ক্রেতার আকর্ষণ যেসব জাতের গরুতে

  ইকবাল হোসেন ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এরই মধ্যে সারা দেশে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। স্বাদ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে সবাই চায় সবচেয়ে ভালোমানের পশুটি কোরবানি দিতে। সাধারণত কোরবানির হাটে ক্রেতাদের বেশি চাহিদা থাকে লাল রঙের গরুতে। তবে কালো, সাদা ও ধূসর রঙের গরুর চাহিদাও বেশ। কিন্তু আপনি যে গরুটি ক্রয় করছেন সেটি কোন জাতের তা জানার একটা কৌতূহল অনেকের থাকে। কোরবানির হাটে দেশীয় গরুর মধ্যে ব্রাহমা, শাহীওয়াল, রেড সিন্ধি, লোকাল ক্যাটেল, রেড চিটাগং, হোলস্টাইন ক্রস, মিরকাদিম, পাবনা ক্যাটলসহ বিভিন্ন জাত দেখা যায়। এছাড়া ভারত ও মিয়ানমারের নানা জাতের কিছু সংখ্যক গরু তো রয়েছেই।

মধ্যবিত্তের ভরসা ‘স্থানীয়’ জাতে : লোকাল বা স্থানীয় জাতের গরু দেশের প্রায় সব এলাকায় পাওয়া যায়। দেশে মোট স্থানীয় জাতের গরুর মধ্যে ৮০ শতাংশই এ জাতের। তুলনামূলকভাবে ছোট এ জাতের গরু পরিণত বয়সে গড়ে ১৫০-২৫০ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। দাম সহনীয় পর্যায়ে। কোরবানিতে দামের কারণে মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর পছন্দের শীর্ষে থাকে এ জাতের গরু। গোশতের মান অত্যন্ত চমৎকার। এ জাতের গরুতে অপেক্ষাকৃত বেশি চর্বি থাকে এবং গোশত সুস্বাদু। গায়ের রঙ লাল, ধূসর, সাদা, কালো বা এসব রঙের নানা মাত্রায় মিশ্রণ যে কোনোটিই হতে পারে। এ জাতের গরুর পশম ছোট ও চকচকে। লম্বা লেজ দেখতে অনেকটা চাবুকের মতো।

বেশি মাংস চাইলে কিনুন ‘ব্রাহমা’ : অনেকে মোটাসোটা গরু কোরবানি দিতে পছন্দ করেন। তাদের জন্য ‘ব্রাহমা’ জাতের গরু উপযোগী। এটির মূল উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্রে। বাংলাদেশে এসেছে ভারত থেকে। খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় এটি বেশি উৎপাদিত হয়। দেশীয় জাতের গরু দৈহিক ওজন প্রতিদিন ২০০-৩০০ গ্রাম বৃদ্ধি পেলেও ব্রাহমা জাতের গরুর ওজন বাড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ গ্রাম। এ জাতের গরু হালকা ধূসর, লাল ও কালো রংয়ের হয়। পরিণত বয়সে প্রতিটি গরুর ওজন গড়ে ৫০০-৭০০ কেজি হয়।

পাবনা ক্যাটলের চাহিদা বেশ : এ ধরনের গরু পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বেশি পাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও বগুড়াতে এ জাতের গরু আছে। এসব অঞ্চলে কোরবানির হাটে এ গরুর চাহিদা বেশ। এ জাতটিকে একেবারে দেশি বলা যায় না। মূলত হরিয়ানা ও শাহীওয়াল প্রজাতির ষাঁড়ের সঙ্গে বাছাই করা কিছু জাতের গাইয়ের প্রজনন ঘটানোর মাধ্যমে জাতটির উন্নয়ন করা হয়। পাবনা ক্যাটল মূলত দুগ্ধ উৎপাদনের জন্য বেশ উপযোগী। তবে এটি থেকে বেশ ভালো পরিমাণ মাংসও পাওয়া যায়। পরিণত বয়সে এ জাতের প্রতিটি গরুর গড় ওজন ২৫০-৪০০ কেজি। এটির গায়ের রঙ সাধারণত লাল, ধূসর বা মিশ্রবর্ণের হয়ে থাকে।

