২৪ ধাপ পেরিয়ে এডিপি যায় জাতীয় সংসদে

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এডিপি

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) তৈরিতে পেরুতে হয় ২৪ ধাপ। এর মধ্যে অনুমোদন পর্যন্ত ২২ ধাপ এবং অনুমোদনের পর দুটি ধাপ পার করতে হয়। শুরু থেকে জাতীয় সংসদে পাঠানো পর্যন্ত এসব ধাপে কার্যক্রম সম্পন্ন করে পরিকল্পনা কমিশন।

এ সময় সংশ্লিষ্টদের দিন কাটে ব্যাপক ব্যস্ততার মধ্যদিয়ে। হিসাব মেলাতে গিয়ে কখনও কখনও অফিস সময়ের বাইরে রাতেও কাজ করতে হয়। আগামী অর্থবছরের (২০১৯-২০) এডিপি তৈরির কর্মপরিকল্পনা এবং এডিপি প্রণয়নের সঙ্গে যুক্তদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম যুগান্তরকে বলেন, এডিপি তৈরিতে সব কিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করা হয়। বিশেষ করে প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ এবং নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অনেক কিছুই বিবেচনা করা হয়। তবে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে যেসব প্রকল্প প্রস্তাব আসে সেগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে চলমান পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রেক্ষিত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে কি না, সেটি যাচাই-বাছাই করে পরিকল্পনা কমিশন। এভাবেই নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় এডিপি তৈরিতে।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ সূত্র জানায়, এডিপি তৈরির প্রথম ধাপ হচ্ছে নির্দেশিকা প্রণয়ন করা এবং সেটি পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে জারি করা। এরপরই খাতওয়ারি বা প্রকল্পওয়ারি প্রকল্প সাহায্য (বৈদেশিক সহায়তা) এবং জাপানি ঋণ মওকুফ সহায়তা তহবিল (জেডিসিএফ) তালিকা ও বরাদ্দ দেয়ার জন্য অর্থনেতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দেয়া। তারপর উন্নয়ন সহায়তা বরাদ্দ বাবদ চাহিদা মতো বরাদ্দ পাঠানোর জন্য যথাক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দেয়া হয়। এডিপির আকার বা অর্থায়ন জানানোর জন্য অর্থ বিভাগে চিঠি দেয় কার্যক্রম বিভাগ। এরপরই বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব (বিনিয়োগ) এবং বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্র্থে বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তি প্রস্তাব সংস্থা (প্রকল্প প্রস্তাব করা সংস্থা) থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে প্রেরণ করা হয়। এসব তথ্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে পরিকল্পনা কমিশনের সেক্টরে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে সেক্টরগুলো থেকে মতামতসহ পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগে পাঠাতে হয়। এডিপি নির্দেশিকা অনুযায়ী সব প্রকল্পের বরাদ্দ প্রস্তাব ও অন্যান্য তথ্যাবলী সংস্থাগুলো থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে প্রেরণ করতে হয়। ইআরডি থেকে প্রকল্প সাহায্যের পরিমাণ এবং জেডিসিএফ বরাদ্দ সেক্টরে পাঠানো হয়। এছাড়া এডিপির নির্দেশিকা অনুযায়ী সব অনুমোদিত প্রকল্প বরাদ্দ প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেক্টর থেকে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগে পাঠানো হয়। উন্নয়ন সহায়তা বাবদ চাহিদা বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে কার্যক্রম বিভাগে পাঠানো হয়। বাছাই করা নতুন প্রকল্পের ওপর আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রোগ্রামিক কমিটির সভা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কার্যক্রম বিভাগ। এরই মধ্যে অর্থ বিভাগ থেকে এডিপির আকার বা অর্থায়ন সংক্রান্ত পত্র পায় কার্যক্রম বিভাগ।

এ পর্যায়ে অর্থ বিভাগ ও ইআরডি থেকে প্রাপ্ত অর্থায়ন বা সম্পদ এডিপিভুক্ত ১৭টি সেক্টরের অনুকূলে বরাদ্দ বণ্টন করে পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদন সাপেক্ষে সেক্টরে পাঠানো হয় (দ্বিতীয় কল নোটিশ প্রাপ্তি)। নতুন অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প তালিকা ও বরাদ্দ বিভাজন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে অনুমোদনের সুপারিশ দেয়ার জন্য পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। ওই সভার পরই পরিকল্পনা কমিশনের সেক্টরগুলো থেকে প্রাপ্ত প্রকল্পওয়ারি স্থানীয় মুদ্রা ও বৈদেশিক সহায়তা বরাদ্দ যাচাই-বাছাই করে খসড়া এডিপি মুদ্রণের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। এনইসি সভার জন্য সারসংক্ষেপ প্রণয়ন এবং মুদ্রিত খসড়া এডিপি এনইসি-একনেক সমন্বয় অনুবিভাগে পাঠিয়ে দেয় কার্যক্রম বিভাগ। এ পর্যায়ে এডিপি তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং চূড়ান্ত প্রক্রিয়া হচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে খসড়া এডিপি উপস্থাপন এবং অনুমোদন। এ সভায় প্রধানমন্ত্রী ও এনইসির চেয়ারপারসন সভাপতিত্ব করেন।

এনইসিতে অনুমোদনের পর দুটি প্রক্রিয়া হচ্ছে- এনইসি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খসড়া এডিপিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের (যদি থাকে) জন্য পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সেক্টরে সহায়তায় তা সংশোধন করা হয়। চূড়ান্ত মুদ্রনের জন্য সংশোধিত কপি পাঠানো হয় বিজি প্রেসে। বিজি প্রেস থেকে চূড়ান্ত মুদ্রিত কপি বাজেট অধিবেশনের জন্য জাতীয় সংসদে পাঠানোর মধ্যদিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কাজ শেষ হয়। আর এভাইে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে তৈরি হয় জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার উন্নয়ন বাজেটের মূল অংশ এডিপি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×