রফতানি খাত বহুমুখীকরণের উদ্যোগ

  ইয়াসিন রহমান ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের রফতানি খাতকে বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রফতানি পণ্যের সংখ্যা বাড়ানো এবং ওইসব খাত থেকে রফতানি আয় বাড়ানোরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি, পাট থেকে পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে আরও মূল্য সংযোজন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে এসব খাত থেকে রফতানি আয় বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কমে আসছে পোশাক খাতের রফতানি আয়ের অংশ।

সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি এই আট মাসে ২ হাজার ৭৬০ কোটি ডলার রফতানি আয় হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রফতানি আয় হয়েছে পোশাক খাত থেকে, যা মোট রফতানি আয়ের প্রায় সাড়ে ৮৩ শতাংশ। বাকি সাড়ে ১৬ শতাংশ আসে অন্যান্য খাত থেকে। এ কারণে পোশাক রফতানি আয় কমে গেলে পুরো রফতানি আয়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ জন্যই রফতানি খাতকে পোশাক খাতনির্ভর না রেখে অন্যান্য খাতের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বর্তমানে মোট রফতানির আয়ের মধ্যে নিটওয়্যার খাত থেকে আয় হয় ৪১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ওভেন পোশাক থেকে আসে ৪১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য খাতের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি ২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। হিমায়িত খাদ্য ও মাছ রফতানি খাতে আয় হয়েছে এক দশমিক ৪৯ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে আয় হয়েছে ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। কৃষিজাত পণ্য খাতে রফতানি আয় হয়েছে ২ দশমিক ৪০ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য খাতে চলতি অর্থবছর ২০১৮-১৯ এর প্রথম সাত মাসে রফতানি আয় হয় ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। পোশাক খাতের বাইরে অন্য খাতের রফতানি আয়ের হার কম হওয়ায় অন্য খাতগুলো মোট রফতানি আয়কে খুব বেশ প্রভাবিত করতে পারে না।

এদিকে আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত পোশাক রফতানি আয় বাড়িয়ে ৫ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সময়ের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি খাতে রফতানি আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ খাত থেকে বর্তমানে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি রফতানি আয় হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে ৫০০ কোটি ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রফতানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী যুগান্তরকে বলেন, রফতানি খাত বহুমুখীকরণ করতে হবে। কিন্তু পোশাক খাত ছাড়া অন্য খাতগুলোর প্রতি সরকারের নজর কম। এছাড়া উদ্যোক্তারাও নানা বাধার কারণে সামনে এগোতে পারছেন না। এ কারণে রফতানি খাতকে বহুমুখীকরণ করতে হলে সরকারের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত এগিয়ে যাচ্ছে। পাট খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাত থেকে বেশি মূল্য সংযোজনের পণ্য উৎপাদন করে রফতানি করতে হবে।

একই সঙ্গে ওষুধ রফতানি আয়কেও বাড়ানোর জন্য নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটি ডলারের রফতানি আয় হয়েছে। গত অর্থবছরে এ খাত থেকে রফতানি আয় হয়েছিল ১০৪ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১২ কোটি ডলার। আগামী ২০২১ সালে এ খাত থেকে ৫০০ কোটি ডলার রফতানি আয় বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, পাটজাত পণ্য খাত থেকে রফতানি আয় বাড়ানো সম্ভব হলে সার্বিকভাবে পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমে যাবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×