বাজেট বাস্তবায়নের হার কমছে ৫ শতাংশ

  মিজান চৌধুরী ১২ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট বাস্তবায়ন

চলতি বাজেট (২০১৮-১৯) বাস্তবায়ন হার কমছে। যে কারণে বাজেট সংশোধন করে এর আকার কমানো হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কারণ এ সময় রাজস্ব আদায়ও কমেছে, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও ব্যয়ের হার ছিল কম। ফলে মূল বাজেট কমিয়ে সংশোধিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার হচ্ছে ৪ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার মতো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সূত্র মতে, চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা- যা প্রায় ৫ শতাংশ কমছে। মূলত রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার কারণে বাজেটের আকারও কমানো হচ্ছে। এছাড়া উন্নয়ন খাতে ব্যয় কমায় সরকারের অর্থ খরচও কম হচ্ছে। ফলে ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়াও কমেছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, অর্থবছরের শুরুতে যে বাজেট ঘোষণা করা হয় বছর শেষে পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় না। গত কয়েক বছরের বাস্তবায়নের চিত্র দেখে সেটিই প্রমাণ হয়। এর মূল কারণ হচ্ছে, বাজেট বাস্তবায়নে সঠিক মনিটরিং এবং বাস্তবায়নে সক্ষমতার অভাব।

বাজেট বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের উচিত বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়টি মাথায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করা। শুধু ব্যয়ের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আয়কে চাপের মুখে ফেলা হচ্ছে। এতে পুরো বাজেট প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলে। সেদিক বিবেচনা করে আয়ের লক্ষ্যমাত্রার সাপেক্ষে ব্যয় নির্ধারণ করা দরকার। তাহলে বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে।

জানা গেছে, চলতি বাজেটে অনুন্নয়নসহ অন্যান্য ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এ অর্থ দিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, প্রণোদনা ও ভর্তুকি, ঋণের সুদ এবং সেবা খাতে ব্যয় করা হয়ে থাকে। তথ্য মতে, বিগত আট মাসে এসব ক্ষেত্রে ব্যয় করা হয়েছে অর্ধেকের কম।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে ১৪ হাজার কোটি টাকার মতো কাটছাঁটের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

অবশ্য রাজস্ব আদায় পরিস্থিতিও ভালো হয়নি। অর্থবছরের জুলাই-মার্চ পর্যন্ত ৫১ হাজার কোটি রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। যদিও এ সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। এই নয় মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৩ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা। এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা।

জানা গেছে, ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে সরকার বেশি মাত্রায় ঋণ নিচ্ছে। বাজেটে সঞ্চয়পত্রের ঋণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তার চেয়ে বেশি ইতিমধ্যে নেয়া হয়ে গেছে। চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে এ খাত থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি ধার করেছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ৩৫ হাজার ৬০২ কোটি ৪৯ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। অথচ এবারের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। এ বছর সরকার ব্যাংক ব্যবস্থাপনা থেকেও ঋণ কম নিয়েছে। কারণ সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ঋণ নেয়ার কারণে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা থেকে কম ঋণ নিয়েছে।

বাজেট বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসম্বরে উন্নয়ন ব্যয়ের শ্লথগতি বিরাজমান রয়েছে। সরকারের এডিপি বাস্তবায়ন হার বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ এবং ফাস্ট ট্র্যাক ভুক্ত প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করা গেলে উন্নয়ন ব্যয়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×