প্রত্যন্ত অঞ্চলেও জমজমাট এজেন্ট ব্যাংকিং

  হামিদ বিশ্বাস ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মোতালেব সরকারের বাড়ি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নে। সেখানে তিনি ব্যবসা করেন। পর্যটন সমৃদ্ধ এলাকা বলে প্রায় সময়ই টুরিস্টে ভরপুর। যে কারণে তার বেচাকেনাও ভালো হয়। দিনশেষে প্রচুর টাকা নগদ জমা হয়। পরদিন পণ্য কেনারও চাপ থাকে। কিন্তু নিঝুম দ্বীপে কোনো ব্যাংকের শাখা নেই। তাই বলে মোতালেবের কোনো দুশ্চিন্তাও নেই। কেননা আছে এজেন্ট ব্যাংকিং, যা ছোট পরিসরে ব্যাংকের সব সেবাই দিয়ে থাকে। ফলে তিনি এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ার পাইকারের কাছে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। বিনিময়ে পাইকার তার ঠিকানায় পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন। এ রকম প্রত্যন্ত অঞ্চলে যারা বাস করেন তারা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ছোট পরিসরে ব্যাংকিং সেবা পেয়ে যাচ্ছেন।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হিসাব খোলা, টাকা জমা দেয়া, টাকা তোলা, সঞ্চয়ী হিসাবে টাকা জমা করা, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের অর্থ গ্রাহকের হিসাবে পৌঁছে দেয়া, ঋণের টাকা তোলা, ঋণের কিস্তি জমা দেয়া, ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ ব্যবহার করে লেনদেন করা, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ফি জমা দেয়া, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করার সেবা পাওয়া যায়। এসব সেবার মাধ্যমে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে যাচ্ছে ব্যাংকিং সেবা। এর বিপরীতে চার্জ বা ফি’র পরিমাণ খুবই কম। যে কারণে গ্রাহকদের খরচও কম। এই ব্যাংকিং ব্যবস্থা আরও জনপ্রিয় করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বহুমুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর আওতায় আরও ব্যাংককে এজেন্ট ব্যাংকিং করার লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। এজেন্ট ও আউটলেটের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। সব মিলে এর ফলে গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, যেসব এলাকায় ব্যাংকের শাখা খোলা সম্ভব হয়নি সেসব এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিং জনপ্রিয় হচ্ছে। কারণ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে খরচ কম, লাভ বেশি। আর গ্রাহকরা এর মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৪ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু হয়। গত চার বছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ জনে। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে রেমিটেন্স বিতরণ করছে ১৫টি ব্যাংক ৩ হাজার ৫১৪ কোটি ২২ লাখ টাকার রেমিটেন্সের অর্থ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে বিতরণকৃত রেমিটেন্সের পরিমাণ তিন হাজার ১৪৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিটেন্স আহরণের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৬৭৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। রেমিটেন্স বিতরণের শীর্ষে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। এছাড়া রেমিটেন্স বিতরণের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শীর্ষ স্থানে ব্যাংক এশিয়া ও আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবুল বশর বলেন, ব্যাংকের শাখার মতোই এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটগুলো তুলনামূলক সহজ পদ্ধতিতে ও দ্রুততম সময়ে সেবা দিচ্ছে। সাধারণ ব্যাংকিংয়ের মতো তাদের মোবাইলে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য যাচ্ছে। ফলে তাদের বিশ্বাস বাড়ছে। এতে এ ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকদের তেমন খরচ নেই। এ জন্য এজেন্ট ব্যাংকিং দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

সূত্র জানায়, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের আওতায় ব্যাংকিং সেবাকে সাশ্রয়ী খরচে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ২০টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন নিয়েছে। এর মধ্যে কার্যক্রম শুরু করে ১৭টি ব্যাংক। এগুলো হচ্ছে, ডাচ্-বাংলা, ব্যাংক এশিয়া, আল আরাফাহ, সোস্যাল ইসলামী, মধুমতি, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট, এনআরবি কমার্শিয়াল, স্ট্যান্ডার্ড, অগ্রণী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, মিডল্যান্ড, দি সিটি, ইসলামী, প্রিমিয়ার, ইউসিবি, এবি ও এনআরবি ব্যাংক। এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাব খোলা হয়েছে ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০টি। ১৭টি ব্যাংক ৩ হাজার ৫৮৮টি এজেন্ট নিয়োগ করেছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৭৭টিই গ্রামে। এজেন্টের অধীনে আউটলেট রয়েছে ৫ হাজার ৩৫১টি। অর্থাৎ ৮ হাজার ৯৩৯টি পয়েন্ট থেকে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করা যাচ্ছে। এসব এজেন্ট পয়েন্টে খোলা হিসাবগুলোয় গ্রাহকরা ২ হাজার ১২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আমানত রেখেছেন। প্রতি অ্যাকাউন্টে গড়ে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ ১১ হাজার ৩২৪ টাকা। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণের অর্থও বিতরণ করা হচ্ছে। এর পরিমাণ ১৩৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১২৯ কোটি টাকা দিয়েছে ব্যাংক এশিয়া, যা মোট ঋণের প্রায় ৯৫ শতাংশ। তবে ১৭টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করলেও এর মাধ্যমে ঋণ দিচ্ছে মাত্র ৬টি ব্যাংক।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter