খেজুরের মজুদ চাহিদার ৩ গুণ

  হামিদ বিশ্বাস ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দিন কয়েক পরেই পবিত্র মাহে রমজান। এ মাসে খাদ্যপণ্যের বাড়তি চাহিদা থাকে। রমজানে ইফতারির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ খেজুর। মূলত সারা বছর পণ্যটির খুব বেশি চাহিদা না থাকলেও রোজা এলেই এটির চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে দেশে খেজুরের মজুদ চাহিদার প্রায় তিনগুণ বেশি রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও পণ্যটির দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকা নিয়ে শঙ্কায় আছেন ভোক্তারা। কারণ প্রতিবছরই চাহিদার থেকে বেশি মজুদ থাকে খেজুর। কিন্তু ভোক্তারা সে সুবিধা পান না। বরং উল্টো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যটির দাম বাড়িয়ে দেয়।

জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে জানান, সাধারণত রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম কিছুটা বেড়ে যায়। এজন্য দায়ী হল- ভোক্তার আচরণ ও ব্যবসায়ীদের অতি লোভ। ভোক্তারা হুড়াহুড়ি করে রমজানের প্রথম সপ্তাহে সব কিনতে চান। এতে পণ্যের চাহিদা রাতারাতি বেড়ে যায়। সে সুযোগটা ব্যবসায়ীরা দু’ভাবে কাজে লাগান। প্রথমত, চাহিদা বেশি হওয়ায় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন; দ্বিতীয়ত, কৃত্রিমভাবে পণ্যের সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দেন। এক্ষেত্রে সব পক্ষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এরপরেও অস্বাভাবিক দাম বাড়লে সরকারের উচিত হবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, দেশে এখন দুর্বল কোনো খেজুর নেই। এক সময় ছিল। যেহেতু উন্নতমানের খেজুর আমদানি করা হয়, তাই দাম একটু বেশি। এছাড়া এ পণ্যটি শুধু রমজানে ভালো চলে। সারা বছর রমজানের অপেক্ষায় বসে থাকেন ব্যবসায়ীরা। সে অপেক্ষার অংশটুকুও আদায় করে নেন এ মাসে।

সূত্র জানায়, বছরজুড়ে খেজুরের চাহিদা তৈরি হয় ২০ হাজার টন। দেশে খেজুরের উৎপাদন হয় না বলে পুরোটাই নির্ভরশীল আমদানির ওপর। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে খেজুর আমদানি করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৮৮২ টন। চাহিদা পূরণের পর পণ্যটির উদ্বৃত্ত মজুদ আছে ২৩ হাজার ৮৮২ টন। চলতি অর্থবছরের ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত আমদানি করা হয় ৩৯ হাজার ১৫৪ টন। ১১-১৮ মার্চ পর্যন্ত আমদানির জন্য পণ্যটির এলসি (ঋণপত্র) খোলা হয়েছে ২৫৪ টন। একই সময়ে খালাস হয় ১ হাজার ৬৮ টন। মার্চ পর্যন্ত এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির হিসাব ধরে খেজুরের মজুদ দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ১০৪ টন। সে হিসাবে বলা যায় বর্তমানে পণ্যটির মজুদ চাহিদার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, রমজানে খেজুরের সংকট হবে না। পর্যাপ্ত পরিমাণের মজুদ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছরের রমজানের আগে খেজুরের এলসি খোলা হয়েছে ১০ হাজার ৪০৮ টন। সে সময় ৯ হাজার ৩৮৩ টন খেজুরের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে খেজুরের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি যথাক্রমে ১৬ হাজার ২৩৫ ও ১০ হাজার ৬৯৯ টন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter