বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বসন্তকালীন বৈঠক

পাঁচ ইস্যুতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত উন্নয়ন, বিনিয়োগ, জলবায়ু মোকাবেলাসহ পাঁচ ইস্যুতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে

  মিজান চৌধুরী, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ফিরে ২৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বৈঠক

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত উন্নয়ন, বিনিয়োগ, জলবায়ু মোকাবেলাসহ পাঁচ ইস্যুতে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে।

এর মধ্যে ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা কাটাতে সরাসরি কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আইএমএফ। আর অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছে বিশ্বব্যিাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি)। প্রতিবছর এ সংস্থাটি বাংলাদেশে গড়ে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া জলবায়ু মোকাবেলায় একটি ক্লাইমেট ফান্ড গঠনের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে জি-২০ভুক্ত দেশগুলো।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে শেষ হওয়া বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বৈঠকে এসব প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ। ওই বৈঠকে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সংকট উত্তরণ ও বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতিও পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, ১৫ এপ্রিল বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বৈঠক শেষ হয়েছে। ৮ এপ্রিল শুরু হয় বৈঠকটি। এ বৈঠকে বিশ্বের ১৮৯টি দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গর্ভনরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে ৮০০ সাংবাদিকসহ সাড়ে তিন হাজার প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠক শেষে মূল্যায়ন করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমার প্রথম বৈঠক। এ বছর যে বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে, আগামী দিনে এর ফলোআপ করা যাবে। তবে ব্যাংকিং খাত নিয়ে আলোচনা ভালো হয়েছে। ভ্যাট আইন নিয়ে আমাদের উদ্যোগ আইএমএফকে বোঝাতে পেরেছি। শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় সফর করতে আইএমএফের প্রেসিডেন্ট সম্মত হয়েছেন। সব মিলে এ বৈঠকে অর্জন ভালো হয়েছে।

জানা গেছে, এই বসন্তকালীন বৈঠক থেকে বাংলাদেশ সম্পর্কে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ। বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংক মার্জারসহ আর্থিক খাতে বড় ধরনের সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে বলেছে। সংস্থাটি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর করতে বলেছে।

ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন ধরনের দুর্বলতা ও সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা দূর করার জন্য তাদের সহায়তা চাওয়া হয়। কারণ এসব সমস্যা দূর করতে তাদের কাছে কার্যকরী উপকরণ আছে। এগুলো ব্যবহার করে ব্যাংকিং খাতকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। শিগগিরই তারা স্টাডি করে ব্যাংকিং খাত সফলভাবে পরিচালনার পরামর্শ দেবে। এছাড়া ব্যাংকিং খাত অটোমেশন করতে সব ধরনের প্রযুক্তি সহায়তা দেবে সংস্থাটি। বর্তমান ব্যাংকিং খাতে সারা বিশ্বে সফল হয়েছে ব্লক চেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। সংস্থাটির কাছে এ প্রযুক্তি রয়েছে। এ প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা হয়, প্রযুক্তি কোন দেশ থেকে আনতে হবে- এসব বিষয়ে পরামর্শ দিবে আইএমএফ। এছাড়া পৃথক বৈঠকে আইএফসি প্রত্যেক বছরে একশ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি বাড়বে এবং দারিদ্র্য কমবে।

অপর একটি বৈঠক ভি-২০ আওতায় একটি ক্লাইমেট ফান্ড গঠন করতে সবাই একমত পোষণ করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকট উত্তোরণ এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বড় প্রকল্পে আরও বেশি সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। ফলে আগামী দিনে এসব খাতে সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক এ দাতা সংস্থাটি।

জানা গেছে, উন্নয়নের গতি ধরে রাখতে আগামী দিনে আরও বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। এমন ধারণা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে ওই সম্মেলনে। তবে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করতে বাংলাদেশকে বলা হয়েছে। এ বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, যথাসময়ে এসব প্রকল্প শেষ করা হবে। প্রসঙ্গত, অগ্রাধিকারের প্রকল্পগুলোকে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ নাম দেয়া হলেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। ১০ বড় প্রকল্পের মধ্যে সাতটি প্রকল্পে চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে ২৮ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা হবে। এ আইনটি প্রণয়নের পেছনে অনেক ভূমিকা রয়েছে আইএমএফের। প্রতিটি ক্ষেত্রে লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছে।

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে আইনটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সংস্থাটির সুপারিশ ছিল নতুন ভ্যাট আইনে সিঙ্গেল রেট করতে। অনেক আলোচনার মাধ্যমে সংস্থাটি রাজি হয়েছে ভ্যাটের তিনটি স্তর থাকার বিষয়ে। ফলে আগামী বাজেটে নতুন ভ্যাট হার হবে ৫, ৭.৫ ও ১০ শতাংশ। আগে ছিল ১৫ শতাংশ। সেটি ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। সংস্থাটি তা মেনে নিয়েছে। তবে কাস্টমসের ক্ষেত্রে ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থাকবে। ভোগের দিক থেকে ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থাকবে না। সেটি হবে ১০ শতাংশ। টেকসই উন্নয়নে লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে একটি আর্থিক রূপরেখা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসডিজি বাস্তবায়নে একটি হিসাব করেছে বাংলাদেশ। ওই হিসাব মতে, এক লাখ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে। এসডিজি সংক্রান্ত বৈঠকে ৩৫টি দেশের অর্থমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×