ঢাকাইয়াদের পছন্দের শীর্ষে মিরকাদিমের ধবল গাই : কোরবানিতে পুরান ঢাকাবাসীর পছন্দের শীর্ষে থাকে ‘মিরকাদিমের ধবল গাই’। শত বছর ধরে এ গরু জোগান দিচ্ছে মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিমের খামারিরা। সাদা রঙের বিশেষ জাতের গরুগুলো লালনপালন করা হয় মূলত কোরবানির ঈদে চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই। মোটা, গায়ের রঙ ধবধবে সাদা, আর আকর্ষণীয় শিংগুলো খাড়া, চোখ কাজল কালো আর তুলতুলে শরীর। ভারতের উড়িষ্যার জঙ্গলি, নেপালের নেপালি, ভুটানের বুট্টি গরু কিনে মিরকাদিমে লালনপালন করে কোরবানি ঈদে বিক্রি করার জন্য। এ ধরনের গরুর বাহ্যিক অবয়ব খুব তেলতেলে ও গোলাকৃতির হয়। মাংস মোলায়েম ও সুস্বাদু। এ জাতের গরুতে প্রচুর চর্বি হয়। আর চর্বিযুক্ত গরুর গোশত পুরান ঢাকাবাসীর বড়ই পছন্দ।

বাজারের হিরো, চাঁটগাইয়া লাল গরু : গায়ের রং লাল। খাটো পা। আকারে ছোট। ওজন তিন থেকে সর্বোচ্চ দশ মণ। চট্টগ্রাম অঞ্চলে উৎপত্তি ও বিস্তার লাভ করায় এটি ‘চাঁটগাইয়া গরু’ নামে পরিচিত। রেড চিটাগং ক্যাটল বা সুন্দরী গরুও বলা হয়। গরুর দেশি জাতগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের লাল গরু তুলনামূলক উন্নত। দুধ ও মাংস উৎপাদনের পাশাপাশি চাষাবাদের জন্য এ জাতের গরুর বেশ উপযোগিতা রয়েছে। এ ধরনের গরুর দুধ ও মাংস বেশ সুস্বাদু। চট্টগ্রাম তো বটেই, অন্য জেলার বাসিন্দাদের কাছেও এ গরুর বেশ চাহিদা রয়েছে। দাম হাতের নাগালে। তাই কোরবানির বাজারে এ জাতের গরুর চাহিদা থাকে বেশি।

শাহীওয়ালে ক্রেতাদের নজর : পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের শাহীওয়াল জেলায় এ জাতের গরুর আদিবাস। উৎপত্তি পাকিস্তানে হলেও বাংলাদেশ, ভারতসহ অনেক দেশে এ জাতটির বিস্তার রয়েছে। ধীর ও শান্ত প্রকৃতির, ভারি দেহ, ত্বক পাতলা ও শিথি। পা ছোট, শিং ছোট ও পুর, এ জাতের গাভীর শিং নড়ে, মাথা চওড়া। লেজ বেশ লম্বা, প্রায় মাটি ছুঁয়ে যায়, লেজের গোড়ায় দর্শনীয় একগোছা কালো লোম থাকে। কোরবানির হাটে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এ জাতের গরু। পরিণত বয়সে এ জাতের প্রতিটি গরুর ওজন ৩৫০-৪৫০ কেজি পর্যন্ত হয়। মাংস মোলায়েম ও সুস্বাদু।

রেড সিন্ধির কদর : এ ধরনের গরু মূল উৎপত্তি করাচি ও হায়দরাবাদ। তবে পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডে এটি পাওয়া যায়। এ জাতের গরু মাঝারি দৈর্ঘ্য ও দৃঢ় দেহ। শিং মোটা ও পাশাপাশি অবস্থিত। শিং এর শেষপ্রান্ত ভোঁতা। গায়ের রং গাঢ় বাদামি বর্ণের মাঝে গাঢ় লাল বা হলুদ বর্ণ দেখা যায়। পরিণত বয়সে প্রতিটি গরুর ওজন ৩৫০-৪৫০ কেজি। কোরবানির হাটে এ জাতের গরুর বেশ কদর রয়েছে।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter