বেতন-ভাতায় বাজেট বড়

সরকারি চাকরি মেধাবীদের কাছে আকর্ষণীয় করার উদ্যোগ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট

সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের টানতে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। ফলে প্রতিবছরই বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে। উন্নয়ন, অনুন্নয়ন, রাজস্ব ও প্রকল্পসহ সরকারের বেতন-ভাতা খাতে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ হয়।

সব মিলে এ খাতেই সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ থাকে। এর মধ্যে সরকারি বেতন স্কেলে যারা চাকরি করেন, তাদের সুবিধাগুলো বেশি। সরকারি চাকরিকে নতুন প্রজন্মের মেধাবীদের কাছে আকর্ষণীয় করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। ফলে বেতন-ভাতার চাপে বাজেট বড় হচ্ছে। এ কারণে রাজস্ব আয় বাড়ানোর চাপ বাড়ছে।

আগামী অর্থবছরেও সরকারি কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। এরই মধ্যে তাদের গাড়ি কেনার জন্য আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। আবাসন খাতেও রয়েছে বাড়তি সুবিধা। এ সুবিধা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অন্যান্য খাতেও তাদের সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।

মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট বাজেটের মধ্যে বেতন-ভাতা খাতে এখন ২২ থেকে ২৮ শতাংশ অর্থ খরচ হয়। ২০১২-১৩ বছরে এ খাতে মোট বাজেটের মধ্যে খরচ হতো ১২ থেকে ১৪ শতাংশ। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতার প্রায় শতভাগ সরকার থেকে জোগান দেয়ার কারণে এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ২ শতাংশ। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর কারণে এ খাতে খরচ বাড়ছে প্রায় ৪ শতাংশ হারে। এছাড়া প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের পেনশনে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে। এ কারণে পেনশন খাতে বরাদ্দ রাখার পরিমাণও বেড়েছে। এসব মিলে সরকারি খাতের চাকরিজীবীদের ব্যয় বেড়ে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে সরকারি চাকরির চেয়ে বেসরকারি চাকরিতে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আকর্ষণীয় সুবিধা দেয়া হতো। এ কারণে মেধাবীদের একটি বড় অংশ বেসরকারি চাকরিতে চলে যেত। এর মধ্যে মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি, জ্বালানি খাতের কোম্পানি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক কোম্পানি। এর বাইরে মেধাবীদের একটি অংশ বিদেশে চলে যেত। কিছু যেত বহুজাতিক উন্নয়ন সংস্থায়। এসব কারণে সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের পাওয়া যেত কম। এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুটি পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া দেয়া হয় অন্যান্য সুবিধা। এসব কারণে এখন মেধাবী তরুণদের কাছে সরকারি খাতের চাকরি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ও সুবিধাদি আগে কম ছিল। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এখন এটি বেশ বাড়ানো হয়েছে। এটি ভালো। তবে সরকারি খাতের সেবার মান ও কাজের সক্ষমতা বাড়েনি। বেতন-ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি এদিকেও নজর দিতে হবে। প্রতিবেদন বিশ্লষণে দেখা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ ছিল ২৩ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। টাকার অঙ্কে ওই অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়েছে ২ হাজার ৩০২ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ আরও বেড়ে ২৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়, যা আগের বছরের চেয়ে ২ হাজার ৮০২ কোটি টাকা বেশি।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ৩৯ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১১ হাজার ১২১ কোটি টাকা বেশি। ওই বছরে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় এ খাতে বরাদ্দ বেশি রাখতে হয়েছে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৯ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় বেড়ে ৫৬ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা হয়, যা আগের বছরের চেয়ে ৬ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৬ হাজার ২২৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৯ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা বেশি।

বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও গ্রাচুইটি খাতে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৬ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে রাখা হয়েছিল ২২ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ কমিয়ে ১৩ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাতে খরচ হয়েছিল ২১ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। মোট বাজেটে সাড়ে ৫ শতাংশ খরচ হচ্ছে এ খাতে। এর বাইরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য দেশের ভেতরে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ ও ভ্রমণেও অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এসব খাতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে চলতি অর্থবছরে।

সরকারি কর্মচারীদের বাইরে অন্যান্য খাতের কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও ভ্রমণ সুবিধা দিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×