সন্তোষজনক মজুদ ছাড়া ভিজিএফ নয়

  মিজান চৌধুরী ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সন্তোষজনক মজুদ গড়ে তোলার আগে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচি চালু করা হবে না। খাদ্য সংকটের কারণে গরিব মানুষের সহায়তা এই কর্মসূচি বর্তমানে বন্ধ আছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধান কমিটির বৈঠকে নেয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। সেখানে খাদ্য মজুদ নতুন বছরে ১০ লাখ টনে উন্নীত করার নির্দেশ দেয়া হয়। আর এই মজুদ গড়ে তোলার পর ভিজিএফ কর্মসূচির বিপরীতে বরাদ্দ খাদ্য সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকের কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা পরিষদের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক এম কে মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, খাদ্যের মজুদ সিলিং না থাকায় বড় ধরনের প্রাকৃতিকসহ যে কোনো দুর্যোগ হলে সরকারকে বেকায়দায় পড়তে হবে এটাই স্বাভাবিক। এর বড় প্রমাণ হল সম্প্রতি দেশে একটি আগাম ও মৌসুমি বন্যায় খাদ্যের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভিজিএফ কর্মসূচি বন্ধ ও সরকারিভাবে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করতে হয়েছে। এ জন্য খাদ্যের আপদকালীন মজুদ নির্ধারণ করা দরকার।

জানা গেছে ভিজিএফ কর্মসূচি বন্ধ করতে গত বছর মাঝামাঝি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একটি চিঠি দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে। সেখানে তিনি বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচির নামে একটি খাদ্য বিতরণ চালু আছে। পাশাপাশি দুর্যোগ উপলক্ষে সরাসরি খাদ্য বরাদ্দ দেয়া হয়। আমার মনে হয়, এখন ভিজিএফ কার্যক্রম পরিচালনার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। কারণ বছরে প্রায় ৫ মাসের জন্য নিয়মিত অনেক খাদ্য বিতরণ করা হয়। সেখানেই সমুদয় চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করতে পারি। তা ছাড়া এখন মোটামুটিভাবে খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং উদ্বৃত্তও বটে। সুতরাং যথাযথ দাম দিয়ে খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ করতে হবে এবং তা স্বল্পমূল্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গরিব জনগোষ্ঠীর জন্য বিতরণ করতে হবে। তাই ভিজিএফ কার্যক্রম বাদ দেয়ার প্রস্তাব করছি। এর পরিবর্তে থাকবে নিয়মিত কম দামে খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রম। জানা গেছে, অর্থমন্ত্রীর এই প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে বন্যাদুর্গত এলাকা ছাড়া অন্য স্থানে এই কর্মসূচি বন্ধ করা হয়। গত বছরের ১৬ আগস্ট খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধান কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কার্ডধারী প্রায় ১ কোটি পরিবার ভিজিএফের সুবিধাভোগী। ভিজিএফ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রধান ধর্মীয় উৎসব ও নানা সময় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হতো। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে মৎস্যজীবী পরিবার, চা-বাগানের শ্রমিক, আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুনর্বাসিত পরিবার, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এবং ঈদ উপলক্ষে সারা দেশের হতদরিদ্র পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি ভিটেহীন মানুষ, নারী শ্রমিকের আয় বা ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভরশীল, উপার্জনের মতো কোনো সম্পদ নেই, স্বামী পরিত্যক্তা বা তালাকপ্রাপ্ত, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, অসচ্ছল, অক্ষম ও প্রতিবন্ধী পরিবারের প্রধানরাও সুবিধাবঞ্চিত হয়ে পড়েন।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচি আবার চালু করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিচালক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন জেলার সংশ্লিষ্ট ডিসিরা অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধান কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে সরকারি খাদ্যশস্য মজুদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলা হয়। এরপর এই কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দের বিপরীতে খাদ্য সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর সূত্র জানায়, গত ঈদুল ফিতরে ৬৪ জেলার ৪৮৯ উপজেলায় ৮৮ লাখ দুস্থ পরিবারকে বিনামূল্যে ২০ কেজি করে চাল সরবরাহ করে সরকার। এ জন্য ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৬৫ টন চাল বরাদ্দ হয়।

এদিকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা মজুদ ১০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ওই বৈঠকে। সেখানে তথ্য উপস্থাপন করে বলা হয়, ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারিভাবে ৪ লাখ ১৮ হাজার টন চাল এবং ১ লাখ ৩১ হাজার টন গম আমদানি করা হয়েছে। আর সহায়তা হিসেবে ৪৮ হাজার টন গম পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি খাতে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৩৬ হাজার টন, আর্থিক খাতে ২ লাখ ৬৬ হাজার টন এবং ত্রাণমূলক খাতে ২ লাখ ৭০ হাজার টন। সেখানে বলায় আগাম বন্যায় হাওর অঞ্চলের ধান ক্ষতি হয়। পাশাপাশি ব্লাস্ট রোগের কারণেও ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া অতিবৃষ্টি ও মৌসুমি বন্যাতে অনেক ধান নষ্ট হয়। সার্বিক দিক বিবেচনা করে নতুন করে খাদ্য নিরাপত্তা মজুদ বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter