান্তর : পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে আপনার প্রধান তিনটি কাজ কী হবে?

এমএ মান্নান : প্রথম কাজ হবে এ মন্ত্রণালয় সম্পর্কে বোঝা, জানা এবং জ্ঞান অর্জন করা। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মাঝে মাঝে দেখেছি। পুরোটা দেখি নাই। এ জন্য অনেক কিছু অজানা থাকতে পারে। সে বিষয়গুলো জানব। দ্বিতীয় কাজ হবে দলের এবং প্রধানমন্ত্রীর যে রাজনৈতিক লক্ষ্য আছে, যেমন মানুষের উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা, দারিদ্র্য নিরসন, গ্রাম ও শহরের মধ্যেকার ব্যবধান কমিয়ে আনা ইত্যাদি বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব নির্দেশনা বা কাজ আসবে সেগুলো করব। তৃতীয়ত, আমাদের ঘরে ফিরে আসতে হবে। ঘর বলতে দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে। এসবের মাধ্যমে আমরা দেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যেতে চাই।

যুগান্তর : বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী হবে?

এমএ মান্নান : এটি আমার জন্য একটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ। আমার প্রচেষ্টা থাকবে এডিপি বাস্তবায়নের হারের চেয়ে গুণগত মান নিশ্চিত করা। আমি চেষ্টা করব যাতে গুণগত মানসম্পন্ন এডিপি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়। প্রত্যেক মঙ্গলবার একনেক হয়, নতুন নতুন প্রকল্প পাস হয়। প্রকল্পের ভাণ্ডার বাড়ছে, অর্থের ভাণ্ডার বাড়ছে। এই দুটি ধারা পাশাপাশি চলছে। এখন গুণগত মান বাড়াতে হবে। কালকে কি হবে আমি বলতে পারব না। তবে কাল কোন প্রকল্প কোথায় যাবে, কত টাকা প্রয়োজন হবে, তা আমাদের বাজেটেই রয়েছে। এটি একটি প্রক্রিয়া। এখন এই প্রক্রিয়াকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

যুগান্তর : মেগা প্রকল্পে গতি আনতে কি করবেন?

এম এ মান্নান : পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে চলমান মেগা প্রকল্পে (ফাস্টট্র্যাকভুক্ত) ফিড দেয়া। এসব প্রকল্প প্রচুর অক্সিজেন প্রয়োজন। সময়মতো সেই অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রাখা। অক্সিজেন অর্থ থেকে আসবে। সেটাকে চ্যানেল করে টাইমমতো সেটা সরবরাহের ব্যবস্থা করা। যারা আমাদের এখানে আছেন তারা সেটা করে। তাদের সঙ্গে মিলেই এ কাজটি করব। মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতির চেহারা বদলে যাবে। এসব প্রকল্পের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সার্বিকভাবে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

যুগান্তর : আরও কি ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করেন?

এমএ মান্নান : দেশে ঐতিহাসিকভাবে বহু অবিচার আছে। সামাজিক ভারসাম্যহীনতা আছে। সেগুলো দূর করতে নিজের মতো করে কাজ করব। রাজনৈতিকভাবে আমাদের যে অঙ্গীকার আছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য যথাযথভাবে কাজ করে যাব।

যুগান্তর : নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আপনার ভূমিকা কি হবে?

এমএ মান্নান : নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের কেন্দ্র থেকে যেসব নির্দেশনা আসবে আমি সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×