বিশ্ববাজারে চামড়াজাত পণ্যের অর্ধেক চীনের দখলে

  ইকবাল হোসেন ২১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চামড়াজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে। বর্তমানে এ বাজারের আকার প্রায় ২৪ হাজার কোটি ডলারের। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ। বৈশ্বিক এ রফতানি বাজারে শীর্ষস্থানে রয়েছে চীন। বিশ্বের মোট বাজারের প্রায় ৫০ শতাংশই দেশটির দখলে। ১৭ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় ইতালি। বৈশ্বিক রফতানিতে তৃতীয় ফ্রান্স, দেশটির দখলে ১০ শতাংশ। ৬ শতাংশ নিয়ে চতুর্থ ভিয়েতনাম। বিশ্ববাজারে ভারত ৩ শতাংশ রফতানি করছে, দেশটির অবস্থান পঞ্চম।

বৈশ্বিক চামড়াজাত পণ্যবাজার নিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান টেকনাভিওর এক সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘বৈশ্বিক চামড়াজাত পণ্যের বাজার : ২০১৭-২১’ শীর্ষক সমীক্ষাটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। পণ্যবাজার গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিশ্বে চামড়াজাত পণ্য কেনাবেচা হয়েছে প্রায় ২৪ হাজার ২৪৩ কোটি ডলারের। বাজারের এ আকার ২০২১ সালে ২৭ হাজার ১২১ কোটি ডলারে উন্নীত হবে। বছরে গড়ে ৫ শতাংশ হারে বাড়বে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এ সময় বৈশ্বিক জুতা ও স্যান্ডেলের বাজারের আকার ছিল ১২ হাজার ৬৯৯ কোটি ডলারের।

টেকনাভিওর বাজার সমীক্ষার সঙ্গে বাংলাদেশের সর্বশেষ রফতানি আয়ের তুলনা করলে দেখা যায়, মোট বৈশ্বিক বাজারের শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ বাংলাদেশ দখলে নিতে পেরেছে। বেশিরভাগই রফতানি করছে চীন। বাংলাদেশের রফতানি আয় কমলেও বাড়ছে ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের। ২০১৭ সালে ভিয়েতনাম চামড়া ও পাদুকা রফতানি করে ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার আয় করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চামড়া খাতে ভারতের রফতানি আয় হয়েছে ৫৭৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৯ কোটি ডলার বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক দশক আগে বৈশ্বিক চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বাজারের ৬০ শতাংশ ছিল চীনের দখলে। তবে ২০১৩ সাল থেকে চীনের হিস্যা ৭-৮ শতাংশ করে কমছে। তবে চীনা কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন থেকে সরে যাচ্ছে। দেশটিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক নামিদামি ব্র্যান্ডই কম খরচে পণ্য পেতে ঝুঁকছে ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দিকে। ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তান এ সুযোগ কাজে লাগালেও বাংলাদেশ তেমন পারছে না। এজন্য দেশের চামড়া খাতসংশ্লিষ্টরা বেশ কয়েকটি সমস্যার কথা বলছেন।

এগুলো হচ্ছে- চামড়া প্রক্রিয়াকরণে পরিবেশ দূষণ, রফতানিতে লিডটাইম বা পণ্য তৈরি করে জাহাজিকরণ করতে সময় বেশি লাগে, এ দেশে পণ্য বৈচিত্র্যের অভাব, শ্রমিকের দক্ষতায় ঘাটতি এবং কারিগরি জ্ঞানের অভাব। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি আয়ের উৎস চামড়া শিল্প হলেও এ খাতে খরা কাটছে না। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি নিয়েই শেষ হয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি। এ সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে ১০১ কোটি ৯৮ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×