ডব্লিউটিও না আপটা?

এলডিসি থেকে ডিসিতে উত্তরণ : চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উন্নয়ন পন্থা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা

  শাহ আলম খান ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডব্লিউটিও না আপটা- এ বিতর্কের সহসাই অবসান হচ্ছে না। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে এ দুটি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় চীনের রফতানি বাজারে কোন সুবিধাটি বেশি লাভজনক হবে তা নিয়ে কোনো সুরাহায় যেতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। বরং সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল সংস্থা, বাণিজ্যিক সংগঠন এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে এ ইস্যুতে দ্বিধাদ্বন্দ্ব লেগেই আছে।

জানা গেছে, রফতানিতে সক্ষম এমন ১৭টি পণ্যে নতুন করে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়ে চীনের বাণিজ্য দফতরে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানোর পরই শুরু হয়েছে এ বিতর্ক। এ জন্য স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে (ডিসি) উত্তরণের পর্বটি আরও ধীরগতির করে তুলেছে।

জানা গেছে, এতদিন বাংলাদেশ এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড অ্যান্ড অ্যাগ্রিমেন্টের (আপটা) আওতায় ছাড়কৃত শুল্ক সুবিধায় চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছে। এর আওতায় চীন স্বল্পোন্নত দেশের জন্য মাত্র ১৮১টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। যার থেকে মাত্র ১০১টি পণ্যে শতভাগ মার্জিন অপ প্রেফারেন্স প্রদান করছে চীন। কিন্তু ১৭ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার বিষয়টি দুই দেশের সরকার প্রধানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অন্যতম ইস্যু হয়ে ওঠায় চীনের বাণিজ্য দফতরের কর্মকর্তারা বিষয়টির সন্তোষজনক নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গুরুত্বসহকারে নেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছর প্রথমদিকে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণের তাগিদ দিয়ে চিঠি দেয়। দেশটির বাণিজ্য দফতরের কর্মকর্তারা ওই চিঠিতে জানায়, যে ১৭ পণ্যের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, সেসব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা আপটার স্কিমের তালিকাভুক্ত নয়। তবে এলডিসির জন্য চীন সরকার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত (ডিএফকিউএফ স্কিম) এর আওতায় ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত রফতানি পণ্যে এ সুবিধা দিয়ে থাকে। এর জন্য রফতানিকারক দেশগুলোকে ডব্লিউটিওর রুলস অব অরিজিনের শর্তানুযায়ী তাদের রফতানিকৃত পণ্যে মূল্য সংযোজনের হার ৪০ শতাংশ নিশ্চিত করতে হয়। যা বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়।

চীনের শর্তানুযায়ী ডিএফকিউএফ স্কিমের সুবিধা নিতে হলে আপটাতে প্রদত্ত শুল্ক সুবিধা বাদ দিতে হবে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চীনের রফতানি বাজারটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে বাণিজ্য পদ্বতি কোনটি হলে ভালো হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে ট্যারিফ কমিশনকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

জানা গেছে, ট্যারিফ কমিশন ইতিমধ্যে সেই প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এতে সরকারি এ সংস্থাটি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য উন্নয়নে আপটার পরিবর্তে ডব্লিউটিওর ডিএফকিউএফ স্কিমের সুবিধা নেয়ার সুপারিশ করেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু যুগান্তরকে বলেন, চীনের বাজারটি বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখন তাদের সঙ্গে আপটার সুবিধার আওতায় রফতানি বাণিজ্য চলছে। তবে ডব্লিউটিওর ডিএফকিউএফ স্কিমে বাংলাদেশের রফতানি পণ্য থেকে আরও বেশি শুল্ক সুবিধা নেয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু কোনটির আওতায় চীনের সঙ্গে বাণিজ্য নির্ধারিত হবে সে বিষয়ে এখনও আমরা সিদ্ধান্ত নিইনি। কারণ সামনে আমাদের এলডিসি উত্তরণের বিষয় আছে। এ কারণে একটু সময় লাগছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কোনো সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই না। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য চীনের বাজারে আপটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে তার আগে হাতে যে কয়েক বছর সময় পাওয়া যাবে- অন্তর্বর্তীকালীন এ সময়টাতে আমরা আপটাতে থেকেই সাময়িকভাবে আপটার সুবিধা স্থগিত রেখে ডব্লিউটিওর সুবিধা নিয়ে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আরও কমিয়ে আনতে চাই।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরউদ্দিন আহমেদ এনডিসি যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে ট্যারিফ কমিশনকে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আমরা তা দিয়েছি। সিদ্ধান্ত নেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কী সুপারিশ করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তী ডব্লিউটিওর সুবিধা বহাল থাকা পর্যন্ত মাঝের সময়ে আপটার সুবিধা সাময়িক স্থগিত করে ডব্লিউটিওর শুল্ক সুবিধা নিতে সুপারিশ করেছি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. মুনীর চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ডব্লিউটিওতে যত সুবিধাই থাকুক না কেন মনে রাখতে হবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে তালিকাভুক্তির পথে এসে বাংলাদেশের জন্য এটা এখন ক্ষণস্থায়ী সুবিধা। আর আপটা এখন গৌণ মনে হলেও চীনের বাজারে আপটার কার্যকারিতা সামনে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, আপটার আওতায় চীনের বাজারে এলডিসিদের রফতানি পণ্যে ৩৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন হারের শর্ত রয়েছে। যা ডব্লিউটিওর শর্তে ৪০ ভাগ বলা আছে। এ ক্ষেত্রে আপটার শর্ত বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য সহনীয়। কিন্তু এখানে শুল্কমুক্ত সুবিধার পণ্য তালিকা খুব কম। বাংলাদেশ রফতানিতে সক্ষম এমন পণ্য এ তালিকায় আরও কম। আর ডব্লিউটিওতে মূল্য সংযোজনহার বেশি হলেও সেটি উদ্যোক্তারা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম। এখানে পণ্য তালিকা সীমাহীন।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.