শেয়ারবাজারে বড়ই দুর্দিন

শেয়ারবাজারে লেনদেনে মন্দা কাটছে না। যদিও নির্বাচনের পর ইতিবাচক হয়েছিল বাজার। এ সময়ে বাজারের লেনদেনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছিল। হাজার কোটি টাকার উপরে ছিল ডিএসইর লেনদেন। তবে বর্তমানে তা আবার ছন্দপতন হয়েছে। বিশেষ করে নতুন অর্থবছরে বাজারের অবস্থা বেশি খারাপ। এসব নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন-

  মনির হোসেন ২১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন অর্থবছরের (২০১৯-২০) শুরুতেই শেয়ারবাজারে বড়ই দুর্দিন নেমে এসেছে। অর্থবছরের ১৩ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) গড় লেনদেন ৪০২ কোটি টাকা। এছাড়াও প্রতিদিন কমছে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম। ফলে ৫ হাজার ১০০ পয়েন্টে নেমে এসেছে ডিএসইর মূল্যসূচক। নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে আসছে না। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো ভালো লভ্যাংশ দিচ্ছে না। সবকিছু মিলে শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি চরম নাজুক।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট ছিল। এখনও তা কাটেনি। আর আস্থার সংকট না কাটলে বাজার ইতিবাচক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। তিনি আরও বলেন, বাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে প্রণোদনার কথা আসছে। কিন্তু প্রণোদনা দিলে বাজার সাময়িকভাবে উপকৃত হয়। এটি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। তার মতে, দেশের শেয়ারবাজার অবমূল্যায়িত। কিন্তু বিনিয়োগ হুজুগে মাতে। এতে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজার অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ফলে প্রণোদনার পরিবর্তে এখানে আইন-কানুন সংস্কার জরুরি। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্য সব সূচক এগিয়ে গেলেও শেয়ারবাজার পিছিয়েছে। কিন্তু শেয়ারবাজার পিছিয়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনাও ঘটেনি।

নির্বাচনের পর ইতিবাচক হয়েছে বাজার। এ সময়ে বাজারের লেনদেনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছিল। হাজার কোটি টাকার উপরে ছিল ডিএসইর লেনদেন। একই অবস্থা মূল্যসূচক ও বাজার মূলধনের ক্ষেত্রে। তবে বর্তমানে তা আবার ছন্দপতন হয়েছে। বিশেষ করে নতুন অর্থবছরে বাজারের অবস্থা বেশি খারাপ। ২ জুলাই ডিএসইর মূল্যসূচক ছিল ৫ হাজার ৩৮৪ পয়েন্ট। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা কমে ৫ হাজার ১৩০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এছাড়াও ২ জুলাই লেনদেন ছিল ৪৮২ কোটি টাকা। বর্তমানে ৪০০ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে। আলোচ্য সময়ে ১৩ কার্যদিবসে ডিএসইতে ৫ হাজার ২২৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এ হিসাবে প্রতিদিনের গড় লেনদেন ৪০২ কোটি টাকা।

একটি খাত দিয়েই শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সহজেই বোঝা যায়। একক খাত হিসেবে শেয়ারবাজারে সবচেয়ে শক্তিশালী হল ব্যাংক। কিন্তু বর্তমানে একটি সিগারেটের দামে ৪টি ব্যাংকের শেয়ার পাওয়া যাচ্ছে। দেশে বর্তমানে একটি বেনসন সিগারেটের দাম ১৩ টাকা। আর আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দাম ৩ টাকার কিছুটা বেশি। ওই হিসাবে ১টা সিগারেটের দামেই ৪টি ব্যাংকের শেয়ার পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও অভিহিত মূল্যের নিচে রয়েছে আরও ৫টি ব্যাংকের শেয়ার। এগুলো হল- এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। এছাড়াও অভিহিত মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে এক্সিম ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ার। বাকি ব্যাংকগুলোর দামও অভিহিত মূল্যের কাছাকাছি। বাকি খাতগুলোর অবস্থা আরও ভয়াবহ।

একক সপ্তাহ হিসাবে গত সপ্তাহে ৫ দিনে ডিএসইতে ১ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩২৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে ৫ দিনে ২ হাজার ১১২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। প্রতিদিন গড়ে ৪২২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। এ হিসাবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৪৭৬ কোটি টাকা। আর প্রতিদিন গড়ে লেনদেন কমেছে ৯৫ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে যা সাড়ে ২২ শতাংশ কম। আলোচ্য সময়ে মূল্যসূচক ৯১ পয়েন্ট কমেছে।

এদিকে সপ্তাহজুড়ে শীর্ষ দশ কোম্পানির ৩৯৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৫ শতাংশের বেশি। একক কোম্পানি হিসাবে গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ফরচুন সুজ। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির ৯৬ কোটি টাকা। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের লেনদেন ৫০ কোটি টাকা। গ্রামীণফোন ৩৫ কোটি টাকা। সিনোবাংলা ৩৩ কোটি টাকা, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স ৩২ কোটি, রয়েল টিউলিপ সি পার্ল ৩০ কোটি, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৩০ কোটি, বিকন ফার্মা ৩০ কোটি, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৩০ কোটি, মন্নু সিরামিক ২৮ কোটি এবং ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের ২৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×