বিশ্বব্যাংকের ১৭ কোটি ডলার অনুমোদন
jugantor
ঢাকার স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন
বিশ্বব্যাংকের ১৭ কোটি ডলার অনুমোদন

  যুগান্তর ডেস্ক  

২২ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়নে ১৭ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক- যা স্থানীয় মুদ্রায় ১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ধরে)। ‘ঢাকা স্যানিটেশন ইমপ্রুভমেন্ট’ শীর্ষক একটি প্রকল্পে এ সহায়তা দিচ্ছে সংস্থাটি। এটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ওয়াসা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৪ হাজার ৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ১৯৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। বাকি ১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা ঋণ দেবে এশিয়ান ইনফ্রাসট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ঋণ সহায়তা দেবে। প্রকল্পটি চলতি মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ঢাকা শহরের চিহ্নিত এলাকাগুলোতে উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এছাড়া পয়ঃনিষ্কাশন সেবা খাতে ঢাকা ওয়াসার প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ঢাকা ওয়াসা সূত্র জানায়, বর্তমান পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজধানীবাসীর মাত্র ২০ শতাংশ জনগণকে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিদ্যমান পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। ঢাকা শহরে মাত্র একটি পয়ঃশোধনাগার চলমান রয়েছে। যেটি পাগলায় অবস্থিত। স্যুয়ারেজ কালেকশন নেটওয়ার্কের অপ্রতুলতা, ব্লকেজ এবং ভেঙ্গে যাওয়ায় এটির পরিশোধনের সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা শহরের অধিকাংশ জনগণ তাদের পয়ঃবর্জ্য আশপাশের স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজ লাইনে অথবা খাল-বিলে নিষ্কাশন করছে। এতে নদী ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ফলে রাজধানীর মানুষের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা ওয়াসার মাস্টার প্লান অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঢাকার দক্ষিণে অবস্থিত পাগলা ক্যাচমেন্টের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকা স্যানিটেশন ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে অর্থায়নের প্রস্তাব করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি ঋণ দেয়ার আগ্রহ দেখায়। এরই ধারাবাহিকতায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষাসহ প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ফলে ঢাকা শহরের চিহ্নিত এলাকায় উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন এবং এ খাতে ঢাকা ওয়াসার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- পরামর্শক সেবা গ্রহণ, বিদ্যমান পাগলা শোধনাগারটি পুনর্নির্মাণ, লাইন পুনর্নির্মাণ, পাগলা ক্যাচমেন্ট এরিয়ার জন্য ৪৬২ কিলোমিটার স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক নির্মাণ, দুই লট কমিউনাল সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ ও পরিচালনা, পাগলা এলাকার ইনস্যানিটারি টয়লেটগুলো আপগ্রেডেশন, ১০০ শতক জমি অধিগ্রহণ, ২০টি গাড়ি ক্রয়, ২০টি মোটরসাইকেল ক্রয়, আইটি ইকুইপমেন্ট এবং স্যুয়ার ক্লিনিং ইকুইপমেন্টস ক্রয়সহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

ঢাকার স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন

বিশ্বব্যাংকের ১৭ কোটি ডলার অনুমোদন

 যুগান্তর ডেস্ক 
২২ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়নে ১৭ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক- যা স্থানীয় মুদ্রায় ১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ধরে)। ‘ঢাকা স্যানিটেশন ইমপ্রুভমেন্ট’ শীর্ষক একটি প্রকল্পে এ সহায়তা দিচ্ছে সংস্থাটি। এটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ওয়াসা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৪ হাজার ৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ১৯৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। বাকি ১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা ঋণ দেবে এশিয়ান ইনফ্রাসট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ঋণ সহায়তা দেবে। প্রকল্পটি চলতি মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ঢাকা শহরের চিহ্নিত এলাকাগুলোতে উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এছাড়া পয়ঃনিষ্কাশন সেবা খাতে ঢাকা ওয়াসার প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ঢাকা ওয়াসা সূত্র জানায়, বর্তমান পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজধানীবাসীর মাত্র ২০ শতাংশ জনগণকে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিদ্যমান পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। ঢাকা শহরে মাত্র একটি পয়ঃশোধনাগার চলমান রয়েছে। যেটি পাগলায় অবস্থিত। স্যুয়ারেজ কালেকশন নেটওয়ার্কের অপ্রতুলতা, ব্লকেজ এবং ভেঙ্গে যাওয়ায় এটির পরিশোধনের সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা শহরের অধিকাংশ জনগণ তাদের পয়ঃবর্জ্য আশপাশের স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজ লাইনে অথবা খাল-বিলে নিষ্কাশন করছে। এতে নদী ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ফলে রাজধানীর মানুষের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা ওয়াসার মাস্টার প্লান অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঢাকার দক্ষিণে অবস্থিত পাগলা ক্যাচমেন্টের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকা স্যানিটেশন ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে অর্থায়নের প্রস্তাব করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি ঋণ দেয়ার আগ্রহ দেখায়। এরই ধারাবাহিকতায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষাসহ প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ফলে ঢাকা শহরের চিহ্নিত এলাকায় উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন এবং এ খাতে ঢাকা ওয়াসার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- পরামর্শক সেবা গ্রহণ, বিদ্যমান পাগলা শোধনাগারটি পুনর্নির্মাণ, লাইন পুনর্নির্মাণ, পাগলা ক্যাচমেন্ট এরিয়ার জন্য ৪৬২ কিলোমিটার স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক নির্মাণ, দুই লট কমিউনাল সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ ও পরিচালনা, পাগলা এলাকার ইনস্যানিটারি টয়লেটগুলো আপগ্রেডেশন, ১০০ শতক জমি অধিগ্রহণ, ২০টি গাড়ি ক্রয়, ২০টি মোটরসাইকেল ক্রয়, আইটি ইকুইপমেন্ট এবং স্যুয়ার ক্লিনিং ইকুইপমেন্টস ক্রয়সহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন