১১ ব্যাংকের ঘাটতি ১৬ হাজার কোটি টাকা

খেলাপির আঘাতে মূলধন গায়েব

  হামিদ বিশ্বাস ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। খেলাপি ঋণ বেড়ে ব্যাংকের পুঁজি খেয়ে ফেলছে। দেশের ১১টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যাওয়ায় এর আঘাতে তাদের মূলধন গায়েব হয়ে যাচ্ছে। ফলে ১১টি ব্যাংকের মূলধন খেয়ে ফেলেছে খেলাপি ঋণ। উল্টো এখন আরও ঘটতিতে পড়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। সরকারি ব্যাংকগুলোকে জনগণের করের টাকায় মূলধনের জোগান দিতে হচ্ছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে অর্জিত মুনাফা থেকে মূলধন বাড়াতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত জুন পর্যন্ত ১১টি ব্যাংক প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার কারণে তারা ১৬ হাজার ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। এ কারণে বিদেশে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে। আর্থিক দুর্বলতার কারণে বৈদেশিক বাণিজ্যে নানা ধরনের ফি বা গ্যারান্টি দিতে হচ্ছে। এতে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ব্যবসা খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকির ফলে গত মার্চের তুলনায় জুনে মূলধন ঘাটতি সামান্য কমেছে। মার্চে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা। প্রায় সোয়া দুই হাজার কোটি টাকা ঘাটতি কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনিয়ম, দুর্নীতি আর নানা অব্যবস্থাপনায় ব্যাংক খাতে চলছে এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা। যাচাই-বাছাই না করে ভুয়া প্রতিষ্ঠানে ঋণ দেয়া হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে খেলাপি হয়ে পড়ছে। এসব ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। চাহিদা অনুযায়ী প্রভিশন রাখতে পারছে না। খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এর বিপরীতেও পারছে না মূলধন রাখতে। ফলে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, একটি ব্যাংকে যখন সুশাসন থাকে না, তখন জাল-জালিয়াতির প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণও বাড়ে। ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে যেভাবে খেলাপি ঋণ বেড়েছে তার প্রধান কারণ জালিয়াতি। এর প্রভাবে মূলধন ঘাটতি বাড়ে। ফলে ব্যাংকিং বিষয়ে অভিজ্ঞরা কোনো ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দেখলেই বুঝতে পারে ব্যাংকটির কী অবস্থা। যেসব ঋণ যাচ্ছে তা ফেরত আসছে না। তিনি বলেন, প্রতিবছরই সরকারি ব্যাংকগুলোর ঘাটতি মেটাতে জনগণের করের টাকা থেকে ব্যাংকগুলোকে মূলধনের জোগান দেয়া হয়। কিন্তু এর আগে তাদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা উচিত। জবাবদিহিতা থাকলে জালিয়াতি হবে না। তখন ঋণও খেলাপি হবে না। স্বাভাবিকভাবে কমে যাবে মূলধন ঘাটতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি ও বিশেষায়িত খাতের ৭টি, বেসরকারি খাতের তিনটি ও বিদেশি একটি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। মূলধন ঘাটতি কমে এসেছে জনতা ব্যাংকের। জুনে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এর আগে মার্চ শেষে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ছিল ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। এর পরে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ঋণের নামে অর্থ লুটে নেয়া বেসিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি বেড়েছে। জুনে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। গত মার্চ শেষে এ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ২৩৬ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের ঘাটতি গত মার্চ শেষে ১ হাজার ৫৪ কোটি টাকা হলেও জুনে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫৬ কোটি টাকায়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×