সাপ্তাহিক পর্যালোচনা

শেয়ারবাজারে লেনদেন বেড়েছে আড়াইগুণ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেয়ারবাজার

নির্বাচনের পর শেয়ারবাজারে তারল্যপ্রবাহ বেড়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় গত এক সপ্তাহে আড়াইগুণ হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন। আলোচ্য সময়ে ডিএসইর মূল্যসূচক বেড়েছে ২০৬ পয়েন্ট এবং বাজারমূলধন বেড়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন বছরে নতুন সরকারের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা বেড়েছে। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করেছে। এর সঙ্গে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও সক্রিয় হচ্ছে।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বাজারে মূল সমস্যা আস্থা সংকট। সামগ্রিকভাবে বাজারের উন্নয়ন করতে হলে এ সংকট কাটাতে হবে। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। মির্জ্জা আজিজ বলেন, খাতভিত্তিক বিবেচনায় শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যাংক অন্যতম।

ফলে ব্যাংকের কোনো খবরে পুরোবাজার প্রভাবিত হয়। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর পর্যন্ত বাজারে তেমন গতি নেই। তার মূল কারণ হল বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট। তার মতে, দেশের বিনিয়োগকারীরা এখনও হুজুগে শেয়ার বেচাকেনা করে। আর এটি বন্ধ না হলে সামগ্রিকভাবে উন্নয়ন হবে না।

নিয়মানুসারে ২০১৮ সালের আর্থিক হিসাবের ওপর ২০১৯ সালের মে মাসের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ ঘোষণা করবে। তবে অন্যান্য খাতের কোম্পানিগুলোর বছর শেষ হয় জুন মাসে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে লভ্যাংশ ঘোষণার সময় খুব বেশি কাছাকাছি নেই। কিন্তু নতুন সরকার আর্থিক খাতে উল্লেখযোগ্য সংস্কার আনবে বলে কাজ করছে।

বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। এ ছাড়াও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হবে বলে বিভিন্ন মহল থেকে কথা আসছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারমুখী হবে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সঞ্চয়পত্রের টাকা শেয়ারবাজারে আসার প্রবণতা খুবই কম। কারণ যারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেন, তারা শেয়ারবাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় বিনিয়োগ করতে চায় না।

গত সপ্তাহে ৫ দিনে ডিএসইতে ৪ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৯৮৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে ৩ দিনে ২ হাজার ১৫১ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। প্রতিদিন গড়ে ৭১৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। এ হিসাবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ২ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে যা ১২৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। আর প্রতিদিনের গড় লেনদেন বেড়েছে ২৬৮ কোটি টাকা। এদিকে সপ্তাহজুড়ে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বিবিএস ক্যাবল।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রতিষ্ঠানটির ১২৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ১১০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হল : ব্র্যাক ব্যাংক ১০৪ কোটি, এক্সিম ব্যাংক ৯২ কোটি, জেএমআই সিরিঞ্জ ৯১ কোটি, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ৮৫ কোটি, অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যাল ৮১ কোটি, সিঙ্গার বাংলাদেশ ৭৬ কোটি, খুলনা পাওয়ার ৬৬ কোটি এবং ড্রাগন সোয়েটার ৬৬ কোটি ১১ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে সেগুলো হল : ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, জেএমআই সিরিঞ্জ, নর্দান জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও আলহাজ টেক্সটাইল।

অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হল : স্টাইল ক্রাফট, বঙ্গজ লিমিটেড, অ্যাভেন্ট ফার্মা, সায়হাম টেক্সটাইল, ফাইন ফুড, এমএল ডাইং, কাট্টালি টেক্সটাইল, ইন্দো-বাংলা ফার্মা, সিলভা ফার্মা এবং এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। তবে গত সপ্তাহেও বাজারে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন কম, ওই কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করেছে। এর মধ্যে কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম এক সপ্তাহে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এটি বাজারের জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×