গুড়ের নামে কি খাচ্ছি!

  সাব্বির আহমেদ, বাঞ্ছারামপুর ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | অনলাইন সংস্করণ

চিটাগুড়ের সঙ্গে চিনি, রং ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে দেদার তৈরি হচ্ছে বিষাক্ত ভেজাল গুড়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর বাজারে তিনটি কারখানায় প্রতি সপ্তাহে কয়েক টন গুড় তৈরি হয়। এগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বিক্রি করা হচ্ছে। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৪ জুলাই ভেজাল গুড় তৈরির অপরাধে বিশুদ্ধ খাদ্য আইনে তিন কারখানার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই আদালত পরিচালনা করেন তৎকালীন ইউএনও সুমন চৌধুরী। কিন্তু বর্তমানে ভেজাল গুড় তৈরি ও বিক্রি অব্যাহত থাকলেও রহস্যজনক কারণে উপজেলা প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার উজানচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন, নুরুল ইসলামের ছেলে খোকন মিয়া ও অজিত সাহা পৃথক তিনটি কারখানায় গত প্রায় ছয় বছর ধরে ভেজাল গুড়ের ব্যবসা করে আসছেন। এসব অসাধু ব্যবসায়ী রাত-দিন ভেজাল গুড় তৈরি করে আসছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, উজানচর বাজারের তৈরি গুড় দেশের বেশ কয়েকটি জেলার পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। এজন্য প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১০০ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন করা হচ্ছে। ওই গুড় ঢাকা জেলার সাভার, কেরানীগঞ্জ, রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নরসিংদীর সদর, ঘোড়াশাল, গাজীপুরের টঙ্গী, কুমিল্লার মুরাদনগর, হোমনা, তিতাস, মেঘনা, দাউদকান্দি, কোম্পানীগঞ্জ বাজার, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার পাইকারদের নিকট বিক্রি করছেন তারা। ট্রাক, পিকআপ ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে এসব গুড় বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। সরেজমিনে সম্প্রতি উজানচর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তিন কারখানায় ভেজাল গুড় তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। গিয়াসের কারখানায় তিনটি চুল্লি, খোকন মিয়ার কারখানায় তিনটি চুল্লি ও অজিতের কারখানায় দুটি চুল্লিতে গুড় তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি কারখানায় ১২-১৫ জন করে শ্রমিক কাজ করছে। এসব গুড় তৈরির কারখানায় শত শত বস্তা চিনি দেখা যায়। চিটা ও পচা গুড় উত্তরবঙ্গ থেকে ট্রাকে করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর বাজারে নিয়ে আসে এসব ব্যবসায়ী। এসব চিটাগুড়ের টিন কারখানার ভেতরে মজুদ করা হয়। কারখানার শ্রমিকরা জানান, চিটাগুড়ের সঙ্গে পানি ও চিনি মিশিয়ে চুলায় একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একটি মিশ্রণ তৈরি করা হয়। ওই মিশ্রণে কাপড়ে দেয়া লাল রং ও রাসায়নিক মেশানো হয়। পরে ওই গুড় মাটির গামলায় ভরে ঠাণ্ডা করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে শ্রমিক মো. মোস্তফা বলেন, ‘আমরা গুড়ের লগে রং দেই গুড়টা সুন্দর দেখা যাওনের জন্য আর ফিটকারি দেয়া অয় কোনো ময়লা থাকলে সেইডা পরিষ্কার হওনের লাইগা। শ্রমিক ওসমান মিয়া বলেন, সারা বছর ধইরাই গুড় তৈরি হয়। রমজান মাসের আগে দিনরাইত ২৪ ঘণ্টা গুড় তৈরি করা লাগে ওই সময় গুড়ের চাহিদা অনেক থাকে বেশি তাই।’ এ বিষয়ে কারখানার মালিক মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘গুড়ের রং সুন্দর করার জন্য কিছু মেডিসিন দেয়া হয়। এসব মেডিসিন কোনো ক্ষতি হয় বলে আমার মনে হয় না। গুড় পরিষ্কার করার জন্য ফিটকারি ব্যবহার করা হয় এতে কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। আমার গুড় কারওয়ান বাজার, সাভার, জিনজিরা, রামচন্দ্রপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় যায়। ব্যবসা যেহেতু করি কমবেশি সব জায়গাতেই গুড় যায়। থানা পুলিশের হালকা একটা খরচ দেই।’ আরেক ভেজাল কারখানার মালিক খোকন মিয়া বলেন, ‘আমরার কারখানায় সরকার অনুমোদিত মিনা রং দেই, আর পানি পরিষ্কার করণের ফিটকারি দেই আমরা। এখন আগের তুলনায় গুড়ের উৎপাদনটা কম।’ এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি বাঞ্ছারামপুরে নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এমন ভেজাল কারখানা থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেব। বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ টাকা নেয় এটাও আমার জানা নেই।’

 
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter