দরিদ্রদের জন্য পুষ্টি চালের উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে
jugantor
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বিশেষ উদ্যোগ
দরিদ্রদের জন্য পুষ্টি চালের উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দেয়া হবে এই চাল * একনেকে ৬৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

  হামিদ-উজ-জামান  

১৫ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দরিদ্রদের মাঝে পুষ্টিকর চাল বিতরণের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এ উদ্দেশে ‘খাদ্যশস্যের পুষ্টিমান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রিমিক্স কার্নেল মেশিন ও ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং অবকাঠামো নির্মাণ’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। গত ডিসেম্বরে এটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের সহজলভ্যতা বৃদ্ধির জন্য গুণগত মানসম্পন্ন পুষ্টিচাল উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে কার্নেল প্রোডাকশন মেশিনের মাধ্যমে বছরে দুই শিফটে ১ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৬৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছিলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র্য মানুষের মধ্যে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের সহজলভ্যতা বৃদ্ধির জন্য সরকার গুণগত মানসম্পন্ন পুষ্টিচাল বিতরণ করবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় পুষ্টিচাল বিতরণের মাধ্যমে সবার জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিতকরণে প্রকল্পটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটির প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ২১ অক্টোবর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। ফলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় উপস্থাপন করার প্রস্তুতি রয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে খাদ্য অধিদফতর।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল ও অপুষ্টিজনিত দেশ। বাংলাদেশে অপুষ্টির হার বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিপুল জনগোষ্ঠির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ করা এবং পুষ্টি নিশ্চিত করা সরকারের মূল লক্ষ্য। এ জন্য সরকার প্রতিবছর অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রকার খাদ্য গুদাম যেমন- এলএসডি, সিএসডি ও সাইলোতে সংরক্ষণ এবং তা বিতরণ করে।

রাইস ফার্টিফিকেশন হল খাদ্য সমৃদ্ধকরণ অর্থাৎ খাদ্য মাইক্রোনিউট্রেন্টস (অপরিহার্য ট্রেস উপাদান এবং ভিটামিন) যোগ করার প্রক্রিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মতে ফার্টিফিকেশন হল- একটি অপরিহার্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যা খাদ্যের সঙ্গে মিশ্রিত করে খাদ্য পুষ্টির গুণগত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা হয়। ফর্টিফাইড রাইসে যে ৬টি নিউট্রিয়েন্ট থাকে তা হল- ভিটামিন এ, বিটামিন বি ০১, ভিটামিন বি ১২, ফলিক এসিড, আয়রন এবং জিংক ইত্যাদি। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ঘণ্টায় ৪০০ কেজি ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ফর্টিফাইড কার্নেল উৎপাদন মেশিন স্থাপন করা হবে। রাইস ফার্টিফিকেশন কার্যক্রমটি ডাব্লিউএফপি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্কুলমিল কর্মসূচির আওতায় ১৬টি উপজেলায় পুষ্টি চাল বিতরণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বিশেষ উদ্যোগ

দরিদ্রদের জন্য পুষ্টি চালের উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দেয়া হবে এই চাল * একনেকে ৬৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
 হামিদ-উজ-জামান 
১৫ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দরিদ্রদের মাঝে পুষ্টিকর চাল বিতরণের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এ উদ্দেশে ‘খাদ্যশস্যের পুষ্টিমান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রিমিক্স কার্নেল মেশিন ও ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং অবকাঠামো নির্মাণ’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। গত ডিসেম্বরে এটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের সহজলভ্যতা বৃদ্ধির জন্য গুণগত মানসম্পন্ন পুষ্টিচাল উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে কার্নেল প্রোডাকশন মেশিনের মাধ্যমে বছরে দুই শিফটে ১ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৬৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছিলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র্য মানুষের মধ্যে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের সহজলভ্যতা বৃদ্ধির জন্য সরকার গুণগত মানসম্পন্ন পুষ্টিচাল বিতরণ করবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় পুষ্টিচাল বিতরণের মাধ্যমে সবার জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিতকরণে প্রকল্পটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটির প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ২১ অক্টোবর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। ফলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় উপস্থাপন করার প্রস্তুতি রয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে খাদ্য অধিদফতর।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল ও অপুষ্টিজনিত দেশ। বাংলাদেশে অপুষ্টির হার বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিপুল জনগোষ্ঠির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ করা এবং পুষ্টি নিশ্চিত করা সরকারের মূল লক্ষ্য। এ জন্য সরকার প্রতিবছর অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রকার খাদ্য গুদাম যেমন- এলএসডি, সিএসডি ও সাইলোতে সংরক্ষণ এবং তা বিতরণ করে।

রাইস ফার্টিফিকেশন হল খাদ্য সমৃদ্ধকরণ অর্থাৎ খাদ্য মাইক্রোনিউট্রেন্টস (অপরিহার্য ট্রেস উপাদান এবং ভিটামিন) যোগ করার প্রক্রিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মতে ফার্টিফিকেশন হল- একটি অপরিহার্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যা খাদ্যের সঙ্গে মিশ্রিত করে খাদ্য পুষ্টির গুণগত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা হয়। ফর্টিফাইড রাইসে যে ৬টি নিউট্রিয়েন্ট থাকে তা হল- ভিটামিন এ, বিটামিন বি ০১, ভিটামিন বি ১২, ফলিক এসিড, আয়রন এবং জিংক ইত্যাদি। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ঘণ্টায় ৪০০ কেজি ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ফর্টিফাইড কার্নেল উৎপাদন মেশিন স্থাপন করা হবে। রাইস ফার্টিফিকেশন কার্যক্রমটি ডাব্লিউএফপি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্কুলমিল কর্মসূচির আওতায় ১৬টি উপজেলায় পুষ্টি চাল বিতরণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন