গ্যাস-সিগারেটে বিপর্যস্ত রাজস্ব আদায়

আজ এনবিআরের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন অর্থমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গ্যাস-সিগারেটে বিপর্যস্ত রাজস্ব আদায়
জব্দ চোরাই সিগারেট। ফাইল ফটো

অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আদায়ে বিপর্যয় নেমেছে। দুই (জুলাই-আগস্ট) মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৯ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। মূলত গ্যাস আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতি এবং নকল ও চোরাই সিগারেটের কারণে শুধু এ দুই খাতেই ১ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।

আর মূলধনী যন্ত্রপাতি, বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি হ্রাস পাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় শুল্ক খাতে ৫ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আজ রোববার অর্থমন্ত্রী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক খাতে রাজস্ব আদায় আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।

১৫ হাজার ৫৭ কোটি টাকা মাসওয়ারি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ভ্যাট আদায় হয়েছে ১১ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে ১৪ হাজার ৯২৭ কোটি টাকার বিপরীতে শুল্ক আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। আয়কর আদায় সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।

রাজস্ব আদায়ের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সিগারেট ও গ্যাস রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে বড় খাত। গত অর্থবছরে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ও ইউনাইটেড ঢাকা টোব্যাকো ২৫ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে- যা আদায়কৃত ভ্যাটের ২৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, আর মোট রাজস্বের ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের শুরুতে সিগারেট খাত থেকে রাজস্ব আদায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় কমেছে।

দুই মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৮৪৪ কোটি টাকা কম। এ অবস্থায় উদ্বেগ জানিয়ে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ-ভ্যাট) থেকে এনবিআরে চিঠি দেয়া হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নকল ও চোরাই সিগারেটের কারণে সিগারেট খাতে রাজস্ব আদায় কমেছে। ঢাকার অলিগলি, এমনকি মফস্বলে হাট-বাজারে চোরাই সিগারেটে ছেয়ে গেছে।

গুদামগারাম, থ্রিজিরোথ্রি, ইজি, ব্ল্যাক, ডানহিল, মেভিস, পাইন ও মোর নামের এসব সিগারেট আমদানির শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এনবিআরের নজরদারির অভাবে চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ ২০টিরও বেশি দেশ থেকে ৪০ ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট বিভিন্ন বন্দর হয়ে চোরাইভাবে দেশে প্রবেশ করছে।

বর্তমানে নকল ও চোরাই সিগারেটের মার্কেট শেয়ার ১২ শতাংশের ওপরে- যা দেশীয় অনেক কোম্পানির মার্কেট শেয়ারের তুলনায় অনেক বেশি। চলতি বছরের মার্চে (২০১৮-১৯ অর্থবছর) ভ্যাট কমিশনারেটগুলো থেকে নকল সিগারেটের বিষয়ে এনবিআরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠা আঞ্চলিক সিগারেট কোম্পানিগুলো সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে সিগারেট বিক্রি করছে। সর্বনিম্ন মূল্য ৩৫ টাকা হলেও সেনর গোল্ড, সম্রাট ব্লাক, সানমার, মার্বেল, সিটি ব্লাক নামে একাধিক কোম্পানির সিগারেট ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব সিগারেট থেকে সরকার যথাযথ রাজস্ব পাচ্ছে না। এ ছাড়া সিগারেটে ব্যবহৃত পেপারও ভ্যাট চালানবিহীন।

অন্যদিকে সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতি দেয়ায় গ্যাস খাতে রাজস্ব আদায় কমেছে ৮০৫ কোটি টাকা। গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত গ্যাস খাতে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ আদায় হয়েছিল ১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, প্রত্যেক অর্থবছরের শুরুর দিকে রাজস্ব আদায় কম হয়। আর শেষে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পায়। এটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নানা খাতে শুল্ক কর ছাড় দেয়ার কারণে রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এর বাইরে অন্য কোনো সমস্যা আছে কিনা তা জানতে রোববার মাঠ পর্যায়ের আয়কর ও কাস্টমসের কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। এরপর তাদের সুপারিশ ও সমস্যার কথা ওই দিনই অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিতব্য রাজস্ব সভায় উত্থাপন করা হবে। তার (অর্থমন্ত্রী) দিকনির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তীতে রাজস্ব আদায়ের নতুন ছক বানানো হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×