চামড়ায় মূল্য বিপর্যয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা দায়ী : মো. শাকাওয়াত উল্লাহ

ট্যানারি শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) জেনারেল সেক্রেটারি মো. শাকাওয়াত উল্লাহ বলেন, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কিছু কিছু জায়গায় অনেক কম দাম দিয়ে চামড়া কিনেছে। এর দায়ভার এসে পড়েছে ট্যানারি মালিকদের ওপর। বলা হচ্ছে ট্যানারি মালিকরা অনেক কম দামে চামড়া ক্রয় করছেন। কিন্তু ট্যানারির মালিকরা এখন পর্যন্ত চামড়া কেনা শুরু করেননি। এ অবস্থা সৃষ্টির জন্য দায়ী মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এর দায় ট্যানারির মালিকরা নেবে না।

তিনি বলেন, ট্যানারি মালিকরা প্রত্যাশা করেনি বেঁধে দেয়া মূল্য থেকে কম দামে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কেনাকাটা করুক। একদিকে তারা কম দামে কিনেছে। আবার এসব চামড়া দেরিতে বিক্রি করতে গিয়ে নষ্ট করে ফেলছে। এজন্য লোকসানেরও মুখেও পড়েছে। সেজন্য ট্যানারির মালিকদের দুষছেন তারা।

আড়ত মালিকরা ট্যানারি মালিকদের বেঁধে দেয়া দামে চামড়া বিক্রিতে রাজি হচ্ছেন না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি ঠিক নয়। কারণ পাইকাররা ঈদ ছাড়া সারা বছর ট্যানারিতে চামড়া বিক্রি করে থাকেন। আমাদের সঙ্গে তারা সারা বছর কাজ করছেন। ওই সময় তাদের কোনো মূল্য দেয়া হয় না।

ওরা জানে চামড়ার মূল্য। কোরবানির সময় মূল্য ঘোষণা পাইকারদের উদ্দেশে দেয়া হয় না। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সহজে কেনাকাটা করতে পারে এ জন্য মূল্য বেঁধে দেয়া হয়। চলতি সপ্তাহ থেকে শুরু করে পরবর্তী দু’মাস পর্যন্ত লবণযুক্ত চামড়া কেনাকাটা করবে ট্যানারির মালিকরা।

প্রচুর চামড়া পচে গেছে : টিপু সুলতান

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান বলেন, ট্যানারির মালিকদের বেঁধে দেয়া মূল্যে চামড়া বিক্রি সম্ভব নয়। কারণ আমাদের ক্রয় মূল্যের সঙ্গে বাড়তি ২০০ টাকা বেশি ব্যয় হবে প্রতিটি চামড়ার পেছনে। মূলত লবণ, গুদাম ও শ্রমিক, আড়তধারী মিলে এ ব্যয় হবে। এছাড়া একজন পাইকার কাঁচা চামড়া কিনতে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে তা কমপক্ষে দেড় থেকে দু’মাস পড়ে থাকে। এরও একটি মুনাফা থাকতে হবে।

লক্ষ্যমাত্রা পূরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোরবানির ঈদে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। তবে আড়তদারদের প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা আছে ট্যানারির মালিকদের কাছে। এ টাকা ঈদের আগে পরিশোধ করা হলে তারল্য সংকট অনেকটা কেটে যেত। এ বছর আড়তদার ও পাইকারদের কাছে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় জেলা শহরের অনেক চামড়া ক্রয় করতে পারেনি। আর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে না পেরে ঢাকা চলে আসেন। চামড়া কেনা এবং ঢাকা আসা যাওয়ায় বিলম্বের কারণে পথে এ বছর প্রচুর চামড়া পচে গেছে। তার মতে, কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ চামড়া এভাবে নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, এ বছর গরমও ছিল। কাঁচা চামড়া সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টার মধ্যে কেনাবেচা করতে হয়। না হলে সেটি পচে যায়। সেক্ষেত্রে তাই হয়েছে।

চামড়া পাচার হয়। তবে কোস্টগার্ড যথেষ্ট সক্রিয় আছে। আমরা মনে করি সীমান্ত এলাকার ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো চামড়ার গাড়ি যাবে না।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter