ঘুরে দাঁড়িয়েছে সৌদি রিয়াল

তেলের দাম বাড়তে থাকায় ও অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়ায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে সৌদি মুদ্রা রিয়াল

  ইকবাল হোসেন ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অব্যাহত দরপতনে সৌদি আরবের মুদ্রা রিয়াল বেশ চাপে পড়ে। যার প্রভাবে ওই বছরের ২২ নভেম্বর ডলারের বিপরীতে সৌদি রিয়ালের মান ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে আসে। বর্তমানে প্রতি ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান প্রায় ৩ দশমিক ৭৫-এ স্থির রেখেছে সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘সৌদি অ্যারাবিয়ান মানিটারি এজেন্সি (এসএএমএ)’ কর্তৃপক্ষ। তেলের দরপতনের পাশাপাশি ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ার কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ তখন স্থানীয় মুদ্রার মান এখানেই স্থির রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্তমানে তেলের দাম বাড়তে থাকায় ও অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়ায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে সৌদি মুদ্রা রিয়াল। অপরদিকে টাকার বিপরীতে সৌদি রিয়াল বরাবরই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সর্বশেষ ১৪ মার্চ বৃহস্পতিবারের মুদ্রাবাজারের তথ্য অনুয়ায়ী, প্রতি রিয়ালের বিপরীতে টাকার মান প্রায় ২২ দশমিক ৩৯ টাকা। আগে এর দাম আরও বেশি ছিল।

প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের নাগরিকদের কাছে সৌদি মুদ্রা রিয়ালের বেশ কদর রয়েছে। বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় সবচেয়ে বেশি আসে সৌদি আরব থেকে- যা দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ। বর্তমানে প্রায় ২৩ লাখের বেশি বাংলাদেশি বাস করেন সেখানে। সৌদি আরবে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ প্রবাসী রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভারতের নাগরিক সৌদিতে বাস করে। এরপর পাকিস্তানের অবস্থান। প্রবাসী নাগরিকের সংখ্যায় বাংলাদেশ তৃতীয়। মূলত অর্থ উপার্জনের আশায় দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের বসবাস দেশটিতে। কারণ জিএনপি অনুসারে সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশের একটি। তাই বিশ্ব দরবারে দেশটির মুদ্রা রিয়ালেরও বেশ চাহিদা রয়েছে।

সৌদি মুদ্রার একটি গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৩০ সালে সৌদি আরবে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আগেও দেশটির মুদ্রার নাম ছিল রিয়াল। এটি অটোমান যুগের অন্যতম প্রাথমিক মুদ্রা। রিয়াল শব্দটি মূলত সৌদি আরবের হেজাজ এলাকার প্রচলিত মুদ্রা থেকে এসেছে। সে সময় কয়েন প্রচলিত ছিল। ১৯৬৩ সালে দেশটিতে প্রচলিত পদ্ধতি অনুসারে এক রিয়ালকে ১০০ হালালায় বিভক্ত করা হয়। ৫ হালালাকে ১ সৌদি কিরিশ বলা হয়। এরপর বিদেশিদের পবিত্র হজব্রত পালনের সুবিধার্থে ১৯৫৩ সালে সৌদি আরবের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথম নোট ইস্যু করে। প্রথমদিকে বিদেশি হাজীদের পিলগ্রিম রসিদ প্রদানের জন্য ১০ রিয়ালের ব্যাংক নোট ইস্যু করা হয়। এরপর ১৯৫৪ ও ৫৬ সালে ১ ও ৫ রিয়ালের ব্যাংক নোট ইস্যু করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে এ ব্যাংক নোটগুলো শুধুমাত্র হাজীদের সঙ্গে বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তীতে নোটগুলো সৌদি আরবে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়। প্রধান আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে খুব দ্রুত সিলভার কয়েনের পরিবর্তে কাগজের ব্যাংক নোটের ব্যবহার বাড়তে থাকে। ফলে সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৯৬১ সালের ১৫ জুন ১, ৫, ১০, ৫০ এবং ১০০ রিয়ালের নিয়মিত ব্যাংকনোট দেশটির বাজারে ইস্যু করে। ১৯৬৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পিলগ্রিম রসিদ প্রত্যাহার করা হয়। ১৯৮৩ সালে ৫০০ রিয়ালের ব্যাংকনোট ইস্যু করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০০০ সালে সৌদি আরবের রাজধানী প্রতিষ্ঠার এক শতাব্দী উদযাপন উপলক্ষে ২০ এবং ২০০ রিয়ালের স্মারক ব্যাংকনোট ইস্যু করা হয়।

বর্তমানে সৌদি আরবে ৬টি ব্যাংকনোট প্রচলিত রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- ১, ৫, ১০, ৫০, ১০০ ও ৫০০ রিয়াল। ২০০৭ সালের ২০ মে জারিকৃত এক রাজকীয় ডিক্রি আদেশ অনুযায়ী প্রতিটি নোটে সৌদি রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের ছবির ইলেকট্রোটাইপ জলছাপ রাখা হয়। শুধুমাত্র ৫০০ রিয়ালের নোটে বাদশা আবদুল আজিজ আল-সৌদের ছবির জলছাপ রয়েছে।

১ রিয়ালের ব্যাংক নোটটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ১৩৩ ও ৬৩ মিলিমিটার। হালকা সবুজ রঙের নোটটির অভিমুখে সপ্তম শতকের স্বর্ণের দিনার কয়েন এবং বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের ছবি রয়েছে। বিপরীত পাশে রয়েছে সৌদি আরবের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ছবি।

১০ রিয়ালের ব্যাংক নোটটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ১৫০ ও ৬৮ মিলিমিটার। বাদামি রঙের নোটটির অভিমুখে রয়েছে আলমোরবায় বাদশাহ আবদুল আজিজ প্যালেস এবং বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের ছবি রয়েছে। বিপরীত পাশে রিয়াদে অবস্থিত আবদুল আজিজ হিস্টোরিক্যাল সেন্টারের ছবি রয়েছে।

৫০ রিয়ালের ব্যাংক নোটটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ১৫৫ ও ৭০ মিলিমিটার। গাঢ় সবুজ রঙের নোটটির অভিমুখে রয়েছে জেরুজালেমের পবিত্র বায়তুল মোকাদ্দাসের মিনার এবং বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের ছবি। বিপরীত পাশে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের ছবি রয়েছে। ৫০০ রিয়ালের ব্যাংক নোটটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ১৬৬ ও ৭৪ মিলিমিটার। নীল রঙের নোটটির অভিমুখে রয়েছে মক্কায় পবিত্র কাবা ঘর এবং বাদশাহ আবদুল আজিজ আল-সৌদের ছবি। বিপরীত পাশে মক্কা মনোয়ারায় পবিত্র মসজিদের ছবি রয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×