বাণিজ্য মেলা

খণ্ডকালীন চাকরিতে বাড়তি আয়

  ইয়াসিন রহমান ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা মানেই দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পণ্যের সমাহার ও কেনাকাটা। মেলায় পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির পুরোটাই সামাল দিচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা। এতে বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়নে কয়েক হাজার তরুণ-তরুণীর খণ্ডকালীন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। যার মাধ্যমে বাড়তি আয় ও অভিজ্ঞতা অর্জন করছে তারা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূলত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই মেলায় অংশ নেয়া বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়নের প্রাণ। তবে ভালো আয়ের পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনকেই মুখ্য হিসেবে দেখছেন এসব তরুণ-তরুণী। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের বাণিজ্য মেলায় অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন প্রায় ৫ হাজার খণ্ডকালীন বিক্রয় কর্মী। এসব কর্মী এক মাসে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বা তারও বেশি উপার্জন করছে। পড়ালেখার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তাদের অনুপ্রাণিত করছে। সরেজমিন বাণিজ্য মেলা ঘুরে প্রায় প্রতিটি স্টল ও প্যাভিলিয়নে এসব খণ্ডকালীন বিক্রয় কর্মীদের দেখা গেছে। তারা ভদ্রসুলভ বাচনভঙ্গিতে মেলায় আসা ক্রেতা দর্শনার্থীদের বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে পরিচয় করাচ্ছেন। স্টলে বিভিন্ন পণ্যের মান সম্পর্কে বোঝাচ্ছেন। এক পণ্যের সঙ্গে অন্য পণ্যের তুলনা করিয়ে পার্থক্য দেখাচ্ছেন। পরে ক্রেতাদের কোনো পণ্য পছন্দ হলে তা বিক্রির শেষ প্রক্রিয়া পর্যন্ত তাদের সাহায্য করছেন। আরএফএল স্টলের বিক্রয়কর্মী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি অবসর সময়ে এই কাজ করে অনেক অভিজ্ঞতা হচ্ছে। আর সঙ্গে মিলছে বাড়তি কিছু উপার্জন। যা দিয়ে আমার হাত খরচের টাকা হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। ইকো উড স্টলের বিক্রয়কর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রেজাউল হোসেন রাজু যুগান্তরকে বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি এটা আমার একটা বাড়তি আয়। এছাড়া এই প্লাটফর্ম থেকে অনেক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে পরিচয় ঘটে। যা তাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এছাড়া যে স্টলে খণ্ডকালীন কাজ করছি, এখানে আমার কাজ ভালো লাগলে এই কোম্পানিতেই স্থায়ীভাবে চাকরি পাওয়ার সুযোগ আছে। তাই এই বাণিজ্য মেলায় খণ্ডকালীন কাজ করে বাড়তি টাকা আয় করার একটি প্লাটফর্ম বলে আমি মনে করি। ইগলু আইসক্রিম স্টলের বিক্রয়কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিপা জানান, এ ধরনের কাজ করতে আমার ভালো লাগে। আমি চাকরি করছি আমার অবসর সময়টা কাজে লাগানোর জন্য। এছাড়া ছাত্রজীবন থেকেই এই অভিজ্ঞতাটা অনেক প্রয়োজন। মূল কর্মজীবনে অভিজ্ঞতা কেমন হয় তা এখান থেকে শিক্ষা নিচ্ছি। এ প্রসঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হেড অব ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট আদিল খান বলেন, বাণিজ্য মেলা শুধু মেলা বা বাণিজ্য নয়। এটা এক ধরনের জব ক্রিয়েশন ক্ষেত্র। প্রতিবছর আমাদের প্রতিষ্ঠান অনেক ছেলেমেয়ের খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ দিয়ে থাকে। এবারও পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে কাজের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এজন্য তাদের প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। এই মেলায় যেসব তরুণ-তরুণী ভালো পারফরমেন্স দেখাবে, আমরা তাদের পরে বিভিন্ন সেলস পদে নিয়মিত কাজের সুযোগ দেব। সুতরাং এটা শুধু খণ্ডকালীন চাকরি, সেটা বলা যাবে না। মেলায় ব্যাক চিকেনের কর্মকর্তা তানিমুল আজাদ বলেন, অভিজ্ঞতা থাকতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বাণিজ্য মেলায় এক মাসের খণ্ডকালীন চাকরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যমী তরুণ-তরুণীই আমাদের প্রথম পছন্দ। তবে বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে কাজের প্রতি আগ্রহ, সহজ-সাবলীল উপস্থাপনা, সুন্দর বাচনভঙ্গি, ইংরেজিতে দক্ষতা, সুন্দর পোশাক-পরিচ্ছদ, যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে দক্ষরাই এতে বেশি যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। এক মাসের কাজের জন্য সম্মানী হিসেবে ১৫ থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত টাকা আয় করতে পারছেন তারা। এছাড়া সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, বিকালের নাশতাসহ মেলার জন্য প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট পোশাকও দেয়া হচ্ছে। কেউ চাইলে এই এক মাসের কাজের অভিজ্ঞতার সনদও দেয়া হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter