আলোর মুখ দেখছে শান্তিনগর ঝিলমিল ফ্লাইওভার

  হামিদ-উজ-জামান ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে আলোর মুখ দেখছে দেশের দীর্ঘতম ফ্লাইওভার। প্রায় ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের এই ফ্লাইওভারের শুরু রাজধানীর ফকিরাপুল ইন্টারসেকশন থেকে। আর পুরান ঢাকাকে সংযুক্ত করে অপর প্রান্ত মিলবে চুনকুটিয়া পর্যন্ত। স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলে মাওয়া থেকে এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে এই ফ্লাইওভার হয়ে রাজধানীতে আসা যাবে মাত্র আধা ঘণ্টায়। যদিও ২০১৩ সাল থেকেই বিভিন্ন জটিলতায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি ঝুলে আছে। এখন পদ্মা সেতুকে সামনে রেখে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এ জন্য নতুন রুট চূড়ান্ত করা হয়েছে।

প্রথমে সিদ্ধান্ত হয় ফ্লাইওভারটি শুরু হবে ঢাকার শান্তিনগর থেকে। পরে তা রাজারবাগে এবং সর্বশেষ ফকিরাপুলে করার সিদ্ধান্ত হয়। রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় এর প্রান্ত হলে বাস্তবায়নাধীন মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, এক্সপ্রেসওয়ে এবং মগবাজার মৌচাক ফ্লাইওভারের যাতায়াতে বড় ধরনের জটিলতার আশঙ্কা ছিল। এখন শান্তিনগর ইন্টারসেকশনে যানজট এড়াতে এবং কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের সামনে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্পের সঙ্গে পরোক্ষ সংযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য শান্তিনগরের পরিবর্তে ফকিরাপুল ইন্টারসেকশন হতে ফ্লাইওভারটি শুরু করা হবে। এছাড়া কাকরাইল-শান্তিনগর (কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির সামনে) ডাউন র‌্যাম্প বাদ দেয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বকশীবাজার এবং গুলিস্তানের যান চলাচল সহজ করতে পুরান ঢাকার ফিনিক্স রোডে একটি ডাউন র‌্যাম্প প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে ফ্লাইওভারের অ্যালাইনমেন্টের জটিলতা কমাতে এবং জনসন রোডের যানজট এড়াতে ভিক্টোরিয়া পার্ক ও ইংলিশ রোডের ডাউন র‌্যাম্প এবং ধোলাইখাল রোডের আপ-র‌্যাম্প বাদ দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, রুট নির্ধারণ নিয়ে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি-৩) রুটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়া এবং পিপিপিতে হবে নাকি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে করা হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ফ্লাইওভারটির নির্মাণে জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময় পিপিপিতেই নির্মাণে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং বেশকিছু স্থানে নতুন রুট নির্ধারণ এবং কয়েকটি স্থানে লুপ বাদ দেয়া হচ্ছে। ফলে এখন প্রায় ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার চার লেনের এ ফ্লাইওভারটি তৈরিতে আর কোনো বাধা থাকছে না। ফ্লাইওভারটি নির্মাণ হলে পুরান ঢাকার যানজট নিরসন এবং খুব সহজেই রাজউকের ঝিলমিল প্রকল্পে যাতায়াত করা যাবে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) মূল প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই একটি লিংক প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। সরকারি অর্থায়নের এ অংশ বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪২ কোটি ৪৯ টাকা। অন্যদিকে প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এছাড়া নতুন রুট নির্ধারণ করা হয়েছে ফকিরাপুল হতে বিজয়নগর-পল্টন-নয়াবাজার-ধোলাইখাল-বাবুবাজার ব্রিজ এবং চুনকুটিয়া পর্যন্ত।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের জন্য স্বল্প তালিকা (শর্ট লিস্টিং) করা হয়েছে। প্রাথমিক বিবেচনায় ৬টি কোম্পানিকে যোগ্য বলে তালিকায় স্থান দেয়া হয়েছে। এখান থেকে মূল্যায়ন করে যে কোম্পানিগুলো প্রকৃত যোগ্য হবে তাদের পিপিপি রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) পাঠানো হবে। সেই কোম্পানিগুলোর কাছে কারিগরি ও অর্থনৈতিক প্রস্তাবনা চাওয়া হবে। তারপরই দরপত্রের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কারা প্রকল্পে যুক্ত হবে। যে কোম্পানি চূড়ান্ত নির্বাচিত হবে, সেই কোম্পানিই ড্রয়িং ও ডিজাইন থেকে শুরু করে নির্মাণ কাজ পর্যন্ত সম্পন্ন করবে। তারপর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টোল আদায় করে তাদের বিনিয়োগকৃত টাকা তুলে নিয়ে প্রকল্পটি সরকারকে হস্তান্তর করবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনও বলা যাচ্ছে না মোট ব্যয় কত হবে। আমরা বুয়েটকে কন্সালটেন্সি দিয়েছি। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যয় নির্ধারণ করবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, পিপিপির লিংক প্রকল্প হিসেবে প্রস্তাবিত ‘শান্তিনগর হতে ঢাকা-মাওয়া রোড (ঝিলমিল) পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ’ সংক্রান্ত ‘পিপিপি প্রকল্পের লিংক প্রকল্প’ নামের এ প্রকল্পটি নিয়ে গত বছরের ১৬ এপ্রিল পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বেশকিছু সুপারিশ দেয়া হয়েছিল। এসব সুপারিশ প্রতিপালন করে গত সপ্তাহে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে। এখন আবারও পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হবে। তারপরই একনেকে অনুমোদন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এ প্রকল্পটি পিপিপিতে বাস্তবায়নে ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু তারপরই শুরু হওয়া জটিলতার কারণে একনেকে অনুমোদন প্রক্রিয়াতেই কেটে গেছে ৫ বছর।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter