ব্যাংকের নজর এখন সবুজ অর্থায়নে

  হামিদ বিশ্বাস ২১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবুজ অর্থায়ন বা গ্রিন ফাইন্যান্স বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথম দিকে ব্যাংকগুলোর অনীহা থাকলেও এখন তারাও এদিকে নজর দিয়েছে। ফলে বাড়ছে সবুজ প্রকল্পে অর্থায়নের পরিমাণ। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, চামড়াজাত শিল্প, সিরামিক এসব খাতে এখন গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে। ক্রেতাদের চাপ, প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনের জন্য উদ্যোক্তারাও এখন সবুজ ফ্যাক্টরি করার দিকে ঝুঁকছে। এ ধরনের কারখানা করতে প্রথমে বিনিয়োগের পরিমাণ বেশি লাগলেও পরে এ থেকে সুফল পাওয়া যায়।

একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হতে হলে সবুজ অর্থায়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হচ্ছে। অন্যথায় তারা আন্তর্জাতিক রেটিংয়ে পিছিয়ে পড়ছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও সবুজ অর্থায়ন বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে তাগাদা দেয়া হয়েছে। এ খাতে অর্থায়ন করতে ২০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। এ তহবিল থেকে ব্যাংকগুলোকে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। ব্যাংকগুলো সে অর্থ ৯ শতাংশ সুদে বিনিয়োগ করছে।

চলতি বছরের (জানুয়ারি-মার্চ) প্রথম ৩ মাসে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৩০৪ কোটি টাকার সবুজ অর্থায়ন করেছে। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৪০ কোটি টাকা। সে হিসাবে ১ বছরের ব্যবধানে সবুজ অর্থায়ন বেড়েছে ৬৪ কোটি টাকা।

সবুজ অর্থায়ন বলতে পরিবেশবান্ধব উপায়ে কারখানা স্থাপন বা স্থাপিত কারখানায় বিতরণ করা ঋণকে বোঝানো হয়। বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা, সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল, দিনে সূর্যের আলোয় কাজ করা যায় এমনভাবে ভবন নির্মাণ, বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা এবং কাগজের তুলনামূলক কম ব্যবহারসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে স্থাপিত কারখানাকে পরিবেশবান্ধব বলা হয়। একই সঙ্গে এসব কারখানায় সবুজ গাছপালার সমারোহ থাকতে হবে যা অক্সিজেনের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকে। পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ, কারখানার শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা, জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলার জন্যই এ ধরনের কারখানা স্থাপনকে বিশ্বব্যাপী অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন পক্ষের চাপের কারণে বর্তমানে তৈরি পোশাকসহ দেশের বেশিরভাগ কারখানা গ্রিন প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে। কেননা গ্রিন ফ্যাক্টরি হলে একদিকে যেমন পরিচালন ব্যয় কমে যায়, তেমনি বিদেশি ক্রেতারা আকৃষ্ট হন বেশি। ফলে রফতানির পরিমাণ বেড়ে যায়।

বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম রেজা ফরহাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, পরিবেশবান্ধব উপায়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে এখন আকর্ষণীয় নানা ‘ঋণ প্রোডাক্ট’ চালু করেছে বিভিন্ন ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে এ খাতে ঋণ দিয়ে আসছে ব্র্যাক ব্যাংক। সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থাপিত কারখানায় ঋণ দিতে ব্র্যাক ব্যাংকের মাত্র ৬ শতাংশ সুদের একটি ঋণ কর্মসূচি রয়েছে। এ খাতে ঋণ বিতরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানাভাবে উৎসাহিত করে আসছে। সব মিলিয়ে সবুজ অর্থায়ন বাড়ছে।

অনেক আগে থেকেই ব্যাংকগুলোর রেটিং দেয়ার ক্ষেত্রে সবুজ অর্থায়ন বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। ২০১৬ সালের মে মাসে এক নির্দেশনার মাধ্যমে ঋণ বিতরণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সব নতুন স্থাপনায় বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা, সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল ও বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নতুন স্থাপনা নির্মাণের সময়ও বাধ্যতামূলকভাবে এসব ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যমান নিজস্ব স্থাপনায় এসব ব্যবস্থা সম্পন্ন করার জন্য বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে ২০১৮ সাল ও সরকারি ব্যাংকগুলোকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। মূলত সবুজ অর্থায়নে জোর দিতেই এসব ব্যবস্থা নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ঋণ বিতরণ করেছে ২৩ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবুজ অর্থায়ন খাতে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৩০৪ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৮ সালের জানুয়ারি-মার্চে ২৪০ কোটি টাকা, এপ্রিল-জুনে ২৪৯ কোটি টাকা, জুলাই-সেপ্টেম্বরে ২৫৮ কোটি টাকা এবং অক্টোবর-ডিসেম্বরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সবুজ খাতে অর্থায়ন করেছে ২৩৭ কোটি টাকা।

সৌর বিদ্যুৎ প্যানেলে চলছে ৫৮০ শাখা : ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার ৫৯৬টি শাখার মধ্যে বর্তমানে সৌর বিদ্যুতে চলছে ৫৮০টি শাখা। ৬ হাজার ৯৫৩টি এটিএম বুথের মধ্যে বর্তমানে সৌর বিদ্যুতে পরিচালিত হচ্ছে ৯৪টি এটিএম বুথ। বাংলাদেশ ব্যাংককেও সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে।

অনলাইন শাখা বেড়েছে : সরকারি ব্যাংকগুলোর নানা সীমাবদ্ধতার পরও বাড়ছে অনলাইন শাখা। মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান ১০ হাজার ৩২১টি শাখার মধ্যে ৯ হাজার ২৩১টি বা ৮৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ শাখা অনলাইনের আওতায় এসেছে। অনলাইন শাখায় হিসাব রয়েছে ৯ কোটি ৭৫ লাখ ৬২ হাজার ৮৩৭টি। বর্তমানে বিদেশি মালিকানার ব্যাংকে শতভাগ এবং বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ শাখা রয়েছে অনলাইনের আওতায়। রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের ৯৮ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং সরকারি বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের ২৮ দশমিক ১৩ শতাংশ শাখা অনলাইনের আওতায় এসেছে। সরকারি মালিকানার তিন বিশেষায়িত ব্যাংকের ১ হাজার ৪১৫টির মধ্যে ৩৯৮টি শাখা অনলাইনের আওতায় এসেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৩ হাজার ৭৫৮টির মধ্যে ৩ হাজার ৬৮৮টি শাখা এখন অনলাইনের আওতায় এসেছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×