জমে উঠছে পর্যটনের অর্থনীতি

  যুগান্তর ডেস্ক ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পর্যটন

এবার মৌসুমের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশের পর্যটন স্পটগুলো প্রায় পর্যটকশূন্য ছিল। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় বাড়ছে কক্সবাজার, কুয়াকাটা, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলোতে। জমে উঠতে শুরু করেছে এ খাতসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে মার্চ পর্যন্ত এসব স্পটে পর্যটকদের আনাগোনা অনেক বাড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় হোটেল-মোটেল মালিকরা। প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন কক্সবাজার প্রতিনিধি শফিউদ্দিন শফি, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি সুশীল প্রসাদ চাকমা, বান্দরবান প্রতিনিধি আলাউদ্দিন শাহরিয়ার ও কুয়াকাটা প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন বিপ্লব।

কক্সবাজার : দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত অন্যতম। বছরজুড়েই এখানে পর্যটকদের ভিড় থাকে। এবার নির্বাচনের কারণে স্থানীয় হোটেল-রিসোর্টগুলো ভরা মৌসুমে ছাড় দিয়েও পর্যটক পায়নি। তবে নির্বাচনের পর পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। সুগন্ধা, কলাতলী, ইনানী বিচ, হিমছড়ি ঝরনা, মেরিন ড্রাইভে প্রতিদিনই নতুন পর্যটকরা আসছেন। এ কারণে স্থানীয় পর্যটন শিল্পে চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে। কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, এখন অবস্থা ভালো। নির্বাচনের সময় ৫০-৬০ শতাংশ ছাড় দিয়েও পর্যটক পাওয়া যায়নি। আগামী মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে বলে জানান তিনি।

কুয়াকাটা : কক্সবাজারের মতো সাগরকন্যা কুয়াকাটার পর্যটন খাতেও নির্বাচনের প্রভাব পড়েছে। তবে এখন অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ধীরে ধীরে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। সমুদ্রসৈকতে ভিড় বাড়ছে প্রতিনিয়ত। সমুদ্রসৈকত, শুঁটকি পল্লী, গঙ্গামতির জঙ্গল, ক্র্যাব আইল্যান্ড, ফাতরার বন, কুয়াকাটার কুয়া, সীমা বৌদ্ধ মন্দির, কেরানিপাড়া, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধমন্দির ঘুরতে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিনিয়ত মানুষজন আসত। এ কারণে হোটেল-মোটেলের আগাম বুকিংও বেড়েছে।

রাঙ্গামাটি : প্রতিবছর বর্ষার পরপরই রাঙ্গামাটিতে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে শুরুর দিকে পর্যটকের আগমন কম ছিল। নির্বাচনের পরপরই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রাঙ্গামাটিতে ঘুরতে আসা শুরু করেন পর্যটকরা। শুক্র ও শনিবারসহ সরকারি ছুটির দিনগুলোতে রাঙ্গামাটির পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।

কাপ্তাই হ্রদ, ঝুলন্ত সেতু, ডিসি বাংলো পার্ক, জেলা পুলিশের পলওয়েল ও লাভপয়েন্ট স্পট, সুবলং ঝরনা স্পট, আরণ্যক, পেদাটিংটিং, টুকটুক ইকোভিলেজ, বেড়ান্যে লেক, বড়গাং, মুন্সী আবদুর রউফ স্মৃতিসৌধ, সুখী নীলগঞ্জ, রাজবন বিহার, চাকমা রাজার বাড়িসহ দৃষ্টিনন্দন স্পটগুলোতে পর্যটকদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। এ ছাড়া সাজেকেও পর্যটকদের আনাগোনাও বেড়েছে।

বান্দরবান : এবার বান্দরবানে পর্যটকদের আনাগোনা অন্যবারের চেয়ে কিছুটা কম। তবে নির্বাচনের পর পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। জানুয়ারিতে পর্যটকদের আগমন বাড়তে বলে আশা স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদের। জেলা শহরে নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিক লেক, স্বর্ণমন্দিরসহ অসংখ্য পর্যটন স্পট রয়েছে। এসব স্থানে প্রতিবছর হাজারও দেশি-বিদেশি পর্যটক বেড়াতে আসে। গতবারের তুলনায় এবার পর্যটকদের ভিড় কম। তবে যারা ঘুরতে আসছেন তারা থানচিতে নাফাকুন, বড় পাথর, বড়মদক রুমায় বগা লেক, রিজুক ঝরনা, কেওক্রাডাং, আলিকদমে আলীর সুড়ঙ্গ, রূপমুহুরি ঝরনা, দামতুয়া ঝরনা, লামায় মিরিঞ্জা, নাইক্ষ্যংছড়িতে উপবনসহ অন্য পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×