মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিকাশের উদ্যোগ

১৯৭১ সালে নয় মাসের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশ ঘটাতে সরকার ইতিমধ্যে ৬টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ১২ কোটি টাকা। এসব নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন হামিদ-

  উজ-জামান ২৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুদ্ধ

নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরতে ৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। এসব প্রকল্পের কোনোটি সরাসরি আবার কোনোটি পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এসব বাস্তবায়ন করছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

প্রকল্পগুলো হচ্ছে- শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণ ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়), নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণ এবং মুক্তিযুদ্ধকালে শহীদ মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্প। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব প্রকল্পের অধিকাংশই সমাপ্ত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে এগুলো বাস্তবায়নে তদারকি বাড়ানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৪৬০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ২০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার সমাধি সংরক্ষণের কাজ চলছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করতে এবং মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক মোজাম্মেল হক বলেন, প্রকল্পটি গত বছরের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এখন বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রমগুলো শুরু করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণ ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ১৭৮ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কথা। প্র্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ জেলার ২৯৩ উপজেলায় ৩৬০টি স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। ভৌত অগ্রগতির মধ্যে ৯টি স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শেষ হয়েছে। ৬০টি স্তম্ভের নির্মাণ কাজ চলছে। ৮২টি স্তম্ভের দরপত্র আহ্বান ও চারটির নকশা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া পাঁচটি স্তম্ভ নির্মাণের জমিসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। ২০০টির জন্য জমি পাওয়া যায়নি। প্রকল্পটির পরিচালক আবদুল হাকিম বলেন, এটি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে নতুন প্রজন্মের সামনে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য তুলে ধরা হবে। যেসব স্থানে জমি পাওয়া যায়নি সেসব স্থানের জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা সরকারি খাস জমি অথবা বেসরকারি জমি প্রয়োজন হলে অধিগ্রহণ করবেন। সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতাস্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ২৬৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ, দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয়, আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষরের স্মৃতি সংরক্ষণ, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভাষণের স্মৃতি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন সময়ের নানা আন্দোলনের ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিশুদের জন্য বৃহত্তর আকারে শিশুপার্ক গড়ে তোলা হবে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা। ইতিমধ্যেই শিশুপার্কের ভূ-গর্ভস্থ কার পার্কিংসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য মাটি খননেন কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির পরিচালক ড. মো. মইনুল হক আনছারী বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান তো শুধু উদ্যান নয়, এটি অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। এ প্রকল্পটি গ্লাস টাওয়ার প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হবে। পুরো প্রকল্পটিই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এখানে কেউ পরিদর্শন করলে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ অনেক কিছুই জীবন্ত দেখার মতো মনে হবে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৪৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানাতে ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর বাসের মাধ্যমে সারা দেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কর্মসূচি পালন করা হবে। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৫৬টি জেলার ১৮৮টি উপজেলার ৩৪২টি স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে পাঁচ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ভৌত অগ্রগতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ৪৬টি স্মৃতি স্থাপনার কাজ শেষ হয়েছে। ৯৩টির কাজ চলমান রয়েছে। ৪৯টি স্থাপনার কাজের জন্য ই-জিপিতে দরপত্র কার্যক্রম চলছে। এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক মো. এজাজ মোর্শেদ বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের বীরত্বগাথা তুলে ধরে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে দেশপ্রেমের চেতনা ছড়িয়ে যাবে। তারা এসব দেখে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবেন। মুক্তিযুদ্ধকালে শহীদ মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী মিত্রবাহিনীর ভারতীয় সৌনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে মিত্রবাহিনীর ১ হাজার ৬৬১ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন। তাদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের বীরত্বগাথাকে তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×