কঠোর অবস্থানে বিএসইসি

৪৭ কোম্পানির ১৬৮ পরিচালকের ন্যূনতম শেয়ার নেই

প্রত্যেক পরিচালকের কমপক্ষে ২ শতাংশ শেয়ার থাকা বাধ্যতামূলক

  মনির হোসেন ২৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেয়ার

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে উদ্যোক্তাদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ এবং পরিচালকের ব্যক্তিগতভাবে ২ শতাংশ শেয়ার থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তালিকাভুক্ত ৪৭টি কোম্পানিতে উদ্যোক্তাদের ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই।

আবার এসব কোম্পানিতে ১৬৮ জন পরিচালক ন্যূনতম শেয়ার ছাড়াই পদে বহাল আছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় ডেল্টা স্পিনার্স। ২৮ জন পরিচালকের এ কোম্পানিতে ২৫ জনের ২ শতাংশ শেয়ার নেই। তবে এবার সব পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। শেয়ার না থাকলে পদ হারাবেন। আর উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে। না হলে ওই কোম্পানির ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আইন লঙ্ঘন করলে ওইসব কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আইন অনুসারে শেয়ার ধারণ বাধ্যতামূলক। আর শেয়ার না থাকলে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তিনি বলেন, শেয়ার কম থাকলে পরিচালকদের দায় কম থাকে। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে বাজারে সমস্যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট। এই সংকট কাটাতে আইনকানুনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দরকার।

জানা গেছে, সিকিউরিটিজ আইন অনুসারে প্রত্যেক কোম্পানিতে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ এবং পরিচালকদের ব্যক্তিগতভাবে ২ শতাংশ শেয়ার থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বাধ্যবাদকতা মানছে না শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৪৭টি কোম্পানি। এসব কোম্পানিতে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার ৩০ শতাংশের কম। এর মধ্যে কোনো কোম্পানিতে মাত্র ১ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তাদের। বাকি ৯৯ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিক সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। অথচ এই স্বল্প পরিমাণ শেয়ার দিয়ে উদ্যোক্তারা পুরো কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করছে। অর্থাৎ তারাই এই কোম্পানির মালিক। ফলে এসব কোম্পানি দেউলিয়া হলেও উদ্যোক্তারা খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। এ কারণে ওই কোম্পানির প্রতি মালিকপক্ষের দায়বদ্ধতা কম। আইন লঙ্ঘন করে কয়েকটি কোম্পানি আবার রাইট শেয়ারও ঘোষণা করেছে। এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে অস্থিরতার পর টনক নড়েছে বিএসইসির। এরপর কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হল।

কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএসইসি। তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানিতে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার না থাকলে ওই কোম্পানির কোনো উদ্যোক্তা বা পরিচালক এখন থেকে শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না। এমনকি কোনো শেয়ার হস্তান্তর বা ঋণ নেয়ার জন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধকও রাখতে পারবেন না। পাশাপাশি কোনো কোম্পানি অথবা প্রতিষ্ঠান কোনো কোম্পানির ২ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার ধারণ করলে সেই কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান ওই কোম্পানির পরিচালক পদের জন্য একজন ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারবে। এ ছাড়াও ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থতায় কোনো পরিচালকের পদ শূন্য হলে শূন্য হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছেন- এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে শূন্য পদে পরিচালক নিয়োগ দেবে। আর ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কোম্পানির জন্য স্টক এক্সচেঞ্জে আলাদা ক্যাটাগরি চালু করা হবে।

স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্র জানায়, ৪৭টি কোম্পানিতে উদ্যোক্তাদের ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই। ব্যক্তিগতভাবে শেয়ার খেলাপির তালিকায় রয়েছেন ১৬৮ জন। ডেল্টা স্পিনার্সের উদ্যোক্তাদের সম্মিলিতভাবে শেয়ার ১৮ শতাংশ। এছাড়া ২৮ জন পরিচালকের এ কোম্পানিতে ২৫ জনের ২ শতাংশ শেয়ার নেই। আবদুল আউয়াল মিন্টুর মালিকানাধীন দুলামিয়া কটনের ১২ পরিচালকের মধ্যে ৯ জনের ২ শতাংশ শেয়ার নেই। এ ছাড়াও ন্যূনতম শেয়ার ছাড়া যেসব কোম্পানিতে বেশি পরিচালক রয়েছেন, পিপলস লিজিংয়ে ১৮, কে অ্যান্ড কিউতে ১১, এর মধ্যে নর্দান জুটেক্সে ৮ জন, মিথুন নিটিংয়ে ৬ জন, পিপলস ইন্স্যুরেন্সে ৫ জন, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ৬, উত্তরা ব্যাংকে ৫, ফুয়াং ফুডে ৩, ম্যাকসন্স স্পিনিং ৬, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ৮, তাল্লু স্পিনিংয়ে ৫, কনফিডেন্টস সিমেন্টে ৩, পিপলস ইন্স্যুরেন্সে ৫, ইনটেক অনলাইনে ৮, ফুয়াং সিরামিক ৪, অ্যাপোলো ইস্পাতে ৩ এবং বেলিজিংয়ের ৫ জন পরিচালকের ২ শতাংশ শেয়ার নেই।

জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক মো. রকিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, যারা শেয়ার ছাড়া কোম্পানির মালিকানা ধরে রেখেছেন, তাদের বিএসইসির পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষে সর্বোচ্চ থেকে সহায়তা করা হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি কাজ করার জন্য এরই মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন সম্মিলিতভাবে একটি প্লাটফর্মে মিলিত হয়েছে। এ প্লাটফর্ম বাজারের উন্নয়নে কাজ করবে। এর মধ্যে শেয়ার ধারণের বিষয়টি অন্যতম একটি ইস্যু। তিনি বলেন, এর আগে বেশকিছু কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করে শেয়ার বিক্রি করেছে। এসব কোম্পানির বিরুদ্ধেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×