আয়কর আদায় বাড়াতে উৎসে করে নজর

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উৎসে কর আদায়কে গুরুত্ব দিয়ে নতুন কর্মকৌশল প্রণয়ন করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অপেক্ষাকৃত সহজ ও ঝামেলামুক্তভাবে কর আদায়ে এনবিআর ব্যক্তি ও কোম্পানি করদাতাদের আয়ের উৎস থেকেই কর আদায় করতে চাইছে। এ লক্ষ্যে ঈদের পর নতুন কর্মকৌশল প্রণয়ন করা হবে। বর্তমানে আয়করের সিংহভাগ উৎসে কর খাতে আদায় হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, এবারের নতুন কর্মকৌশলে উৎসে কর আদায়কেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। গত বছর উৎসে কর আদায় কার্যক্রম মনিটরিংয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। সে টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানই সঠিকভাবে উৎসে কর আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছে না। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। এ কারণে উৎসে কর আদায় জোরদার করতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। আবার চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা থেকেও উৎসে কর কম আদায় হচ্ছে। উন্নত বিশ্বে যেখানে ২৫-৩০ শতাংশ বেতনভোগীদের কাছ থেকে উৎসে কর আদায় হয়, সেখানে দেশে ৫ শতাংশ আদায় হচ্ছে। এ বছর বেতনভোগীদের কাছ থেকে উৎসে কর আদায় ৭-৮ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালানো হবে। এছাড়া বকেয়া কর আদায় আদালতে চলমান মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে। বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির (এপিএ) আওতায় কর অঞ্চলগুলোকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার মাধ্যমে কর মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্য বেঁধে দেয়া হয়েছে। নতুন কর্মকৌশলে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এখনও কর্মকৌশল প্রণয়নে সবার মতামত নেয়া হচ্ছে। ঈদের পর চূড়ান্ত কর্মকৌশল প্রণয়ন করা হবে।

আয়কর কর্মকর্তাদের মতে, কর আদায় বাড়াতে এনবিআরের তরফ থেকে আইনগত শক্ত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গত দুই অর্থবছরের বাজেটে আয়কর আইনের গৃহীত পদক্ষেপের কারণে টিআইএনধারী এবং ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতার সংখ্যা দুটোই বেড়েছে। যদিও আইন সংস্কার সংক্রান্ত কিছু পদক্ষেপ নিয়ে ব্যবসায়ী মহলের তীব্র আপত্তি ছিল। তারপরও এসব পদক্ষেপ জাদুর মতো কাজ করেছে। এবার মনিটরিং জোরদার করার মাধ্যমে কর ফাঁকি বন্ধ এবং জরিপের মাধ্যমে করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও যারা করের আওতার বাইরে আছে, তাদের করের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হবে।

সূত্র বলছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আয়কর আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ০৫ শতাংশ। নতুন কর্মকৌশলে গৃহীত পদক্ষেপ যথাযথ বাস্তবায়ন হলে প্রবৃদ্ধি আরও ১০ শতাংশ বাড়বে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। এ বিষয়ে এনবিআরের কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বেঁধে দেয়া আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতে নতুন কর্মকৌশল হাতে নেয়া হয়েছে। ঈদের পর সেটি প্রণয়ন করা হবে। নতুন কৌশলে নেয়া গৃহীত পদক্ষেপের সুফল ডিসেম্বর থেকে পাওয়া যাবে। তিনি মনে করেন, গৃহীত কর্মকৌশলের মাধ্যমে আয়কর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।

২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে আয়কর অধ্যাদেশে বেশকিছু সংস্কার আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় শতভাগ সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীকে করের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। যেমন ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবীদের রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করতে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়েছে। অর্থাৎ রিটার্ন দাখিল না করলে কর্মচারীকে দেয়া বেতন কোম্পানির ব্যয়ের পরিবর্তে আয় হিসেবে গণ্য করে তা থেকে কর আদায় করার বিধান যুক্ত করা হয়। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানই কর্মচারীদের রিটার্ন দাখিলে বাধ্য করে। এবার সেটিকে কিছুটা শিথিল করে শুধু কর্মচারীদের রিটার্ন দাখিলের তথ্য আয়কর বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে। আবার সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা হলে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তা না হলে বেতন বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের বড় অংশ করের আওতায় এসেছে।

চলতি অর্থবছরে আয়কর বিভাগে ভুল তথ্য দেয়ার শাস্তি হিসেবে জেল-জরিমানার বিধান রেখে আয়কর আইন সংশোধন করা হয়েছে। অর্থাৎ ভুল-গোঁজামিল তথ্য দিয়ে কর অফিসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে করদাতাকে জেল-জরিমানার মুখে পড়তে হবে। এক্ষেত্রে ৩ বছরের জেল অথবা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এতে আয় গোপন করার প্রবণতা কমবে এবং আয়কর আদায় বাড়বে বলে মনে করছে এনবিআর। আবার নিয়মমাফিক উৎসে করের রিটার্ন দাখিলের তথ্য আয়কর বিভাগকে না জানালে প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে অডিটের আওতায় আনার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter