দারিদ্র্যবিমোচন ও জীবিকা নিশ্চিতকরণ প্রকল্প

অব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি

আইএমইডির প্রাথমিক প্রতিবেদন : প্রকল্পের শুরুতে বেজলাইন সার্ভে হয়নি * সুফলভোগীদের কোনো ডাটাবেজ হয়নি * মৎস্য অভয়াশ্রমগুলোর আয়তন প্রয়োজনের তুলনায় কম

  হামিদ-উজ-জামান ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দারিদ্র্যবিমোচন

অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এলাকার দারিদ্র্যবিমোচন ও জীবিকা নিশ্চিত করতে হাতে নেয়া একটি প্রকল্পে নানা রকম অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে। এ ক্ষেত্রে ১১ ধরনের ত্রুটির কারণে প্রকল্পটি থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি। তবে কিছুটা সাফল্য এসেছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এসব বিষয় ওঠে এসেছে। চলতি মাসে তৈরি করা হয়েছে প্রকল্পটির দ্বিতীয় খসড়া প্রতিবেদন। এটি আগামী জুনে চূড়ান্ত করা হবে।

সূত্র জানায়, দেশের নদী ভাঙন, বন্যা, খরা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অনগ্রসর যোগাযোগ ব্যবস্থা, অশিক্ষা, জলবায়ুর প্রভাব এবং পর্যাপ্ত শিল্পায়নের অভাবে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বছরে সেপ্টেম্বর-নভেম্বর এবং মার্চ-এপ্রিল এই দুই সময়ে খাদ্য ও কাজের অভাব দেখা দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গাপীড়িত এলাকায় কর্মসংস্থান তৈরির জন্য এ প্রকল্পটি হাতে নেয় সরকার।

২০১০ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত ৬ বছরে এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ৮৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রকল্পটি গ্রহণের উদ্দেশ্য ছিল জলাশয় খনন বা পুনঃখননের মাধ্যমে মৎস্য খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলাভূমির উন্নয়ন, প্রকল্প এলাকার দরিদ্রদের দীর্ঘ মেয়াদি আর্থিক ও স্বচ্ছল জীবনের নিশ্চয়তা প্রদান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দরিদ্রদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মাছের উৎপাদন বাড়িয়ে স্থানীয়দের পুষ্টির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা। প্রকল্পটি রংপুর, দিনাজপুর এবং রাজশাহী অঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত এলাকায় বাস্তবায়ন করা হয়। এটি বাস্তবায়ন করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় মৎস্য অধিদফতর।

আইএমইডির নিয়োগ করা দোবে ইন্টারন্যাশনাল প্রকল্পটির প্রভাব মূল্যায়ন করছে। সংস্থাটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি মঙ্গা দূরীকরণে বেশ সফল ভূমিকা রাখলেও আরও ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু নানা দুর্বল দিকের কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। এরকম ১১টি দুর্বল দিক হচ্ছে, প্রয়োজনীয়তা থাকলেও প্রকল্প শুরুর সময় বেজলাইন সার্ভে করা হয়নি। প্রকল্পভুক্ত সুফলভোগীদের কোনো ডাটাবেজ করা হয়নি। স্থাপিত মৎস্য অভয়াশ্রমসমূহের আয়তন শূন্য দশমিক ৫০ হেক্টর প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে প্রতীয়মান হয়।

খনন বা পুঃখনন করা জলাশয়গুলোর ৫ বছরের জন্য মাছ চাষের মাধ্যমে প্রাপ্ত লাভের ৩০ শতাংশ পুকুর মালিক এবং ৭০ শতাংশ সুফলভোগীদের মাঝে সমভাবে বণ্টনের বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। প্রকল্প থেকে কেনা জালের আকার মাছ ধরার জন্য যথেষ্ট ছিল না। মৎস্য অভয়াশ্রমের সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো গাইডলাইন তৈরি হয়নি।

পোনা মজুদ সংশ্লিষ্ট সমাজভিত্তিক সংগঠন কার্যকরভাবে সক্রিয় না থাকায় পোনা মজুদ কার্যক্রমে ইস্ফিত ফলাফল পাওয়া যায়নি। সমাজভিত্তিক সংগঠনগুলোর নিবন্ধন এবং কোনো ধরনের দাফতরিক ঠিকানা পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের আওতায় সুফলভোগীদের আইডিকার্ড দেয়ার বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। প্রকল্পের এক্সিট প্লান করা হয়নি। এছাড়া অবৈধ জাল বন্ধের জন্য মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা যথেষ্ট ছিল না।

দোবে ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক সবুজ দোবে বলেন, এ প্রতিবেদনটি নিয়ে ন্যাশনাল ওয়ার্কশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে শিগগিরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। তবে আগামী জুনের মধ্যে আইএমইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করবে।

এ প্রসঙ্গে আইএমইডির ভারপ্রাপ্ত সচিব আবুল মনসুর মো. ফায়েজ উল্লাহ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, সমাপ্ত প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত হলে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সুপারিশসহ পাঠিয়ে দেব। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো প্রকল্প হাতে নেয়া হলে সেক্ষেত্রে আইএমইডির সুপারিশগুলো বিবেচনায় নেয়া হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×