তিন প্রতিবন্ধকতায় উদ্যোক্তারা
jugantor
তিন প্রতিবন্ধকতায় উদ্যোক্তারা
ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন * গ্রামীণ কুসংস্কার * নারীবান্ধব অবকাঠামোর অভাব

  মিজান চৌধুরী  

০৮ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংক ঋণ না পাওয়া, গ্রামীণ কুসংস্কার ও অবকাঠামো সমস্যাই নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। যে কারণে কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তারা পিছিয়ে পড়েছে। ফলে তাদের পণ্য বাজারে আসতে পারছে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর গড়ে দুই লাখ নারী কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে যুক্ত হচ্ছে। তবে উদ্যোক্তা হিসেবে এখনও নারীরা পিছিয়ে আছে। যদিও দেশে ৪২ হাজারের বেশি কল-কারখানা আছে। এরমধ্যে মাত্র দুই হাজার ১৭৭টি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কারখানার মালিক নারী।

নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে ব্যাংক ঋণ। ঋণ পেতে এখনও পদে পদে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। কেউ ঋণ পেলেও তা চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নয়। নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়ার হার পুরুষের চেয়ে বেশি। এরপরও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নারীদের ঋণ দেয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। অথচ জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬-এ বিধান আছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ঋণের কমপক্ষে ১৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। একই নির্দেশ দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও। সেখানে বলা হয় পুনঃঅর্থায়ন ঋণের কমপক্ষে ১০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। কিন্তু এ নির্দেশ গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে অনেকাংশে কার্যকর হচ্ছে না।

গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের আরও একটি বাধা ডিঙিয়ে কাজ করে তা হল স্থানীয় সংস্কৃতি, গ্রামাঞ্চলের কুসংস্কার এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতা। ঘর থেকে নারীরা বের হওয়া ও পুরুষের সঙ্গে কাজ করা নিষেধসহ রয়েছে নানা ধরনের কুসংস্কার। নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু করার জন্য তাদের প্রধানত পুরুষ অর্থাৎ স্বামী অথবা পিতার মুখাপেক্ষী হতে হয়। সেক্ষেত্রে পুরুষরাও স্বভাবতই মুখ ফিরিয়ে থাকেন। এ কারণে তারা ঝুঁকি নিতে পারেন না।

জানা গেছে, গ্রামে অসংখ্য ছোট ছোট নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও অনুকূল নারীবান্ধব অবকাঠামো না থাকার কারণে তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী বাজারজাতকরণে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। পণ্য বাজারজাতকরণের জন্য মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে নারী উদ্যোক্তারা পূর্ণাঙ্গ সুফল ভোগ করতে পারছে না। আরও জটিল সমস্যা হচ্ছে প্রয়োজনীয় ও সঠিক ধারণা এবং তথ্য না পাওয়া। যে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি, কর প্রদান, ব্যাংক লোন বা সরকারি সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা এমন নানা বিষয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আর এসব বিষয়ে নির্ভুল তথ্য পাওয়ার কোনো প্রতিষ্ঠান তেমন নেই। পাশাপাশি বিদেশে পণ্য রফতানি করার ক্ষেত্রে সহজ পদ্ধতি প্রণয়ন ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অর্থ আদান-প্রদানের সহজ ব্যবস্থার তথ্য সঠিকভাবে পেতে দীর্ঘ সময় পার করতে হয়। ফলে একজন পুরুষের সমান যোগ্যতা সম্পন্ন হলেও শুধু গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তা বলে ভিন্ন আচরণের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এছাড়া নানারকম সুবিধা বা সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই বৈষম্যের শিকার হন গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তারা। নারীদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার জন্য প্রশিক্ষণ, ব্যবসা পরিকল্পনা প্রস্তুত ব্যবসার প্রাথমিক পুঁজি সংগ্রহের প্রয়োজন হয়। বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যবসার পরিকল্পনার বিপরীতে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ অনেক কম।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রগতিতে প্রথম হচ্ছে নিউজিল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়া রয়েছে দ্বিতীয় এবং থাইল্যান্ডের অবস্থান তৃতীয়। উন্নত বিশ্বে চাকরিসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নারীর অবদান আশাব্যঞ্জক হলেও তুলনামূলকভাবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে এই হার যথেষ্ট কম। চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া ও কোরিয়ার ক্ষেত্রে অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো। তবে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে তা আদৌ যথেষ্ট নয়। আর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের নারী উদ্যোক্তাদের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সবার শেষে। নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সূচকে পাওয়া পয়েন্টের দিক থেকে ভারত ৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্ট ও শ্রীলংকা ৩২ দশমিক ৭ পয়েন্ট। আর বাংলাদেশ ১০০-তে মাত্র ২৭ পয়েন্ট। তিন দশকে নারী উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও এমনটা হয়েছে।

এক গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, দেশে ১৫ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প রয়েছে (এসএমই)- যার ১০ ভাগেরও কম উদ্যোক্তা নারী। অথচ নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ করে রাজনীতিতে বাংলাদেশ এক ঈর্ষণীয় উচ্চতায় অবস্থান করছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেত্রীসহ মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক নারী দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিন থেকে, যা প্রশংসিত হয়েছে সারা বিশ্বে। সে অবস্থায় উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারী হিসেবে নারীর পিছিয়ে থাকার বিষয়টি কিছুটা হলেও উদ্বেগজনক।

দেশের অর্থনীতিতে নারীদের এতো সব সম্ভাবনা ও অবদান থাকার পরও নারী উদ্যোক্তারা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাস্টারকার্ড ইনডেক্স অব উইমেন এন্টারপ্রেনাসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ব্যবসা ক্ষেত্রে মোট মালিকদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা প্রতিনিয়ত দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য সরাসরি কাজ করছেন। অথচ নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া এসডিজি-৫ বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই। আরও ১১টি লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের সঙ্গেও নারীরা জড়িত। সুতরাং নারী উদ্যোক্তা তথা নারীদের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা ও স্বপ্ন পূরণ সম্ভব নয়।

তিন প্রতিবন্ধকতায় উদ্যোক্তারা

ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন * গ্রামীণ কুসংস্কার * নারীবান্ধব অবকাঠামোর অভাব
 মিজান চৌধুরী 
০৮ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংক ঋণ না পাওয়া, গ্রামীণ কুসংস্কার ও অবকাঠামো সমস্যাই নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। যে কারণে কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তারা পিছিয়ে পড়েছে। ফলে তাদের পণ্য বাজারে আসতে পারছে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর গড়ে দুই লাখ নারী কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে যুক্ত হচ্ছে। তবে উদ্যোক্তা হিসেবে এখনও নারীরা পিছিয়ে আছে। যদিও দেশে ৪২ হাজারের বেশি কল-কারখানা আছে। এরমধ্যে মাত্র দুই হাজার ১৭৭টি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কারখানার মালিক নারী।

নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে ব্যাংক ঋণ। ঋণ পেতে এখনও পদে পদে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। কেউ ঋণ পেলেও তা চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নয়। নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়ার হার পুরুষের চেয়ে বেশি। এরপরও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নারীদের ঋণ দেয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। অথচ জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬-এ বিধান আছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ঋণের কমপক্ষে ১৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। একই নির্দেশ দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও। সেখানে বলা হয় পুনঃঅর্থায়ন ঋণের কমপক্ষে ১০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। কিন্তু এ নির্দেশ গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে অনেকাংশে কার্যকর হচ্ছে না।

গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের আরও একটি বাধা ডিঙিয়ে কাজ করে তা হল স্থানীয় সংস্কৃতি, গ্রামাঞ্চলের কুসংস্কার এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতা। ঘর থেকে নারীরা বের হওয়া ও পুরুষের সঙ্গে কাজ করা নিষেধসহ রয়েছে নানা ধরনের কুসংস্কার। নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু করার জন্য তাদের প্রধানত পুরুষ অর্থাৎ স্বামী অথবা পিতার মুখাপেক্ষী হতে হয়। সেক্ষেত্রে পুরুষরাও স্বভাবতই মুখ ফিরিয়ে থাকেন। এ কারণে তারা ঝুঁকি নিতে পারেন না।

জানা গেছে, গ্রামে অসংখ্য ছোট ছোট নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও অনুকূল নারীবান্ধব অবকাঠামো না থাকার কারণে তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী বাজারজাতকরণে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। পণ্য বাজারজাতকরণের জন্য মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে নারী উদ্যোক্তারা পূর্ণাঙ্গ সুফল ভোগ করতে পারছে না। আরও জটিল সমস্যা হচ্ছে প্রয়োজনীয় ও সঠিক ধারণা এবং তথ্য না পাওয়া। যে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি, কর প্রদান, ব্যাংক লোন বা সরকারি সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা এমন নানা বিষয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আর এসব বিষয়ে নির্ভুল তথ্য পাওয়ার কোনো প্রতিষ্ঠান তেমন নেই। পাশাপাশি বিদেশে পণ্য রফতানি করার ক্ষেত্রে সহজ পদ্ধতি প্রণয়ন ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অর্থ আদান-প্রদানের সহজ ব্যবস্থার তথ্য সঠিকভাবে পেতে দীর্ঘ সময় পার করতে হয়। ফলে একজন পুরুষের সমান যোগ্যতা সম্পন্ন হলেও শুধু গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তা বলে ভিন্ন আচরণের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এছাড়া নানারকম সুবিধা বা সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই বৈষম্যের শিকার হন গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তারা। নারীদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার জন্য প্রশিক্ষণ, ব্যবসা পরিকল্পনা প্রস্তুত ব্যবসার প্রাথমিক পুঁজি সংগ্রহের প্রয়োজন হয়। বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যবসার পরিকল্পনার বিপরীতে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ অনেক কম।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রগতিতে প্রথম হচ্ছে নিউজিল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়া রয়েছে দ্বিতীয় এবং থাইল্যান্ডের অবস্থান তৃতীয়। উন্নত বিশ্বে চাকরিসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নারীর অবদান আশাব্যঞ্জক হলেও তুলনামূলকভাবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে এই হার যথেষ্ট কম। চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া ও কোরিয়ার ক্ষেত্রে অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো। তবে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে তা আদৌ যথেষ্ট নয়। আর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের নারী উদ্যোক্তাদের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সবার শেষে। নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সূচকে পাওয়া পয়েন্টের দিক থেকে ভারত ৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্ট ও শ্রীলংকা ৩২ দশমিক ৭ পয়েন্ট। আর বাংলাদেশ ১০০-তে মাত্র ২৭ পয়েন্ট। তিন দশকে নারী উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও এমনটা হয়েছে।

এক গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, দেশে ১৫ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প রয়েছে (এসএমই)- যার ১০ ভাগেরও কম উদ্যোক্তা নারী। অথচ নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ করে রাজনীতিতে বাংলাদেশ এক ঈর্ষণীয় উচ্চতায় অবস্থান করছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেত্রীসহ মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক নারী দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিন থেকে, যা প্রশংসিত হয়েছে সারা বিশ্বে। সে অবস্থায় উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারী হিসেবে নারীর পিছিয়ে থাকার বিষয়টি কিছুটা হলেও উদ্বেগজনক।

দেশের অর্থনীতিতে নারীদের এতো সব সম্ভাবনা ও অবদান থাকার পরও নারী উদ্যোক্তারা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাস্টারকার্ড ইনডেক্স অব উইমেন এন্টারপ্রেনাসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ব্যবসা ক্ষেত্রে মোট মালিকদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা প্রতিনিয়ত দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য সরাসরি কাজ করছেন। অথচ নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া এসডিজি-৫ বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই। আরও ১১টি লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের সঙ্গেও নারীরা জড়িত। সুতরাং নারী উদ্যোক্তা তথা নারীদের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা ও স্বপ্ন পূরণ সম্ভব নয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন