বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম তলানিতে
jugantor
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম তলানিতে

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৫ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া এবং রাশিয়া-সৌদি আরবের মূল্যযুদ্ধ- এ দুইয়ের প্রভাব পড়েছে পণ্যটির সাপ্তাহিক বাজারে। ১৯৯১ সালের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের সাপ্তাহিক গড় দামে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের সাপ্তাহিক গড় দাম ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বেশি কমেছে। খবর রয়টার্স ও সিএনবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বশেষ সপ্তাহে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৩৩ ডলার ৯২ সেন্টে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এ সময় জ্বালানি পণ্যটির গড় দাম এক-চতুর্থাংশের বেশি বা প্রায় ২৮ শতাংশ কমে গেছে। ১৯৯১ সালের জানুয়ারির পর এটাই ব্রেন্ট ক্রুডের সাপ্তাহিক গড় দামে সর্বোচ্চ পতন। একই চিত্র দেখা গেছে ডব্লিউটিআইয়ের দামেও। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বশেষ সপ্তাহে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৩২ ডলার ৩০ সেন্টে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এ সময় জ্বালানি পণ্যটির গড় দাম প্রায় ২৬ শতাংশ কমে গেছে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের পর এটাই জ্বালানি পণ্যটির সাপ্তাহিক দামে সবচেয়ে বড় পতন।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। চীনসহ সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতি অনেকটাই শ্লথ হয়ে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে চাহিদা কমে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দরপতন হয়েছে। অপরদিকে ওপেক-নন ওপেক দেশগুলোকে উত্তোলন আরও কমিয়ে জ্বালানি তেলের বাজারে দরপতনের ধাক্কা সামলে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল সৌদি আরব। তবে সম্প্রতি ভিয়েনা বৈঠকে রাশিয়ার অসম্মতিতে এ প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। সৌদি আরবের হাত ধরে জ্বালানি তেলের বাজারে শুরু হয় নতুন মূল্যযুদ্ধ।

এ পরিস্থিতিতে এপ্রিল থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরামকো। রাশিয়ার পক্ষ থেকেই জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। একদিকে মূল্যযুদ্ধ, অন্যদিকে উত্তোলন বৃদ্ধির সম্ভাবনা- এসব কারণে গত সপ্তাহে জ্বালানি তেলের বাজারে রেকর্ড দরপতন ঘটেছে। জ্বালানি পণ্যটির দাম ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের পর এক দিনে সবচেয়ে বেশি কমে আসার রেকর্ড গড়েছে। গত সোমবারের এ রেকর্ড দরপতনের পর থেকে টানা তিন দিন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী ছিল। এর প্রভাব পড়েছে পণ্যটির সাপ্তাহিক দামেও। ব্রেন্ট ক্রুডের সাপ্তাহিক গড় দাম ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে বেশি কমেছে। ডব্লিউটিআইয়ের সাপ্তাহিক গড় দামে ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ পতন দেখা গেছে। এমনিতেই কয়েক মাস ধরে করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বব্যাপীই জ্বালানির চাহিদা কমে গেছে। করোনার কারণে চীন থেকে প্রতিদিন এক কোটি ব্যারেল তেলের চাহিদা কমে গেছে। ক্রমহ্রাসমান চাহিদা কমার কারণে দাম কমায় জ্বালানি পণ্যটির আন্তর্জাতিক বাজারে চরম অস্থিরতার মধ্যে যাচ্ছে। প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর তেল কোম্পানিগুলো বাজারে শেয়ারের দর হারাতে শুরু করেছে। রাশিয়া বলছে, দাম কমে যাওয়ায় তাদের অর্থনীতিতে তেমন প্রভাব পড়বে না। কারণ, ব্যারেলপ্রতি ৪০ ডলার ধরে বাজেট পরিকল্পনা করে রাশিয়া।

উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত তেলনির্ভর অর্থনীতি। এসব দেশের সরকারি ব্যয় অনেক বেশি। নিজেদের আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম অন্তত ৭০ ডলার হওয়া প্রয়োজন তাদের জন্য। এ ছাড়া তেল রফতানিনির্ভর দেশ যেমন- ইরাক, ইরান, লিবিয়া ও ভেনেজুয়েলাকে চড়া মূল্য দিতে হবে। পার পাবে না যুক্তরাষ্ট্রও। কম দাম দেশটির তেল কোম্পানিগুলোকে ভালোই আঘাত করবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম তলানিতে

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৫ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া এবং রাশিয়া-সৌদি আরবের মূল্যযুদ্ধ- এ দুইয়ের প্রভাব পড়েছে পণ্যটির সাপ্তাহিক বাজারে। ১৯৯১ সালের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের সাপ্তাহিক গড় দামে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের সাপ্তাহিক গড় দাম ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বেশি কমেছে। খবর রয়টার্স ও সিএনবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বশেষ সপ্তাহে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৩৩ ডলার ৯২ সেন্টে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এ সময় জ্বালানি পণ্যটির গড় দাম এক-চতুর্থাংশের বেশি বা প্রায় ২৮ শতাংশ কমে গেছে। ১৯৯১ সালের জানুয়ারির পর এটাই ব্রেন্ট ক্রুডের সাপ্তাহিক গড় দামে সর্বোচ্চ পতন। একই চিত্র দেখা গেছে ডব্লিউটিআইয়ের দামেও। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বশেষ সপ্তাহে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৩২ ডলার ৩০ সেন্টে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এ সময় জ্বালানি পণ্যটির গড় দাম প্রায় ২৬ শতাংশ কমে গেছে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের পর এটাই জ্বালানি পণ্যটির সাপ্তাহিক দামে সবচেয়ে বড় পতন।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। চীনসহ সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতি অনেকটাই শ্লথ হয়ে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে চাহিদা কমে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দরপতন হয়েছে। অপরদিকে ওপেক-নন ওপেক দেশগুলোকে উত্তোলন আরও কমিয়ে জ্বালানি তেলের বাজারে দরপতনের ধাক্কা সামলে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল সৌদি আরব। তবে সম্প্রতি ভিয়েনা বৈঠকে রাশিয়ার অসম্মতিতে এ প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। সৌদি আরবের হাত ধরে জ্বালানি তেলের বাজারে শুরু হয় নতুন মূল্যযুদ্ধ।

এ পরিস্থিতিতে এপ্রিল থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরামকো। রাশিয়ার পক্ষ থেকেই জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। একদিকে মূল্যযুদ্ধ, অন্যদিকে উত্তোলন বৃদ্ধির সম্ভাবনা- এসব কারণে গত সপ্তাহে জ্বালানি তেলের বাজারে রেকর্ড দরপতন ঘটেছে। জ্বালানি পণ্যটির দাম ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের পর এক দিনে সবচেয়ে বেশি কমে আসার রেকর্ড গড়েছে। গত সোমবারের এ রেকর্ড দরপতনের পর থেকে টানা তিন দিন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী ছিল। এর প্রভাব পড়েছে পণ্যটির সাপ্তাহিক দামেও। ব্রেন্ট ক্রুডের সাপ্তাহিক গড় দাম ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে বেশি কমেছে। ডব্লিউটিআইয়ের সাপ্তাহিক গড় দামে ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ পতন দেখা গেছে। এমনিতেই কয়েক মাস ধরে করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বব্যাপীই জ্বালানির চাহিদা কমে গেছে। করোনার কারণে চীন থেকে প্রতিদিন এক কোটি ব্যারেল তেলের চাহিদা কমে গেছে। ক্রমহ্রাসমান চাহিদা কমার কারণে দাম কমায় জ্বালানি পণ্যটির আন্তর্জাতিক বাজারে চরম অস্থিরতার মধ্যে যাচ্ছে। প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর তেল কোম্পানিগুলো বাজারে শেয়ারের দর হারাতে শুরু করেছে। রাশিয়া বলছে, দাম কমে যাওয়ায় তাদের অর্থনীতিতে তেমন প্রভাব পড়বে না। কারণ, ব্যারেলপ্রতি ৪০ ডলার ধরে বাজেট পরিকল্পনা করে রাশিয়া।

উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত তেলনির্ভর অর্থনীতি। এসব দেশের সরকারি ব্যয় অনেক বেশি। নিজেদের আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম অন্তত ৭০ ডলার হওয়া প্রয়োজন তাদের জন্য। এ ছাড়া তেল রফতানিনির্ভর দেশ যেমন- ইরাক, ইরান, লিবিয়া ও ভেনেজুয়েলাকে চড়া মূল্য দিতে হবে। পার পাবে না যুক্তরাষ্ট্রও। কম দাম দেশটির তেল কোম্পানিগুলোকে ভালোই আঘাত করবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন