শীতের সঙ্গে বাড়ছে গরম কাপড়ের দাম

এক মাসে দাম বেড়েছে দ্বিগুণ * চাহিদা বাড়ায় বেশি দাম রাখার অভিযোগ

  বাহাউদ্দিন ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীসহ সারা দেশে জেঁকে বসেছে শীত। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গরম কাপড়ের চাহিদা ও দাম। সোয়েটার, উলের পোশাক, ব্লেজার, ট্রাউজার, জ্যাকেট, চাদর, মাপলার, কানটুপিসহ নানা ধরনের শীতবস্ত্রের দাম এখন তুলনামূলক বেশি। শীতের শুরুতে যে দাম ছিল এখন কোনো কোনো গরম কাপড়ের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। শীত বেশি থাকায় পোশাকের চাহিদাও বেশি। আর এ চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা বেশি দাম রাখছে বলে অভিযোগ করেন ক্রেতারা।

সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, এক মাস আগে শীতের শুরুতে গরম কাপড়ের যে দাম ছিল এখন তা প্রায় দ্বিগুণ। বর্তমানে ২০০ থেকে শুরু করে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামের সোয়াটার ও উলের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। দেশি ব্লেজার মিলছে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা। চাইনিজ ব্লেজার ১ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকায়। লেদারের জ্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকায়। শাল ৩০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে পাওয়া যাচ্ছে। কাশ্মীরি শাল পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকায়। ফুলহাতা গেঞ্জি পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে ৫০০ টাকায়। শীতের শুরুতে অধিকাংশ পোশাকের দামই ছিল অনেক কম।

নিউমার্কেটের মায়ের দোয়া ফ্যাশন হাউসের মালিক জুবায়ের আল হাসান যুগান্তরকে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে শীতের পোশাক ভালো বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নানা ধরনের শীতে পোশাক এনেছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারাও ভিড় করছেন তাদের পছন্দের পোশাক কিনতে। তাই বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। দামের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, শীতের সময়ই কেবল শীত পোশাকের বিক্রি হয়, তাই ব্যবসায়ীরা একটু লাভে বিক্রি করছে। তবে দাম সর্বসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই আছে, না হলে তো তারা কিনত না।

বঙ্গবাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চায়নার বিভিন্ন ধরনের শাল ও চাদর বিক্রি করছেন ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা। দেশি ভালো মানের দাম ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা। উলের তৈরি সোয়েটার বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। কাপড়ের জুতা ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। জ্যাকেট ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অপেক্ষাকৃত কম দামে বিভিন্ন ধরনের শীত পোশাক পাওয়া যাচ্ছে নগরীর ফুটপাতে। মার্কেটের তুলনায় দাম কম হওয়ায় নিন্ম আর মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজনের ভিড়ও ফুটপাতে বেশি। রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউছিয়া, ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেট, ফার্মগেট, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাতে উলের সোয়েটারের দাম পড়ছে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে উলের পায়জামা। মানভেদে জ্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায়। আর বাচ্চাদের কাপড়ের জুতা পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ১০০ টাকায়।

বঙ্গবাজারে কথা হয় সেখানকার আল-কাস গার্মেন্টের মালিক আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, শীত বাড়ায় বেচা-বিক্রিও বাড়ছে। সারা দিনই খুচরা বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার বাইরে থেকেও পাইকাররা আসছেন সারা দিন।

দাম বেশি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, শীতের পোশাক সারা বছর বিক্রি হয় না। এসময়ে চাহিদা বেশি থাকায় দাম একটু বেশি।

নিউমার্কেটের দ্বিতীয়তলায় ও গাউছিয়ায় পাওয়া যাচ্ছে মেয়েদের হরেক রকমের কার্ডিগান, সোয়েটার ও গ্যাবার্ডিনের লং জ্যাকেট। প্রতিটি সোয়েটারের দাম ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। মেয়েদের কাছে গ্যাবার্ডিনের লং জ্যাকেটের চাহিদা বেশ ভালো বলে জানান কালারস ফ্যাশনের পারভেজ আমিন। একটি মেরুন জ্যাকেট খুবই পছন্দ হয়েছে; কিন্তু দোকানি কিছুতেই দাম কমাতে রাজি নয় বললেন, ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী নায়লা। পরিবারের সবার জন্য শীতের পোশাক কিনতে এসেছেন মেহেদি। দাম কেমন জানতে চাইলে বললেন, ডিজাইনের প্রাচুর্যের সঙ্গে দাম তুলনামূলক অনেক বেশি। পছন্দ হলেও দমে যেতে হচ্ছে দাম শুনে। নূরজাহান মার্কেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র রাব্বি ও ফাহাদ মালিবাগ থেকে এসেছেন সোয়েটার কেনার জন্য। তারা বললেন দোকানিরা দাম ছাড়তেই চাইছেন না।

 
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter