কেরানীগঞ্জ ও উর্দু রোড

পোশাক কারখানায় ব্যস্ততা তুঙ্গে

  ইয়াসিন রহমান ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর গার্মেন্ট পল্লীর কারখানাগুলোর কারিগরদের ব্যস্ততা চরমে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে তারা দিন-রাত বিভিন্ন ধরনের ঈদ পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কারও যেন একটু দম ফেলার ফুসরত নেই। মেয়েদের থ্রি-পিস, ছেলেদের প্যান্ট, পাঞ্জাবি, শার্ট থেকে শুরু করে ছোটদের পোশাক সবকিছুই তৈরি হচ্ছে এসব কারখানায়।

সরেজমিন রাজধানীর কেরানীগঞ্জের পোশাক পল্লী ঘুরে দেখা গেছে, সেখানকার আশা কমপ্লেক্সের দ্য জনতা গার্মেন্টের কারখানায় ৫০ জন কারিগর মেয়েদের থ্রি-পিস তৈরি করছেন। কারখানার এক পাশে চলছে কাপড় কাটার কাজ। আর অন্য পাশে কারিগররা সেলাইয়ের কাজ করছেন। কারখানার মালিক মো. সবুজ খান যুগান্তরকে জানান, এবার ঈদকে ঘিরে মেয়েদের ৩০ হাজার থ্রি-পিস তৈরি করবেন। আর এতে বাজেট রেখেছেন প্রায় দেড় কোটি টাকা। তিনি আরও জানান, ঈদে দেশি কাপড়ের তৈরি পণ্য বিক্রি কিছুটা কম হয়। তাই পুরান ঢাকার ইসলামপুর থেকে ইন্ডিয়ান ও চায়নার কাপড় কিনে আনেন। পরে এগুলো ভারতীয় পোশাকের ডিজাইনে থ্রি-পিস তৈরি করে বিক্রি করেছেন।

কেরানীগঞ্জের জেলা পরিষদ মার্কেটের খান গার্মেন্টে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট একটি ঘরে ১৫ জন কারিগর জিন্স প্যান্ট তৈরির কাজ করছেন। কারখানার মালিক মো. উবায়দুল ইসলাম রাজু শ্রমিকদের নিয়ে তৈরি হওয়া প্যান্ট নিজ দোকানসহ বিভিন্ন পাইকারি দোকানে সরবরাহ করতে প্যাকিং করে থরে থরে সাজিয়ে রাখছেন। তিনি যুগান্তরকে জানান, গতবার রমজানের ঈদকে ঘিরে ৪৫ হাজার প্যান্ট তৈরি করেছিলেন। এবার ৫০ হাজার প্যান্ট তৈরি করবেন। তাই কারখানায় কাজের ব্যস্ততা অনেক বেড়েছে।

এদিকে পূর্ব আগানগরের আল-মদিনা পাঞ্জাবির কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, ৩০ জন কারিগর বাহারি ডিজাইনের পাঞ্জাবি তৈরি করছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি পিস পাঞ্জাবি সেলাই করতে কারখানার মালিক তাদের ডিজাইনভেদে ২৫ থেকে ৩০ টাকা দিয়ে থাকেন। কারখানার মালিক মো. সুমন যুগান্তরকে বলেন, এবারের ঈদের বাজার ধরতে তারা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার পিস পাঞ্জাবি তৈরি করবেন। এই পাঞ্জাবি তৈরি করতে এক কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আর এই বিনিয়োগের ৮০ শতাংশ টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। বাকি ২০ শতাংশ আগের বছরের লাভের থেকে বিনিয়োগ করেছেন। তিনি জানান, মার্কেটে ভারতীয় পণ্য আসাতে ব্যবসার সার্বিক পরিস্থিতি খারাপ যাচ্ছে। কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আট হাজার পোশাক কারখানা আছে কেরানীগঞ্জে। বিক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা দশ হাজারের বেশি। আর ঈদ মৌসুমে প্রায় হাজার কোটি

টাকার লেনদেন হয়। এখানকার বিক্রয় কেন্দ্র ও কারখানায় দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ ছাড়া সারা বছর যে ব্যবসা হয় তার ৬০-৭০ শতাংশই দুই ঈদকেন্দ্রিক। সে জন্য গত কোরবানির ঈদের পর থেকেই পোশাক তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে কারখানাগুলো। আর শবে বরাতের পর বেচাবিক্রি পুরোদমে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম বলেন, বছরের প্রতিদিন কেরানীগঞ্জের পোশাক কারখানাগুলো সচল থাকে। তবে ঈদকে ঘিরে কেরানীগঞ্জের পোশাক পল্লীর কারখানাগুলোর ব্যস্ততা বহু গুণ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, দেশে এখনও স্বল্প আয়ের মানুষের সংখ্যা বেশি। তাদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি মাথায় রেখেই কেরানীগঞ্জের কারখানাগুলোতে পোশাক তৈরি হয়। অন্যদিকে পুরান ঢাকার চকবাজার, উর্দু রোডসহ বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা ঘুরে কারিগরদের ঈদ পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। উর্দু রোডের এ্যানি ফ্যাশন হাউসের কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, ছোট একটি ঘরে ১৫ জন কারিগর থ্রি-পিস তৈরির কাজ করছেন। কারখানার মালিক ইয়াছিন আহমেদ সুমন যুগান্তরকে বলেন, কারখানার কারিগরদের এখন দম ফেলার সময় নেই। কারণ এখান থেকেই বাচ্চাদের ফতুয়া ও বড়দের থ্রি-পিস তৈরি করে দোকানে নিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। এর মধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি বিক্রেতারা এসে ভিড় জমাচ্ছেন।

এখানকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীর সাউথ রোড, কামরাঙ্গীর চর, লালবাগ ও উর্দু রোডে ৪৮০টি দোকানের নিজস্ব গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সব মিলিয়ে এখানে ৭০০টি পোশাক তৈরির কারখানা আছে। দেশের বড় বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ পোশাকের চাহিদা সামাল দিতে এখানকার ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন।

জানতে চাইলে উর্দু রোড অভ্যন্তরীণ গার্মেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ময়না গার্মেন্টের মালিক হাজী মো. রমজান গাজী যুগান্তরকে বলেন, ঈদকে ঘিরে এখানকার বিভিন্ন মার্কেটের দোকানগুলোর মালিক ও কর্মচারীর নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই। কারখানার পোশাক তৈরির ব্যস্ততা শেষের পথে। ইতিমধ্যে পাইকারি বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। আশা করি গত বছরের চেয়ে এ বছর বেচাবিক্রি ভালো হবে।

পোশাক কারখানার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের ঈদের পোশাকের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পোশাক কেরানীগঞ্জ ও উর্দু রোডের পোশাক কারখানা থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হবে না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter