মূল্যস্ফীতির পেটে কয়েন

  হামিদ বিশ্বাস ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কয়েন

এক টাকায় শায়েস্তা খাঁর আমলে আট মণ চাল পাওয়া যেত। ৫০ বছর আগে পাওয়া যেত আস্ত একটি মুরগি। গত শতাব্দীর শেষের দিকেও মিলত মুরগির একটি ডিম। এখন বড়জোর পুঁচকে একটা চকলেট।

তাও কোথাও পাবেন, আবার কোথাও পাবেন না। মোদ্দা কথা, অব্যাহত মূল্যস্ফীতির কারণে এক টাকার ক্রয়ক্ষমতা এখন তলানিতে। এই যদি হয় এক টাকার অবস্থা।

তাহলে ৫০ পয়সার অবস্থা কী হবে তা তো সহজেই অনুমেয়। ২৫ ও ১০ পয়সা এখন আর কোথাও দেখা যায় না। ৫ পয়সা ও ১ পয়সার কয়েনের কোনো অস্তিত্বই নেই। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বাজারে ১, ৫, ১০, ২৫, ৫০ পয়সা, ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকা মূল্যমানের কয়েন ছাড়া হয়েছে। এর মধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে ১, ৫, ১০, ২৫ পয়সার কয়েন অনেক আগেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এগুলো এখন আর বাজারে পাওয়া যায় না। আর এগুলো নিয়ে কোনো লেনদেন করাও সম্ভব নয়। কেননা পণ্যমূল্য এসব মুদ্রার অনেক ওপরে।

৫০ পয়সার কয়েন মাছের মধ্যে দেখা গেলেও এটিও এখন অকার্যকর। কারণ এই মুদ্রায় কিছুই পাওয়া যায় না। এগুলো এখন বাজারে পাওয়া না গেলেও মুদ্রা জাদুঘরে আছে। লেনদেনে অকার্যকর হয়ে এখন স্থান পেয়েছে জাদুঘরে। এসব কয়েন বাজার থেকে বিলুপ্তির পথে গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়নি। তবে এগুলো এখন আর মুদ্রণ করা হয় না।

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, বাজার থেকে এসব মুদ্রা হারিয়ে গেলেও অর্থনীতির জন্য তেমন কোনো ক্ষতির কারণ নেই। অর্থনীতির আকার বাড়ছে, বাড়ছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। এসব কারণে বাড়ছে মূল্যস্ফীতির হার। এতে মুদ্রার মান কমে ছোটগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। তবে এর ফলে স্বল্প আয়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৪৭ শতাংশ। উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে পরে তা নামিয়ে আনতে সক্ষম হয় সরকার। গত মার্চে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। প্রতি বছরই এভাবে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। এ হার বাড়ার কারণে পণ্যমূল্য বেড়েছে। ফলে কমেছে মুদ্রা মান। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এসব কারণে ছোট মানের মুদ্রাগুলো এখন লেনদেনে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৭ টাকা ৩০ পয়সা। এখন প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৮৬ টাকা। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমার কারণেও মুদ্রার মানে অবমূল্যায়ন হয়েছে। ১ টাকার কয়েন কিছুটা সচল আছে। ২ টাকার কয়েনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তবে সর্বনিু মানের মুদ্রার মধ্যে এখন ৫ টাকার কয়েনই সবচেয়ে বেশি সচল।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, চার আনা এবং আট আনার প্রচলন এখন বেশি একটা দেখা যায় না। তবে এসব কয়েন আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্তিও করা হয়নি। বর্তমান বাজারে ১, ২ ও ৫ টাকা মূল্যমানের কয়েন বেশি চলে।

জানা গেছে, আগে ২ টাকা পর্যন্ত সরকারি নোট ছিল। ৫ টাকা থেকে ওপরের নোটগুলো ব্যাংক নোট। মূল্যস্ফীতির কারণে ২ টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এখন সরকারের মুদ্রা হচ্ছে ৫ টাকার নোট পর্যন্ত। ৫ টাকা পর্যন্ত সব ধরনের নোট ও কয়েনের মালিক অর্থ মন্ত্রণালয়। ৫ টাকার ওপরে ১০ টাকা থেকে এর মানের মুদ্রাগুলো ব্যাংক নোট। এসব নোটে থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষর। আর ৫ টাকা পর্যন্ত সরকারি নোটে থাকে অর্থ সচিবের স্বাক্ষর। তবে কয়েনে কোনো স্বাক্ষর থাকে না। ১, ২ ও ৫ টাকার কাগুজে নোটে অর্থসচিবের স্বাক্ষর রয়েছে।

মূলত দেশের অর্থব্যবস্থা থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে খুচরা পয়সা। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুদ্র মানের এসব মুদ্রার প্রচলন স্বাভাবিকভাবেই কমে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেশি। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ বিপাকে পড়ছে। একই সঙ্গে এর একটা প্রভাব ব্যবসা-বাণিজ্যেও রয়েছে। এসব কারণে চার আনা-আট আনা পর্যায়ের কয়েনের প্রয়োজনীয়তা ধীরে ধীরে ফুরিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×