চামড়া রফতানিতে মন্দা

বৈশ্বিক বাজার ধরতে বাংলাদেশকে পরিবেশ রক্ষা করে চামড়া উৎপাদন করতে হবে এবং তা থেকে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করে রফতানি করতে হবে

  ইয়াসিন রহমান ২১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রণোদনা বাড়িয়ে, আধুনিক চামড়া শিল্প নগরী স্থাপন করে ও প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করেও চামড়া খাতে রফতানি আয় বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। গত কয়েক বছর ধরেই এ খাতে রফতানি আয়ে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনে ব্যর্থতার কারণেই মূলত দেশ থেকে চামড়া রফতানি

কমে যাচ্ছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বিপরীতে রফতানি আয় ধরা হয়েছিল ১১২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ১০২ কোটি ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রফতানি হয়েছিল ১ হাজার ৮৫ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রফতানি আয় কমেছে ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরের তুলনায় কমেছে ৬ শতাংশ।

এর মধ্যে চামড়া রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্জিত হয়েছে ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে ১০ শতাংশ কম। চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪ কোটি ডলার। অর্জিত হয়েছে ২৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। ঘাটতি হয়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। জুতা রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ কোটি ডলারের। এর বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ৬০ কোটি ৭৯ লাখ ডলার- যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ শতাংশের কিছু বেশি।

বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া খাতকে প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল। রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যে এ খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। এছাড়া আগে এ খাতে রফতানির বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে নগদ ভর্তুকি দেয়া হতো। এখন দেয়া হচ্ছে ১০ শতাংশ। ক্রেতাদের শর্ত পালন করতে চামড়া শিল্পকে সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ খাতে ব্যাংক ঋণ বিতরণের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। সব মিলে এ খাতকে এবার বেশ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তারপরও রফতানির পালে হাওয়া লাগানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়াজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে এর বাজার। চীন, ইতালিসহ অনেক দেশের রফতানিও বাড়ছে। কিন্তু বাংলাদেশের রফতানি আয় কমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রফতানি আয় হয় তৈরি পোশাক খাত থেকে। মোট রফতানি আয়ের ৮৪ শতাংশ আছে এ খাত থেকে। যদিও এর বড় অংশই চলে যাচ্ছে ব্যাক টু ব্যাক এলসির আড়ালে আমদানি বাবদ। ফলে প্রকৃত রফতানির পরিমাণ খুব কম। এদিকে চামড়া খাতে দ্বিতীয় সবচেয়ে বেশি রফতানি আয় হয়। মোট রফতানি আয়ের ৭ শতাংশ। এ খাতে ব্যাক টু ব্যাক এলসির পরিমাণ খুবই কম।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩৮ কোটি ডলার। আয় হয়েছিল ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলার কম আয় হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু চামড়া রফতানি থেকে আয় হয়েছে মাত্র ১০ কোটি ৩১ লাখ ডলার। চামড়াজাত পণ্য খাতে ৫৪ কোটি ডলারের বিপরীতে ৩৩ কোটি ৬৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। ফুটওয়্যার সামগ্রীতে ৬০ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ৫৬ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

দেশীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, চামড়াজাত পণ্যের রফতানি আয় বাড়ানোর বড় সুযোগ আছে। তবে বৈশ্বিক বাজার ধরতে বাংলাদেশকে পরিবেশ রক্ষা করে চামড়া উৎপাদন করতে হবে এবং তা থেকে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করে রফতানি করতে হবে। তারা জানান, বাংলাদেশের চামড়ার মান বেশ ভালো। মানের দিক দিয়ে ইউরোপের চামড়া বিশ্বে সেরা। এরপরই পাকিস্তান ও বাংলাদেশের চামড়া। চামড়াজাত পণ্যের বৈশ্বিক বাজার ধরতে হলে পরিবেশবান্ধব উপায়ে চামড়া উৎপাদন করে তা দিয়ে পণ্য তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশের চামড়ার ব্যাগজাতীয় পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার চীন। বেলজিয়াম, হংকং, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, স্পেন ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে বেশ ভালো পরিমাণে রফতানি হয় ব্যাগজাতীয় পণ্য। আর চামড়ার জুতার সবচেয়ে বড় বাজার জার্মানি। এ ছাড়া কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণে রফতানি হয় বাংলাদেশের চামড়ার জুতা। এমনকি পণ্যের মান নিয়ে খুঁতখুঁতে দেশ জাপানেও বাংলাদেশি চামড়ার ব্যাগ ও জুতার চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে পাকা চামড়া ও জুতার পাশাপাশি এখন ট্রাভেল ব্যাগ, বেল্ট, ওয়ালেট বা মানিব্যাগ বিদেশে রফতানি হচ্ছে। এছাড়াও চামড়ার তৈরি নানা ‘ফ্যান্সি’ পণ্যেরও চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে প্রচুর হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলো এসব পণ্য তৈরি করে বিশ্বের বাজারে পাঠাচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×