এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রসার

গ্রামের মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার উদ্যোগ

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রসার ঘটিয়ে গ্রামের মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আওতায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এজেন্টের সংখ্যা যেমন বাড়ানো হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে আউটলেটের সংখ্যা। একই সঙ্গে এজেন্ট বা আউটলেটগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রায় সব ধরনের লেনদেনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এর ফলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের পরিমাণও বাড়ছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় শুধু ঋণ অনুমোদন করা যায় না। তবে ছোট অঙ্কের ঋণের কিস্তি বিতরণ করা যায়। ঋণের কিস্তি আদায় করা যায়। এছাড়া আমানত নেয়া যায়। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় টাকা জমার পাশাপাশি তোলাও যায়। কোনো গ্রাহকের মূল ব্যাংকে হিসাব থাকলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় টাকা তোলার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত মার্চে শহরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক ছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার। গত জুনে তা বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৭১ হাজার। গ্রামে গত মার্চে গ্রাহক ছিল ২৫ লাখ ২২ হাজার। গত জুনে তা বেড়ে হয়েছে ২৮ লাখ ৪৬ হাজার। সব মিল গত জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে গত মার্চে ২৯ লাখ ৭ হাজার। গত জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ লাখ ৩৭ হাজার।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এর মাধ্যমে গ্রামের মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ী প্রবণতা গড়ে উঠছে। এতে সাড়ে ৩৪ লাখ হিসাবের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখই রয়েছে সঞ্চয়ী হিসাব। যেগুলোর মাধ্যমে গ্রাহকরা মেয়াদি আমানত রাখছেন। চলতি হিসাব রয়েছে মাত্র ১ লাখের মতো। বাকিগুলো অন্যান্য হিসাব।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে সবচেয়ে বেশি হিসাব রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে। মোট হিসাবের প্রায় ৪৫ শতাংশই তাদের ব্যাংকে খোলা। এর পরই রয়েছে ব্যাংক এশিয়ার অবস্থান। মোট হিসাবের ৩১ শতাংশ তাদের ব্যাংকে খোলা। ১৭ শতাংশ ইসলামী ব্যাংকে এবং বাকি ৭ শতাংশ অন্যান্য ব্যাংকে খোলা। আমানতের মধ্যে ২৬ শতাংশ রয়েছে আল-আরাফাহ্ ব্যাংকে, ২২ শতাংশ ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে, ১৯ শতাংশ ব্যাংক এশিয়ায় এবং অন্যান্য ব্যাংকে রয়েছে ৩৩ শতাংশ।

ঋণের মধ্যে সবচেয়ে বিতরণ করেছে ব্যাংক এশিয়া। তারা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিতরণ করা মোট ঋণের ৮৯ শতাংশ বিতরণ করেছে এশিয়া ব্যাংক। ৬ শতাংশ বিতরণ করেছে সিটি ব্যাংক, ৩ শতাংশ বিতরণ করেছে আল-আরাফাহ্ ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংক বিতরণ করেছে ২ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, বর্তমানে প্রায় সব উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ব্যাংকগুলোর শাখা রয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকের শাখার সংখ্যা খুবই কম। জেলার পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে এমনকি গ্রাম পর্যায়েও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রসার ঘটছে।