তিন সপ্তাহে ডিম থেকে মুরগির বাচ্চা

হ্যাচার মেশিনে সপ্তাহে ৫ লাখের বেশি বাচ্চা উৎপাদন

  ইয়াসিন রহমান, রংপুর থেকে ফিরে ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য তিন সপ্তাহ বা ২১ দিনে ডিম থেকে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। মাত্র নয়টি ধাপ পার করেই আধুনিক পদ্ধতিতে বাচ্চা উৎপাদন হচ্ছে। পরে তা পাঠিয়ে দেয়া হয় বিক্রির জন্য। সংশ্লিষ্টরা বলেন, রোগ ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত মুরগির বাচ্চা একটি খামারের আয়ের উৎস বাড়িয়ে দেয়।

সরেজমিন রংপুরের বিভিন্ন মুরগির হ্যাচারি ঘুরে ও কৃষিবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাত্র ২১ দিনের মাথায় একটি ডিম থেকে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করা যায়। এজন্য প্রতিটি ডিমটিকে কয়েকটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আনা হয়। প্রথমে ডিম নির্বাচন করতে হয় খামার থেকে। যেখান থেকে ডিমগুলো নির্বাচন করা হয় ঠিক সেখান থেকেই এগুলো ভালোভাবে ধুয়ে-মুছে নিতে হয়। যাতে ডিমে কোনো ধরনের বিষ্ঠা বা ময়লা-আবর্জনা না লাগে। পরে এগুলো হ্যাচারিতে আনা হয়। এরপর ডিমগুলোকে গ্রহণ করে বাছাই করা হয়। যাতে কোনো ধরনের ভাঙা ডিম না থাকে। এরপর পাঠানো হয় হিমঘরে। সেখানে এ ডিম ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয়। পরে তাপমাত্রা স্বাভাবিক করার জন্য প্রি-হিটিং রুমে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয়। এরপর আনা হয় ডিম ফিউমিগ্রেশনে।

সেখানে পটাশ ও ফরমালিন একত্র করে ধোয়া তৈরি করে ডিমের উপরিভাগ ব্যাকটেরিয়া নাশক করা হয়। এরপর সেটার মেশিনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১৮ দিন ৯৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় রাখা হয়। ১৮তম দিনে ডিমগুলো ক্যান্ডেলিং করা হয়। সেখানে আলোর মধ্যে রেখে দেখা হয় ডিমে বাচ্চার অবয়ব দেখা যায় কিনা। না দেখা গেলে সেখান থেকে ডিমগুলো বাদ দেয়া হয়। এরপর সেখান থেকে নেয়া হয় হ্যাচার মেশিনে। ডিমগুলোকে ৯৮ থেকে ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় রাখা হয় তিন দিন। ২১ দিনের মাথায় মুরগির বাচ্চাগুলো ডিম থেকে বের হয়ে আসে। সেখান থেকে ব্রয়লারের বাচ্চাগুলোকে নেয়া হয় বাছাই করার জন্য। বাছাইয়ের সময় এ, বি ও সি গ্রেডে ভাগ করা হয়। এ ও বি গ্রেড আলাদা করে প্যাকিং করা হয়। পরে পাঠিয়ে দেয়া হয় বাজারজাত করার জন্য। আর সি গ্রেডের বাচ্চা বিজ্ঞানসম্মতভাবে ফেলে দেয়া হয়।

জানতে চাইলে রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় নারিশ এগ্রোর হ্যাচারি ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. হাসানুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, দেশের অনেক স্থানে এখন উন্নতমানের ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করা হচ্ছে। কারণ পোল্ট্রি শিল্প অনেক স্পর্শকাতর। খামারে যদি একটি রোগাক্রান্ত মুরগি থাকে তবে পুরো খামারের মুরগি আক্রান্ত হয়। একটা সময় পুরো খামার শেষ হয়ে যায়। ফলে খামারিদের পড়তে হয় আর্থিক ক্ষতির মুখে।

রংপুরের বিভিন্ন হ্যাচারি ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হ্যাচার মেশিনে সপ্তাহে ৫ লাখ ৬ হাজার ৮৮০টি ডিম মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের জন্য তৈরি করা যায়। এছাড়া মেশিনের আকারভেদে এ সংখ্যা কম বা বেশি হতে পারে।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter