চাপে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা
jugantor
করোনার প্রভাব
চাপে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২২ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের প্রভাবে রেমিটেন্স ও রফতানি আয় কমে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সাত মাসে রেমিটেন্স প্রবাহে ইতিবাক ধারা বজায় থাকলেও একক হিসাবে ফেব্রুয়ারি থেকে কমতে শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে ২০ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছিল ১০ শতাংশ। মূলত রেমিটেন্স প্রবাহে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়ায় এ খাতে প্রবাহ বাড়ছে। গত ডিসেম্বর থেকে চীনে করোনার প্রভাব পড়তে শুরু করে। এটি ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে ছড়াতে শুরু করে। ফলে বিশ্বের অনেক দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। মার্কেট বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে প্রবাসীরা দেশে চলে আসছেন। ফলে তারা রেমিটেন্স পাঠাতে পারবেন না। আর যারা বিদেশে রয়েছেন, তারাও কাজ করতে না পারার কারণে রেমিটেন্স পাঠাতে পারবেন না। এর প্রভাব ইতিমধ্যে রেমিটেন্সে পড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছিল ১৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেড়েছে ১০ দশমিক ২০ শতাংশ। এক মাসে রেমিটেন্স প্রবৃদ্ধি কমেছে প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ। মার্চের শুরুতেও এর প্রবাহ আরও কমতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রেমিটেন্সের মধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের অস্ট্রেলিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর- এ চার দেশ থেকে আসে ১১ শতাংশ। এ চারটি দেশেও করোনার থাবা বসেছে। ফলে এসব দেশ থেকে রেমিটেন্স প্রবাহ কমবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো থেকে আসে সোয়া ১২ শতাংশ। এসব দেশে করোনা মহামারী রূপ নিয়েছে। ফলে ওইসব দেশ থেকে রেমিটেন্স প্রবাহ ভয়াবহভাবে কমে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আসে প্রায় ৬০ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসে সৌদি আরব থেকে। এখাকে করোনার প্রভাবে প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম থমকে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে সাড়ে ১১ শতাংশ। একই অবস্থা বিরাজ করছে এখানে। অন্যান্য দেশ থেকে আসে সাড়ে ৭ শতাংশ। ওইসব দেশেও করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এসব কারণে রেমিটেন্স প্রবাহ সামনের দিনগুলোয় কমে যেতে পারে।

এদিকে রফতানি আয়েও বড় ধরনের মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি এই সাত মাসে রফতানি বেড়েছিল প্রায় ১৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে কমেছে ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এর মধ্যে গত বছরের জানুয়ারিতে রফতানি আয় বেড়েছিল ১০ দশমকি ১২ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রফতানি আয় কমেছে ১ দশমিক ৮০ শতাংশ।

এদিকে বৈদেশিক অনুদানও কমেছে বেশ। গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে দেশে বৈদেশিক অনুদান প্রবাহ বেড়েছিল ৭৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সব খাতেই নেতিবাচক অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমে যাবে।

এদিকে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের মধ্যে করোনার প্রভাবে শুধু আমদানিতে নেতিবাচক অবস্থা বিরাজ করছে। এ কারণে আমদানি ব্যয় কমেছে। তবে দেশের করোনার প্রভাব মোকাবেলায় ওষুধ, ডাক্তার ও পুলিশের নিরাপত্তামূলক পোশাক আমদানি করা হচ্ছে। এ খাতে ব্যয় বাড়বে।

সরকারি-বেসরকারি খাতের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব বৈদেশিক ঋণ নেয়া হয়েছে, সেগুলোর কিস্তি পরিশোধ করতে হবে নিয়মিত। ফলে ওইসব খাতে ব্যয় কমবে না। এদিকে আমদানি খাতে শিল্পের কাঁচামাল কম আসায় উৎপাদন কম হবে। ফলে রফতানি আরও কমে যাবে। এতে দেশের বৈদেশিক ব্যয়ের চেয়ে আয়ের পরিমাণ কমে যাবে। এর প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট তৈরি হয়ে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বিশ্ব ও দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যখন যেটি প্রয়োজন, সেটি করা হবে। চেষ্টা করা হবে শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সচল রাখতে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশই ব্যয় হয় আমদানি খাতে। তবে সরকারি-বেসরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে ঋণ পরিশোধের পরিমাণও বেড়েছে। রফতানি ও রেমিটেন্স আয়ের অর্থ থেকেই এসব পরিশোধ করা হচ্ছে। করোনার প্রভাবে এ খাতে আয় কমে গেলে ঋণ পরিশোধেও সমস্যার সৃষ্টি হবে। তবে বিশ্ব পরিস্থিতি যেহেতু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, সে কারণে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এসব বিষয় আলোচনা করে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।

এদিকে রফতানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় বেশি হওয়ায় বাংলাদেশে প্রতিবছরই বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি হচ্ছে। এ ঘাটতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭৮০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২২ কোটি ডলার। রফতানি আয় ইতিমধ্যে কমতে শুরু করেছে। করোনার প্রভাবে রফতানি আয় আরও কমে যেতে পারে। আমদানি ব্যয়ও কমেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত আমদানি ব্যয় বাড়বে। কিন্তু দ্রুত রফতানি আয় বাড়ানোর সুযোগ কম।

রফতানিকারকরা বলছেন, বিদেশি ক্রেতারা রফতানির আদেশ বাতিল করে দিচ্ছেন। যেসব পণ্য তৈরি করে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়েছে জাহাজীকরণের জন্য, সেগুলো এখন জাহাজীকরণ করতে তারা নিষেধ করেছেন। কেননা করোনার প্রভাবে দোকানপাট খোলা যাচ্ছে না। ক্রেতা নেই। ফলে পণ্য তারা বিক্রি করতে পারছেন না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি ডলার। এ রিজার্ভ দিয়ে ৭ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। যেখানে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমান রিজার্ভ থাকলেই ঝুঁকি মোকাবেলায় নিরাপদ মান হিসাবে ধরা হয়, সেখানে বাংলাদেশের ৭ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমান রিজার্ভ রয়েছে। এ রিজার্ভ দিয়ে পণ্য আমদানি করে রফতানি শিল্পে কাঁচামালের জোগান দেয়া সম্ভব হবে।

করোনার প্রভাব

চাপে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা

 যুগান্তর রিপোর্ট  
২২ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের প্রভাবে রেমিটেন্স ও রফতানি আয় কমে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সাত মাসে রেমিটেন্স প্রবাহে ইতিবাক ধারা বজায় থাকলেও একক হিসাবে ফেব্রুয়ারি থেকে কমতে শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে ২০ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছিল ১০ শতাংশ। মূলত রেমিটেন্স প্রবাহে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়ায় এ খাতে প্রবাহ বাড়ছে। গত ডিসেম্বর থেকে চীনে করোনার প্রভাব পড়তে শুরু করে। এটি ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে ছড়াতে শুরু করে। ফলে বিশ্বের অনেক দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। মার্কেট বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে প্রবাসীরা দেশে চলে আসছেন। ফলে তারা রেমিটেন্স পাঠাতে পারবেন না। আর যারা বিদেশে রয়েছেন, তারাও কাজ করতে না পারার কারণে রেমিটেন্স পাঠাতে পারবেন না। এর প্রভাব ইতিমধ্যে রেমিটেন্সে পড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছিল ১৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেড়েছে ১০ দশমিক ২০ শতাংশ। এক মাসে রেমিটেন্স প্রবৃদ্ধি কমেছে প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ। মার্চের শুরুতেও এর প্রবাহ আরও কমতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রেমিটেন্সের মধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের অস্ট্রেলিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর- এ চার দেশ থেকে আসে ১১ শতাংশ। এ চারটি দেশেও করোনার থাবা বসেছে। ফলে এসব দেশ থেকে রেমিটেন্স প্রবাহ কমবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো থেকে আসে সোয়া ১২ শতাংশ। এসব দেশে করোনা মহামারী রূপ নিয়েছে। ফলে ওইসব দেশ থেকে রেমিটেন্স প্রবাহ ভয়াবহভাবে কমে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আসে প্রায় ৬০ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসে সৌদি আরব থেকে। এখাকে করোনার প্রভাবে প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম থমকে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে সাড়ে ১১ শতাংশ। একই অবস্থা বিরাজ করছে এখানে। অন্যান্য দেশ থেকে আসে সাড়ে ৭ শতাংশ। ওইসব দেশেও করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এসব কারণে রেমিটেন্স প্রবাহ সামনের দিনগুলোয় কমে যেতে পারে।

এদিকে রফতানি আয়েও বড় ধরনের মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি এই সাত মাসে রফতানি বেড়েছিল প্রায় ১৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে কমেছে ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এর মধ্যে গত বছরের জানুয়ারিতে রফতানি আয় বেড়েছিল ১০ দশমকি ১২ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রফতানি আয় কমেছে ১ দশমিক ৮০ শতাংশ।

এদিকে বৈদেশিক অনুদানও কমেছে বেশ। গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে দেশে বৈদেশিক অনুদান প্রবাহ বেড়েছিল ৭৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সব খাতেই নেতিবাচক অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমে যাবে।

এদিকে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের মধ্যে করোনার প্রভাবে শুধু আমদানিতে নেতিবাচক অবস্থা বিরাজ করছে। এ কারণে আমদানি ব্যয় কমেছে। তবে দেশের করোনার প্রভাব মোকাবেলায় ওষুধ, ডাক্তার ও পুলিশের নিরাপত্তামূলক পোশাক আমদানি করা হচ্ছে। এ খাতে ব্যয় বাড়বে।

সরকারি-বেসরকারি খাতের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব বৈদেশিক ঋণ নেয়া হয়েছে, সেগুলোর কিস্তি পরিশোধ করতে হবে নিয়মিত। ফলে ওইসব খাতে ব্যয় কমবে না। এদিকে আমদানি খাতে শিল্পের কাঁচামাল কম আসায় উৎপাদন কম হবে। ফলে রফতানি আরও কমে যাবে। এতে দেশের বৈদেশিক ব্যয়ের চেয়ে আয়ের পরিমাণ কমে যাবে। এর প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট তৈরি হয়ে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বিশ্ব ও দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যখন যেটি প্রয়োজন, সেটি করা হবে। চেষ্টা করা হবে শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সচল রাখতে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশই ব্যয় হয় আমদানি খাতে। তবে সরকারি-বেসরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে ঋণ পরিশোধের পরিমাণও বেড়েছে। রফতানি ও রেমিটেন্স আয়ের অর্থ থেকেই এসব পরিশোধ করা হচ্ছে। করোনার প্রভাবে এ খাতে আয় কমে গেলে ঋণ পরিশোধেও সমস্যার সৃষ্টি হবে। তবে বিশ্ব পরিস্থিতি যেহেতু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, সে কারণে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এসব বিষয় আলোচনা করে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।

এদিকে রফতানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় বেশি হওয়ায় বাংলাদেশে প্রতিবছরই বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি হচ্ছে। এ ঘাটতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭৮০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২২ কোটি ডলার। রফতানি আয় ইতিমধ্যে কমতে শুরু করেছে। করোনার প্রভাবে রফতানি আয় আরও কমে যেতে পারে। আমদানি ব্যয়ও কমেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত আমদানি ব্যয় বাড়বে। কিন্তু দ্রুত রফতানি আয় বাড়ানোর সুযোগ কম।

রফতানিকারকরা বলছেন, বিদেশি ক্রেতারা রফতানির আদেশ বাতিল করে দিচ্ছেন। যেসব পণ্য তৈরি করে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়েছে জাহাজীকরণের জন্য, সেগুলো এখন জাহাজীকরণ করতে তারা নিষেধ করেছেন। কেননা করোনার প্রভাবে দোকানপাট খোলা যাচ্ছে না। ক্রেতা নেই। ফলে পণ্য তারা বিক্রি করতে পারছেন না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি ডলার। এ রিজার্ভ দিয়ে ৭ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। যেখানে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমান রিজার্ভ থাকলেই ঝুঁকি মোকাবেলায় নিরাপদ মান হিসাবে ধরা হয়, সেখানে বাংলাদেশের ৭ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমান রিজার্ভ রয়েছে। এ রিজার্ভ দিয়ে পণ্য আমদানি করে রফতানি শিল্পে কাঁচামালের জোগান দেয়া সম্ভব হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন