বাজারে শীতের আগাম সবজি, দাম চড়া

  নাজমুল হুদা নাসিম, বগুড়া ব্যুরো ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সবজি

এবার অনেক আগেই শীতের আগাম শাকসবজি বাজারে চলে এসেছে। অনুকূল আবহাওয়া, আধুনিক প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত বীজ ব্যবহার করায় দ্রুত ফলন হচ্ছে।

ফলে এসব সবজি দ্রুত বাজারেও আসছেও। তবে দাম বেশ চড়া। শীতের আগাম সবজির মধ্যে ইতিমধ্যে বাজারে এসেছে শিম, মুলা, লাউ, টমেটো, বরবটি ও বিভিন্ন শাকসবজি। অচিরেই ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক, পালংশাক, লাউশাক, পুঁইশাকসহ নানা জাতের শাকসবজি বাজারে আসবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শীতের আগাম সবজির চড়া দামের কারণে কৃষক লাভবান হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বন্যার কারণে অনেক অঞ্চলের সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে বাজারে শীতের সবজির প্রবাহ কিছুটা কম। তবে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে শীতের সবজির প্রবাহ আরও বাড়বে। বন্যায় শীতের আগাম সবজির ক্ষতি হলেও বিলম্বিত শীতের সবজির ক্ষতি হয়নি। ফলে সেগুলোর সরবরাহ বাড়বে। তখন দামও স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এগুলো বাজারে আসতে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত লেগে যাবে।

এখন নরসিংদী, ময়মনসিংহ, বগুড়া এসব অঞ্চলের শীতের আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এবার শীত (রবি) মৌসুমে জেলার ১২ উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছে। ফলন টার্গেট দুই লাখ ৬৪ হাজার মেট্রিক টন। আর উৎপাদিত এ শাকসবজির গড় বাজার মূল্য ৫২৮ কোটি টাকা। ২১ জুলাই থেকে চাষাবাদ শুরু হয়েছে, চলবে অক্টোবর পর্যন্ত। তবে কৃষকরা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কিছু কিছু সবজি চাষ করে থাকেন। ৩০ আগস্ট শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত দুই হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষ হয়েছে। ইতিমধ্যে বাজারে শীতের আগাম শাকসবজি হাটবাজারে উঠেছে। ১৫ দিনের মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলাসহ অন্যান্য সবজি বাজারে আসবে।

শুক্রবার বগুড়ার সাবগ্রাম হাটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানভেদে পুঁইশাক ১৫-২০ টাকা কেজি, লালশাক ২৫-৩০, কলমি শাক ২০-২৫, পালংশাক ৩০-৩২, লাউশাক ১৫-২০ ও মুলাশাক ১৫-২০ টাকা কেজি এবং শিম ৭০ টাকা ও মুলা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। তবে শহরের রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, নামাজগড় বাজার, ফুলবাড়ি বাজারে শাক ৩৫-৪৫ টাকা এবং শিম ৮০ টাকা ও মুলা ৬০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বগুড়ার ১২টি উপজেলার মধ্যে সদর, শাজাহানপুর, শেরপুর, শিবগঞ্জ সবজিখ্যাত উপজেলা হিসেবে পরিচিত। এসব উপজেলায় বছরের বারো মাসই রকমারি সবজি চাষ করেন কৃষকরা। এর মধ্যে শেরপুর ও শাজাহানপুরে উপজেলায় বছরজুড়ে নানা জাতের সবজি চারা তৈরি করা হয়।

শেরপুরের কৃষক আবু হানিফ জানান, অল্প জমিতেই সবজি চাষ করা যায়। জাতভেদে সপ্তাহে কমপক্ষে দু’বার সবজি বিক্রি করা যায়। পরিবারের চাহিদা মেটানো যায়। সবজি চাষ করলে হাতে কমবেশি সবসময়ই নগদ টাকাও থাকে- যা অন্য ফসল চাষ করে সম্ভব না।

কৃষক মমতাজ হোসেন জানান, শীতকালীন আগাম জাতের সবজি চাষে কমবেশি লাভ থাকেই- যা অন্য সময় করলে নাও থাকতে পারে। তবে আগাম জাতের সবজি চাষে ঝুঁকি থাকে। আর বাড়তি লাভ করতে চাইলে এ ঝুঁকি (বৃষ্টি, ঝড়, খরা) নিতেই হবে। একই ধরনের মন্তব্য করেন, কাহালুর অঘর মালঞ্চার কৃষক আবদুল করিম, দুপচাঁচিয়ার রজব আলী ও শাজাহানপুর উপজেলার বেজোড়া গ্রামে এবাদুর রহমান।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান জানান, শীতকালীন শাক-সবজি সাধারণত তিন ভাগে চাষ হয়ে থাকে। যেসব কৃষক বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে প্রথমে আগাম সবজি চাষ করেন তারা বিক্রি করে অনেক বেশি লাভবান হন। দ্বিতীয় ধাপের কৃষকরা তুলনামূলক কম লাভবান হন। আর তৃতীয় ধাপে বাজারে প্রচুর শাকসবজির আমদানি থাকে। তখন লাভের চেয়ে লোকসানের সম্ভবনা বেশি থাকে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×