রেমিটেন্স প্রবাহে গতি বেড়েছে

  হামিদ বিশ্বাস ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হুন্ডি রোধে নানা পদক্ষেপ নেয়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে রেমিটেন্স প্রবাহ। গত দুই বছরের পড়তি ভাব কাটিয়ে প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ। গত চার মাস ধরে টানা বাড়ছে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এ সূচক। রেমিটেন্স বাড়ার এ ধারাকে ইতিবাচক অভিহিত করে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, আমদানি বৃদ্ধির সঙ্গে স্থানীয় বাজারে ডলারের দামও বেড়েছে। পাশাপাশি অবৈধ পথে প্রবাসীদের অর্থ লেনদেনকারী মোবাইল অ্যাকাউন্টধারীদের বিরুদ্ধে অভিযানের কারণে প্রবাসীরা বৈধ পথে (ব্যাংকিং চ্যানেল) টাকা পাঠাচ্ছেন। এছাড়া বিদেশে জনশক্তি রফতানিও বেড়েছে।

চলতি বছরের প্রথম মাসে (জানুয়ারি) ১৩৮ কোটি (১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এ অঙ্ক গত বছরের জানুয়ারির চেয়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ বেশি এবং চলতি অর্থবছরের সাত মাসের (জুলাই-জানুয়ারি) মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আগের মাস ডিসেম্বরের চেয়ে বেড়েছে ১৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আর চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রেমিটেন্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। রেমিটেন্স প্রবাহের এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। সম্প্রতি নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় তিনি বলেছিলেন, চলতি অর্থবছরে রেমিটেন্স ১৪ বিলিয়ন (এক হাজার ৪০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাবে। প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আনতে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জোরালো কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন গভর্নর।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান যুগান্তরকে বলেন, হুন্ডি রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে তিন হাজার অবৈধ মোবাইল অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। অনেক এজেন্টশিপ বাতিল করা হয়েছে। তার ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে রেমিটেন্স প্রবাহ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রেমিটেন্স আহরণে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে ইসলামী ব্যাংক। গত জানুয়ারিতেও ২৬ কোটি ডলার রেমিটেন্স এনে শীর্ষ স্থানে রয়েছে ব্যাংকটি। জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আরাস্তু খান যুগান্তরকে বলেন, রেমিটেন্স আহরণে ইসলামী ব্যাংকের অবদান বরাবরই বেশি। বৈধ পথে রেমিটেন্স আনতে ইসলামী ব্যাংক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, ব্যাংকের মাধমে রেমিটেন্স পাঠাতে নামমাত্র খরচ রাখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১১৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার রেমিটেন্স আসে। দ্বিতীয় মাস আগস্টে আসে ১৪১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। অক্টোবরে এসেছে ১১৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। নভেম্বরে আসে ১২১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। ডিসেম্বরে এসেছিল ১১৬ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। সর্বশেষ জানুয়ারিতে তা বেড়ে হয়েছে ১৩৮ কোটি ডলার।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter