এফবিসিসিআই নির্বাচন

‘পকেট’ সংগঠনের দৌরাত্ম্য

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানির সঙ্গে যুক্ত আছে এফবিসিসিআইর আওতাধীন দুটি বাণিজ্য সংগঠন। এগুলো হচ্ছে জুট গুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ও জুট এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। এর বাইরে পাট খাতের আরও ৩টি সংগঠন আছে। এগুলো হচ্ছে জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন, জুট মিল অ্যাসোসিয়েশন ও জুট অ্যাসোসিয়েশন। সরকারের সদিচ্ছা এবং বিশ্ববাজারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পাটের দুর্দিন কাটছে না।

অন্যদিকে ধান ভাঙিয়ে চাল বানানোর জন্য রয়েছে ৩টি সংগঠন। এগুলো হচ্ছে রাইস মিলস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। এই তিন সংগঠনের সদস্যদের কাজ একই। এখানেই শেষ নয়, সামান্য রপ্তানি হওয়া চালের জন্য রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন যেমন আছে, তেমনি রাইস মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন আছে।

এ তো গেল খাতভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠনের কথা। এফবিসিসিআইতে এমনও সংগঠন আছে যেগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের সম্পৃক্ততাও নেই। যেমন বাংলাদেশ হাউস অ্যান্ড ফ্ল্যাট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। অথচ বাণিজ্য সংগঠন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-তে বাণিজ্য সংগঠনের সংজ্ঞায় বলা আছে- যে সমিতি কোম্পানি আইনের অধীনে কোম্পানি হিসাবে গঠিত হওয়ার সম্ভাবনাযুক্ত। দ্বিতীয়ত, কোনো বাণিজ্য, সওদাগরি বা শিল্প কিংবা তাদের কোনো গোষ্ঠী বা শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করার জন্য গঠিত সমিতি।

বর্তমানে এফবিসিসিআইর অধীনে খাতভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন আছে ৩৯১টি। এ সংগঠনের প্রায় ২৫শ’ সদস্য ২০১৯-২১ মেয়াদে এফবিসিসিআই নির্বাচনে ভোটার। এসব বাণিজ্য সংগঠনে এমন অনেক সদস্য আছে- যাদের কোনো ব্যবসা নেই। আবার ব্যবসা করলেও ওই খাতে ব্যবসা নেই। আবার বেশির ভাগ সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয় নেই। সংগঠন গঠন করা নেতার বাসভবন বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নিজস্ব ব্যবসা খাতের উন্নয়নেও তাদের কোনো কার্যক্রম নেই। সদস্য সংখ্যাও খুব কম। তাদের আসল কাজ পুরো খাতকে প্রতিনিধিত্ব করা নয়, বরং এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনে ভোট দেয়া। ভোট এলেই সরব রয়ে ওঠেন তারা।

অভিযোগ আছে, এফবিসিসিআইর সাবেক ও বর্তমান একাধিক পরিচালকের একাধিক ‘পকেট’ বাণিজ্য সংগঠন আছে। কখনও সামনে থেকে, আবার কখনও পেছনে বসে তারা কলকাঠি নাড়েন। ভোট এলেই এসব পরিচালক বা এফবিসিসিআইর রাজনীতিতে সক্রিয় নেতাদের কদর বাড়ে। পর্দার আড়ালে তারাই ঠিক করেন এফবিসিসিআইর নেতৃত্বে কে আসবে। এজন্য পরিচালক প্রার্থীরা তাদের ‘খুশি’ রাখার চেষ্টা করেন। এছাড়া এফবিসিসিআইর ভোটার লিস্টে নাম উঠানোর জন্য সাধারণ ব্যবসায়ীরাও তাদের পেছনে ঘোরেন, দেন মোটা অঙ্কের টাকা। টাকা না দিলে প্রকৃত ব্যবসায়ীও স্থান পায় না। ২০১৯-২১ মেয়াদে এফবিসিসিআইর ভোটার লিস্টে নাম উঠানোর জন্য দেড় থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এ লেনদেন এখন এফবিসিসিআইতে ‘ওপেন সিক্রেট’। শীর্ষ নেতারাও এ বিষয় জানেন। কিন্তু তারা অনেকটাই অসহায়। কারণ ভোটের রাজনীতিতে ওইসব নেতাই সর্বেসর্বা। নামকাওয়াস্তের সংগঠন ও ব্যবসায়ীরা এফবিসিসিআইতে প্রভাবশালী হয়ে পড়ায় সংগঠনটির মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আর ব্যবসায়ীরাও টাকা দিতে কার্পণ্য করে না। কারণ এফবিসিসিআই সাধারণ পরিষদের সদস্য হতে পারলে নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া, রাজনৈতিক দলের পদ পাওয়া, এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদেশ সফরে যাওয়া যায়। পাশাপাশি নিজ নিজ ব্যবসার ক্ষেত্রেও সুবিধা হয়। পকেট সংগঠনের অস্তিত্বের কথা স্বীকার করে এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, একই খাতের একাধিক সংগঠন এক সারিতে আনা উচিত। এতে ওই খাত উপকৃত হবে। পাশাপাশি এ ধরনের সংগঠনের অনুমোদন সরকারের তরফ থেকে দেয়ার আগে এফবিসিসিআইর সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। এক্ষেত্রে এফবিসিসিআইকেও সক্রিয় হতে হবে। তিনি আরও বলেন, একটি ছোট ব্যবসার ব্যবসায়ীরা মিলে সংগঠন করতেই পারে। কিন্তু নামসর্বস্ব বাণিজ্য সংগঠনের অনুমোদন দেয়া উচিত হবে না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×