রোজায় ভোগ্যপণ্য আমদানি

ডলারের জোগান বাড়ানোর নির্দেশ

পণ্য আমদানি ও এলসি খোলার হার বেড়েছে

  হামিদ বিশ্বাস ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন রমজান উপলক্ষে ভোগ্যপণ্যের বাড়তি চাহিদার জোগান দিতে আমদানির এলসি খোলার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে বাজারে বেড়েছে ডলারের চাহিদা। ফলে বেড়েছে এর দামও। সব মিলে রোজার মাসে যাতে নিত্যপণ্যের কোনো সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন। রোজার বাজারে প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আমদনি করতে এলসি খোলার জন্য চাহিদা অনুযায়ী ডলারের জোগান দেয়ার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনো ব্যাংকের কাছে ডলারের সংকট থাকলে আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজার বা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। রোজার বাজারে চাহিদা আছে এমন কোনো পণ্যের এলসি খোলায় কোনো শৈথিল্য করা যাবে না।

রোজাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে বেশকিছু পণ্য দেশে চলে এসেছে। সেগুলো এখন সারা দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আরও পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ছোলা, বিভিন্ন ধরনের ডাল, চিনি, গুঁড়ো দুধ, মসলা, পেঁয়াজ ও ফল। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি- সাত মাসে গুঁড়ো দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি করা হয়েছে ১৯ কোটি ৪১ লাখ ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি করা হয়েছিল ১৬ কোটি ৭২ লাখ ডলার। ওই সময়ে এ খাতে আমদানি বেড়েছে ১৬ শতাংশের বেশি। একই সময়ে নতুন এলসি খোলা বেড়েছে ৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। অনিষ্পন্ন এলসির পরিমাণ ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ভোজ্য তেল আমদানি করা হয়েছে ১০৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি করা হয়েছিল ১০৩ কোটি ১৭ লাখ ডলারের। ওই সময়ে আমদানি বেড়েছে সাড়ে ৩ কোটি ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে চিনি আমদানি করা হয়েছে ৬৫ কোটি ডলারের। চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারিতে করা হয়েছে ৩৭ কোটি ডলারের। আমদানি কমেছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে এগুলোর দাম কমা এবং আগে বেশি পরিমাণে আমদানি হওয়ায় এখন এগুলোর আমদানি কমেছে। তবে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে চিনি আমদানির এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি মসলা আমদানি করা হয়েছে ১৮ কোটি ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে করা হয়েছিল ১৫ কোটি ডলারের। ওই সময়ে সমলার আমদানি বেড়েছে সাড়ে ১৬ শতাংশ। নতুন এলসি খোলা কিছুটা কমছেও অনিষ্পন্ন এলসির হার বেড়ে সাড়ে ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

গত অর্থবছরের ওই সময়ে ডাল আমদানি করা হয়েছিল ১৭ কোটি ডলারের। চলতি অর্থবছরের ওই সময়ে আমদানি হয়েছে ১৯ কোটি ডলারের। ওই সময়ে আমদানি বেড়েছে ১৩ শতাংশ। এছাড়া একই সময়ে নতুন এলসি খোলা বেড়েছে ৩৩ শতাংশ এবং অনিষ্পন্ন এলসির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হচ্ছে ছোলা ও মসুর ডাল।

গত অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারির তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের ফল আমদানি বেড়েছে ১১ শতাংশ। এ খাতের অনিষ্পন্ন এলসির হার বেড়েছে ৩০ দশমিক ২২ শতাংশ।

দেশে এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তারপরও পেঁয়াজের ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজ আমদানি বাড়ছে না। বরং কমছে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, পেঁয়াজ হচ্ছে দ্রুত পচনশীল পণ্য। এ কারণে এটি রোজার ঠিক এক সপ্তাহ আগে থেকে আমদানি বাড়বে। ইতিমধ্যে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ভারতে আগাম এলসির বুকিং দেয়া হয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজ বৈধভাবে আমদানির চেয়ে চোরাই পথে বেশি আমদানি হয়।

সূত্র জানায়, রোজা সামনে রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে এখনও পণ্যের দাম বাড়েনি। রং, চিনি, সয়াবিন তেলসহ বেশকিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে ওইসব পণ্য ইতিমধ্যে কম দামে ব্যবসায়ীরা আমদানি করতে সক্ষম হয়েছে।

সূত্র জানায়, ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরেও বিশেষ করে ভারত ও মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে প্রচুর পরিমাণ ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়। এর মধ্যে রয়েছে- পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, জিরা, বিভিন্ন ধরনের সমলা ও ডাল। রোহিঙ্গা সমস্যার কারণে বর্তমানে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি কমলেও ভারত থেকে আমদানি বেড়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×