এনবিআরের নজরদারিতে কর ফাঁকিবাজ বিদেশিরা

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন, অথচ আয়কর দেন না- এমন বিদেশি কর্মীদের কাছ থেকে কর আদায়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর অংশ হিসেবে এনবিআরের টাস্কফোর্স সরেজমিন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমে কর ফাঁকিবাজ বিদেশিদের চিহ্নিত করে করের আওতায় আনছেন। এতে সাফল্যও পাওয়া গেছে। এ জন্য এনবিআর সব কর অঞ্চলকে চিঠি দিয়ে বিদেশি কর্মী কর্মরত আছে, এমন ২টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা চেয়েছে। খুব শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানে জটিকা অভিযান চালান হবে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক ও ট্যাক্স লিগ্যাল অ্যান্ড এনফোর্সমেন্টের সদস্য সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশি নাগরিকরা বিদেশি কাজ করতে গেলে আগে ট্যাক্স পরিশোধ করে কাজ করতে হয়। অথচ বাংলাদেশে উল্টো। বিদেশিরা কাজ করলেও সঠিকভাবে কর দিচ্ছে না। তাই বিদেশিদের করজালের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৫টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অনিবন্ধিত ১৫ বিদেশি চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া কর অঞ্চলগুলোকে বিদেশি কর্মী আছে- এমন প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি কর্মীদের ডাটাবেজ তৈরিতে নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একজন কমিশনারকে নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ কমিটি নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করেছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে ডাটাবেজ তৈরির কাজ শেষ করা হবে। নিখুঁতভাবে ডাটাবেজ তৈরির জন্য পুলিশের বিশেষ শাখার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করা হবে। যাতে তাদের তথ্য পাওয়া যায়।

জানা গেছে, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের কাছ থেকে সঠিকভাবে আয়কর আদায় করতে ২০১৬ সালে টাস্কফোর্স গঠন করে এনবিআর। এই টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), এসবি, ডিজিএফআই, এনএসআই, বাংলাদেশ ব্যাংক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেপজা, পাসপোর্ট অধিদফতর, এনজিও ব্যুরো ও এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে কাজের সুবিধার্থে ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলভিত্তিক টাস্কফোর্সকে ভাগ করা হয়।

সূত্র জানায়, বর্তমানে কত বিদেশি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন অথবা কর্মরত আছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান সরকারি কোনো সংস্থার কাছে নেই। তবে এনবিআরের কর অঞ্চল-১১ তে প্রায় ১১ হাজারের মতো বিদেশি রিটার্ন জমা দেন। যা বিদেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের সঙ্গে চরম অসঙ্গতিপূর্ণ। শুধু ভারতে প্রতি বছর ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। এ প্রেক্ষাপটে বিদেশি কর্মীদের করের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হচ্ছে। দেখা গেছে, অধিকাংশ বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে টুরিস্ট ভিসা ব্যবহার করেন। এরপর বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছেন। আবার বিভিন্ন কোম্পানির ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে আসা বিশেষ করে এনজিও, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, গার্মেন্ট, মার্চেন্ডাইজিং, পরামর্শকসহ অন্য বিদেশিদের বেতন-ভাতা গোপন রাখা হচ্ছে। মূলত কর ফাঁকি দিতেই এ কৌশল অবলম্বন করছে দেশীয় নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি গোপন চুক্তি অনুযায়ী বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে মানি লন্ডারিংয়ের আশ্রয় নেয়া হচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাণ মুদ্রা পাচার হচ্ছে। প্রতিবছরই মুদ্রা পাচারের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এছাড়া অবৈধভাবে আসা বিদেশিরা মাদক চোরাচালান ও জাল মুদ্রার ব্যবসার মতো অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। আবার অনেক বিদেশি নাগরিক অন অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে দেশে প্রবেশের পর ঠিকানা পরিবর্তন করে ফেলছেন। ফলে তাদের খুঁজে বের করা যায় না।

টাস্কফোর্সের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানায়, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের প্রকৃত সংখ্যা বের করতে বর্তমানে একটি ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। যেখানে বিদেশি কর্মীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, কর্মস্থলের ঠিকানা, বাংলাদেশে বসবাসের স্থায়ী ঠিকানা, কাজের ধরন, বেতন-ভাতাদির তথ্য ও আয়কর পরিশোধের তথ্য উল্লেখ থাকবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter