এডিপি বাস্তবায়নে ১৫ চ্যালেঞ্জ
jugantor
আইএমইডি’র প্রতিবেদন
এডিপি বাস্তবায়নে ১৫ চ্যালেঞ্জ
প্রকল্প তৈরি ও অনুমোদন পর্যায়ে ৬টি, বাস্তবায়নাধীন ৫টি, বাস্তবায়ন-পরবর্তী ৪টি

  হামিদ-উজ-জামান  

২২ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১৫টি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প তৈরি ও অনুমোদন পর্যায়ে রয়েছে ৬টি চ্যালেঞ্জ। বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে ৫টি এবং বাস্তবায়ন-পরবর্তী পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে ৪টি। গত বৃহস্পতিবার চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশসহ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায়। এতে বলা হয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে আইএমইডি এ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইএমইডি’র সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহ বলেন, নিবিড় পরিবীক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে অনুমোদিত ব্যয় ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের মানসম্মত ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন অনেকাংশে সহজ হয়। আইএমইডি প্রকল্প গ্রহণ থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে থাকে। এ কাজ করতে গিয়ে প্রকল্প তথা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের সার্বিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে আনা হয়েছে।

এডিপি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো হল-

প্রণয়ন পর্যায় : প্রকল্প প্রণয়নের সময়ে চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে- প্রকল্প গ্রহণে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা না করে এবং ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হয়। এতে পরবর্তী সময়ে কাজের পরিধি বেড়ে যায়, বাড়ে ব্যয়। যথার্থতা সমীক্ষা ছাড়া প্রকল্প গ্রহণ ও ব্যয় প্রাক্কলন করা। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সার্বিক কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ না করা। বেইজলাইন ডাটা সংরক্ষিত না থাকা। প্রকল্প হাতে নেয়ার আগেই ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ভূমি চিহ্নিতকরণ এবং ওই জেলা প্রশাসকের প্রাথমিক সম্মতি গ্রহণ করা। মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর (এমটিবিএফ) সিলিং অনুসরণ না করে প্রকল্প গ্রহণ ও বৈদেশিক ঋণ প্রাপ্তিতে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার নানা শর্ত দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করে।

বাস্তবায়ন পর্যায় : অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ের চ্যালেঞ্জগুলো হচ্ছে, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লিখিত কর্মপরিকল্পনা এবং ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন না করা। বৃহৎ প্রকল্পে পূর্ণকালীন পরিচালক নিয়োগ না দেয়া। মাঠপর্যায়ে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী প্রকল্পের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে ফার্ম নিয়োগে বিভিন্ন আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে আদালতে মামলার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। এছাড়া আউটসোর্সিংয়ে ফার্ম, জনবল ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয়ে সমস্যা হচ্ছে। ফলে বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ করে গণপূর্ত অধিদফতরের প্রকল্প পরিচালকের অধীন সব দরপত্র কার্যক্রম সম্পন্ন হয় না। প্রকল্পে সিভিল কনস্ট্রাকশন ও পানি সরবরাহ কার্যক্রম প্রকল্প পরিচালকের মাধ্যমে হচ্ছে। আর ইলেকট্রো মেকানিক্যাল কার্যক্রম পিডব্লিউডির ইলেকট্রো মোকানিক্যাল বিভাগের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে প্রকল্প কাজে প্রায়ই সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে।

বাস্তবায়নের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ : প্র্রকল্প সমাপ্তির তিন মাসের মধ্যে সমাপ্তি প্রতিবেদন (পিসিআর) আইএমইডিতে পাঠানোর নির্দেশ মানা হচ্ছে না। প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত কার্যক্রম প্রকল্প শেষে পরিচালনার জন্য রাজস্ব বাজেটের অপ্রতুলতা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমাপ্ত প্রকল্পের আওতায় সৃষ্ট অবকাঠামো এবং সংগৃহীত যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। বাস্তবায়নের পরবর্তী সময়ে দক্ষ জনবল না থাকায় প্রকল্প শেষ হওয়ার পর প্রায়ই বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সেবা চুক্তি করতে হয়, যা সরকারি অর্থের অপচয়।

আইএমইডি’র প্রতিবেদন

এডিপি বাস্তবায়নে ১৫ চ্যালেঞ্জ

প্রকল্প তৈরি ও অনুমোদন পর্যায়ে ৬টি, বাস্তবায়নাধীন ৫টি, বাস্তবায়ন-পরবর্তী ৪টি
 হামিদ-উজ-জামান 
২২ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১৫টি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প তৈরি ও অনুমোদন পর্যায়ে রয়েছে ৬টি চ্যালেঞ্জ। বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে ৫টি এবং বাস্তবায়ন-পরবর্তী পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে ৪টি। গত বৃহস্পতিবার চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশসহ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায়। এতে বলা হয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে আইএমইডি এ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইএমইডি’র সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহ বলেন, নিবিড় পরিবীক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে অনুমোদিত ব্যয় ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের মানসম্মত ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন অনেকাংশে সহজ হয়। আইএমইডি প্রকল্প গ্রহণ থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে থাকে। এ কাজ করতে গিয়ে প্রকল্প তথা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের সার্বিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে আনা হয়েছে।

এডিপি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো হল-

প্রণয়ন পর্যায় : প্রকল্প প্রণয়নের সময়ে চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে- প্রকল্প গ্রহণে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা না করে এবং ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হয়। এতে পরবর্তী সময়ে কাজের পরিধি বেড়ে যায়, বাড়ে ব্যয়। যথার্থতা সমীক্ষা ছাড়া প্রকল্প গ্রহণ ও ব্যয় প্রাক্কলন করা। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সার্বিক কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ না করা। বেইজলাইন ডাটা সংরক্ষিত না থাকা। প্রকল্প হাতে নেয়ার আগেই ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ভূমি চিহ্নিতকরণ এবং ওই জেলা প্রশাসকের প্রাথমিক সম্মতি গ্রহণ করা। মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর (এমটিবিএফ) সিলিং অনুসরণ না করে প্রকল্প গ্রহণ ও বৈদেশিক ঋণ প্রাপ্তিতে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার নানা শর্ত দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করে।

বাস্তবায়ন পর্যায় : অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ের চ্যালেঞ্জগুলো হচ্ছে, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লিখিত কর্মপরিকল্পনা এবং ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন না করা। বৃহৎ প্রকল্পে পূর্ণকালীন পরিচালক নিয়োগ না দেয়া। মাঠপর্যায়ে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী প্রকল্পের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে ফার্ম নিয়োগে বিভিন্ন আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে আদালতে মামলার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। এছাড়া আউটসোর্সিংয়ে ফার্ম, জনবল ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয়ে সমস্যা হচ্ছে। ফলে বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ করে গণপূর্ত অধিদফতরের প্রকল্প পরিচালকের অধীন সব দরপত্র কার্যক্রম সম্পন্ন হয় না। প্রকল্পে সিভিল কনস্ট্রাকশন ও পানি সরবরাহ কার্যক্রম প্রকল্প পরিচালকের মাধ্যমে হচ্ছে। আর ইলেকট্রো মেকানিক্যাল কার্যক্রম পিডব্লিউডির ইলেকট্রো মোকানিক্যাল বিভাগের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে প্রকল্প কাজে প্রায়ই সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে।

বাস্তবায়নের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ : প্র্রকল্প সমাপ্তির তিন মাসের মধ্যে সমাপ্তি প্রতিবেদন (পিসিআর) আইএমইডিতে পাঠানোর নির্দেশ মানা হচ্ছে না। প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত কার্যক্রম প্রকল্প শেষে পরিচালনার জন্য রাজস্ব বাজেটের অপ্রতুলতা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমাপ্ত প্রকল্পের আওতায় সৃষ্ট অবকাঠামো এবং সংগৃহীত যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। বাস্তবায়নের পরবর্তী সময়ে দক্ষ জনবল না থাকায় প্রকল্প শেষ হওয়ার পর প্রায়ই বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সেবা চুক্তি করতে হয়, যা সরকারি অর্থের অপচয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন