তামাক নিয়ন্ত্রণের খসড়া নীতি প্রণয়ন

সিগারেটে এক স্তরের কর কাঠামো

নতুন কারখানার লাইসেন্স দেয়া হবে না * ই-সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধ হবে

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিড়ি-সিগারেটের ওপর একাধিক স্তরের পরিবর্তে এক স্তরের কর কাঠামো আরোপের বিধান আসছে। একই সঙ্গে এই খাতে প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট কর কাঠামো আরোপ করা হচ্ছে। সিগারেটের চাহিদা কমিয়ে আনতে প্রতিবছর তামাকজাত পণ্যের দাম আগ্রাসীভাবে বাড়ানো হবে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের কাছে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ই-সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধ করা হবে।

এসব বিধান রেখে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতির খসড়া তৈরি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। ইতিমধ্যে খসড়া নীতিমালার ওপর মতামত দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়গুলোর মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভের (গ্যাটস) ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ তামাক সেবন করে। এ হিসাবে দেশে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ কোটি ৭৮ লাখ। এর মধ্যে ধূমপানের মাধ্যমে তামাক গ্রহণ করেন ১ কোটি ৯২ লাখ ও ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ। ধোয়াবিহীন তামাক ব্যবহারের প্রবণতা নারীদের মধ্যে বেশি। তাছাড়া বাংলাদেশের প্রাপ্ত বয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৩৯ শতাংশ (প্রায় ৮ কোটি ৮ লাখ) মানুষ বাসায়, ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ কর্মস্থলে এবং ৪৪ শতাংশ (প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ) মানুষ পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন।

অন্যদিকে গ্লোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো সার্ভে (জিওয়াইটিএস) ২০১৩ সালের তথ্য মতে, বাংলাদেশের ১৩-১৫ বছর বয়সী বিদ্যালয়গামী ছেলেমেয়ে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ (ছেলে ৯ দশমিক ২ শতাংশ ও মেয়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশ) তামাক ব্যবহার করে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতির (চিকিৎসা ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা হারানো) পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরের তামাক খাতে রাজস্ব আয় হয়েছিল ২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এছাড়া পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪২ দশমিক ৪৬ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে- যা দেশের অর্থনীতি তথ্য খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, বনজসম্পদ, পরিবেশ, মাটির স্বাস্থ্যসহ সব কিছুতেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এসব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে খসড়া নীতিমালাটি করা হয়েছে। এতে ২০২৫ সালের মধ্যে অপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর তামাক ব্যবহার শুরুর প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা, ২০৩০ সালের মধ্যে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে জনগণকে সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করা এবং ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকের ব্যবহার নির্মূলের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। খসড়া নীতিমালায় তামাক পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহ কমাতে মোট ১৩টি পদক্ষেপ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ও মাথাপিছু আয়ের চেয়ে প্রতিবছর সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা। এ জন্য বহুস্তরবিশিষ্ট কর কাঠামোর পরিবর্তে একস্তর বিশিষ্ট কর কাঠামো ও অ্যাডভোকেট ভ্যালোরেম পদ্ধতিতে করারোপের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট করারোপ করা। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের টোব্যাকো ট্যাক্স সেলকে শক্তিশালী করা এবং স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ৫ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও নীতিমালায় সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে ছবিযুক্ত সর্তকবাণী ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৯০ শতাংশ ব্যবহার ও খুচরা তামাকজাত পণ্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে। সরবরাহ কমাতে তামাক খাতে বিদেশি বিনিয়োগ নিষিদ্ধ এবং নতুন দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে তামাকজাত পণ্য উৎপাদনে লাইসেন্স না দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়। এছাড়া ই-সিগারেট, ভ্যাপিং, লিক্যুইড, হিটেড তামাক পণ্যসহ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ও ইলেকট্রনিক নক-নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেমসহ যাবতীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস বিক্রয়, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে তামাক পণ্য ব্যবসায়ীদের ওপর উচ্চ হারে ফি আরোপসহ লাইসেন্সিং নীতিমালা প্রণয়ন ও লাইসেন্স গ্রহণে বাধ্য করা হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×