শহরে পুরুষ আয়নির্ভর পরিবার কমছে

  হামিদ-উজ-জামান ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শহরে পুরুষ আয়নির্ভর পরিবার কমছে

জেসমিন বেগম। বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলা শহরের বেলগছা ইউনিয়নে। বিয়ে হয়েছিল পার্শ্ববর্তী গ্রামের শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি চাকরি করতেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে।

বিয়ের এক বছর পার না হতেই আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকে মারা যান শহিদুল। ততদিনে এক সন্তানের মা হয়েছেন জেসমিন। এ অবস্থায় কী করবেন বুঝে উঠতে পরছিলেন না। শ্বশুরবাড়ির লোকজনও আগের মতো আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না। এ অবস্থায় নিজেই সংসারের হাল ধরার সংকল্প করেন তিনি।

নতুন করে আর বিয়ে না করেই চাকরি নেন একটি মাদ্রাসায় অফিস সহকারী হিসেবে। বর্তমানে এক ছেলে নিয়ে তার সংসার। নিজের আয়ের টাকাতেই চলছে মা-ছেলের দিন।

ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন জেসমিন। বাবা ও শ্বশুরবাড়িসহ কারও মুখাপেক্ষী নন তিনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক শ্রমশক্তি জরিপেরও উঠে এসেছে এরকম চিত্র। এভাবে দেশের শহরগুলোতে পুরুষ আয়নির্ভর পরিবারের সংখ্যা কমছে। এর মাধ্যমে পরিবারে নারীর ক্ষমতায়নের প্রতিফলন ঘটছে বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত লেবার ফোর্স সার্ভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্বিকভাবেই কমছে পুরুষপ্রধান পরিবারের সংখ্যা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের হিসাব থেকে তৈরি করা এ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ অর্থবছরে পুরুষপ্রধান পরিবারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ৮ শতাংশে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পুরুষপ্রধান পরিবারের সংখ্যা ছিল ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

এ ক্ষেত্রে এক বছরের ব্যবধানে পুরুষপ্রধান পরিবার কমেছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। তবে সার্বিকভাবে পুরুষপ্রধান পরিবারের সংখ্যা কমলেও শহরের তুলনায় গ্রামে পুরুষপ্রধান পরিবারের সংখ্যা বেশি।

অর্থাৎ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শহরের পরিবারগুলোর মধ্যে পুরুষপ্রধান পরিবারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ দশমিক ৯ শতাংশ। গ্রামে এ হার দাঁড়িয়েছে ৮৬ দশমিক ২ শতাংশ।

তবে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী শহরের পরিবারগুলোর মধ্যে পুরুষপ্রধান পরিবারের সংখ্যা ছিল ৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ আর গ্রামে ছিল ৮৬ দশমিক ৮ শতাংশ। এতে দেখা গেছে শহরে পুরুষের আয়নির্ভর পরিবারের সংখ্যা কমছে।

এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক সময় পরিবারপ্রধান বলতে পুরুষকেই বোঝাত। অর্থাৎ পিতাই ছিল পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে আয়ের প্রধান উৎস। কিন্তু আর্থ-সামাজিক অবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। পুরুষতান্ত্রিক পরিবারের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসছে পরিবারগুলো।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে নারী শিক্ষায় অগ্রগতি, সচেতনতা, কর্মে নারীর প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবারের বিনা পয়সার কাজ থেকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অন্তর্ভুক্তি ইত্যাদি কারণে নারীরা বিপদে-আপদে পরিবারের হাল ধরছেন এবং তা শক্ত হাতেই পরিচালনা করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এর একটি অন্যতম কারণ হতে পারে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে নারীরা এখন আয় করছে। পরিবারকে সহায়তা করতে পারছে। এ ছাড়া বর্তমানে বিদেশ যাওয়ার হার বেড়েছে। বিশেষ করে যখন জরিপটি করা হয়েছিল সেই সময় প্রচুর মানুষ বিদেশে গেছে। যেসব পরিবারের পুরুষ সদস্য বিদেশে যায় বেশিরভাগ সময়ই সেসব পরিবারের প্রধান হন মহিলারা।

জরিপকারীরা হয়তো তাদেরও ধরেছে। নারীরা বিভিন্ন চাকরির পাশাপাশি নিজেরাও উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন। ফলে পরিবারে তাদের গুরুত্ব বেড়ে যাচ্ছে।

এক সময় হয়তো পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্তই তারা নিয়ে থাকেন। এ ছাড়া এখন বিবাহবিচ্ছেদ অনেক বেড়ে গেছে। যেসব মহিলা বিচ্ছেদের শিকার হন তারা হয়তো পরে পরিবারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সূত্র জানায়, একদিকে যেমন পুরুষপ্রধান পরিবার কমছে, অন্যদিকে বিপরীত চিত্র হিসেবে দিন দিন বাড়ছে নারীপ্রধান পরিবারের সংখ্যা।

বিবিএস বলছে, লেবার ফোর্স সার্ভে-২০১৬-১৭ তথ্য অনুযায়ী, যখন জরিপটি পরিচালনা করা হয়, তখন মহিলাপ্রধান পরিবারের সংখ্যা ছিল ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। তার আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জরিপে দেখা গেছে এ হার ছিল ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মহিলাপ্রধান পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter